স্কুল সার্ভিস কমিশনের ফলাফলে খুশি নন যোগ্যরা, নজরে এবার নবম-দশম
শুক্রবার রাত 9টার পর কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ পায় ফল। কিন্তু ফলাফল প্রকাশ হলেও খুশি নন বহু যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা।

Published : November 8, 2025 at 8:52 PM IST
কলকাতা, 8 নভেম্বর: একাধিক জটিলতার পর অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল। শুক্রবার রাত 9টার পর কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ পায় ফল। কিন্তু ফলাফল প্রকাশ হলেও খুশি নন বহু যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা। তাঁদের দাবি, 60 নম্বরের মধ্যে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম নম্বর পেয়েছেন তাঁরা। ফলে ইন্টারভিউ তালিকায় নাম ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন অধিকাংশ পরীক্ষার্থী। এখন তাঁদের ভরসা নবম-দশম শ্রেণির নিয়োগের ফলাফল।
শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম মুখ সুমন বিশ্বাস জানান, আন্দোলন, স্কুলের কাজ ও পুলিশের হয়রানির মধ্যে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরীক্ষার আগের দিন ও পরের দিনও স্কুলে যেতে হয়েছে বলে দাবি তাঁর। ফলাফল নিয়ে তাই হতাশ সুমন। একইভাবে ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষার্থী চিন্ময় মণ্ডল বলেন, “ভরসা এখন নবম-দশম। তবে একাদশ দ্বাদশ শরীর পরীক্ষা আমার ভালো হয়নি। "
অন্যদিকে যারা শুধুমাত্র একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে। শিক্ষক সত্যব্রত জানা বলেন, “নতুনদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সম্ভব নয়। এডুকেশনের এবারের প্রশ্নপত্রও ছিল যথেষ্ট কঠিন। বুঝতে পারছি না কী হবে।”
ফল প্রকাশের পাশাপাশি কমিশনের তরফে ফাইনাল ‘আনসার কি’ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও ভুলের অভিযোগ তুলেছেন বহু পরীক্ষার্থী। তাঁদের দাবি, ভূগোল, বাংলা ও পরিবেশবিদ্যা— এই বিষয়গুলিতে একাধিক ভুল উত্তর রয়েছে। বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার্থী বৃন্দাবন ঘোষ বলেন, “যে নম্বর আশা করেছিলাম, তার চেয়ে কম পেয়েছি। আনসার কিতেও ভুল আছে।”
যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের মুখ মেহবুব মণ্ডল বলেন, “যাঁরা নিরাপদ থেকেও আবার পরীক্ষা দিয়েছেন, তাঁদের প্রস্তুতির সময় ছিল না। এবার যারা পাঁচ বছর ধরে যোগ্য থেকেও ডাক পাবে না, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।”
এদিকে ফল প্রকাশের পর বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী লগইন করায় এসএসসির ওয়েবসাইটে দেখা দেয় প্রযুক্তিগত সমস্যা। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একসঙ্গে অনেকেই চেষ্টা করায় সার্ভার ডাউন হয়ে যায়। পরে নতুন ওয়েবসাইট চালু করা হলেও অনেক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করছেন, সেখানে ফলাফল দেখতে দেরি হচ্ছে বা ওয়েবসাইটই খুলছে না।

