ETV Bharat / state

পুলিশি হেফাজতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের রহস‍্যমৃত‍্যু গোয়ায় !

পরিবারের দাবি, পুলিশের অত্যাচারেই প্রাণ গিয়েছে দেবানন্দর ৷ ঘটনার সুবিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে মৃতের পরিবার ৷

migrant labour mysterious death
সাত দিন পর কফিনবন্দি দেহ ফিরল হাসনাবাদে (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 3, 2026 at 7:12 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

হাসনাবাদ, 3 জানুয়ারি: ভিন রাজ‍্যে কাজে গিয়ে ফের বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু ! এবার ঘটনাস্থল বিজেপি শাসিত গোয়া। এক্ষেত্রে অভিযোগ আরও গুরুতর ! পরিবারের দাবি, পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন মারধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে হাসনাবাদের বাসিন্দা দেবানন্দ সানার। বিচার চেয়ে রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার।

শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার রাতে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দেন বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূলের চিকিৎসক বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়। নিহত দেবানন্দ সানার মা ও দিদির সঙ্গে বলে আর্থিক সাহায্যেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিধায়ক।

দেবানন্দর বাড়ি গেলেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক (ইটিভি ভারত)

মৃত্যুর সাত দিন পর রাজ‍্য প্রশাসনের সহযোগিতায় তাঁর কফিনবন্দি দেহ ফেরে হাসনাবাদে গ্রামের বাড়িতে। শুক্রবার বিকেলে মৃত শ্রমিকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। বসিরহাট জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, "এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃতের পরিবারের তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। কীভাবে ওই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হল তা জানতে গোয়া পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।"

দেবানন্দ উত্তর 24 পরগনার হাসনাবাদের রামকৃষ্ণ পল্লীর বাসিন্দা। বাড়িতে তাঁর মা, অসুস্থ বাবা এবং এক অবিবাহিত দিদি রয়েছেন। দেবানন্দর রোজগারেই চলত সংসার। প্রায় 15 বছর আগে তিনি গোয়ায় যান ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করতে। সেখানকার একটি বেসরকারি কোম্পানির হয়ে কাজ করতেন দেবানন্দ। থাকতেন ভাস্কো দা গামা এলাকায়।

সহকর্মীদের থেকে পরিবারের সদস্য়রা জানতে পেরেছেন, গত 23 ডিসেম্বর কর্মরত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় থানার পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। কী কারণে যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়া হল তাও নাকি পুলিশের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়, কোনও একটি ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে বাংলার ওই শ্রমিককে আটক করা হচ্ছে। পুলিশের ভূমিকায় কার্যত হতবাক হয়ে যান তাঁরা। পরে তাঁকে মুক্তির আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল পুুলিশের তরফে। অভিযোগ, তার পরেও থানা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়নি তাঁকে। তারই মধ্যে গত 24 ডিসেম্বর গোয়া পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন যুবক। সেদিন তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসারত অবস্থায় সেখানে গত 26 ডিসেম্বর অথ‍্যাৎ শুক্রবার মারা যান তিনি।

মৃতের পরিবারের প্রশ্ন, একজন সুস্থ ব‍্যক্তিকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেল ! তারপর কীভাবে হেফাজতে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হতে পারে ? আর এখানেই সন্দেহ জেগেছে নিহতের পরিবারের মধ্যে। তাদের দাবি, হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশ দেবানন্দকে মারধর করে থাকতে পারে। তা না-হলে তিনি এমনি এমনি সে অসুস্থ হয়ে পড়বে কেন ! এমতাবস্থায় মৃত্যুর সঠিক বিচার চেয়ে সরব হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

এই বিষয়ে নিহতের মা কমলা সানা বলেন, "ছেলে গোয়ায় মিস্ত্রির কাজ করত। কেন পুলিশ ও'কে ধরে নিয়ে গেল সেটা এখনও আমরা বুঝতে পারছি না। তবে যেটুকু শুনেছি কোনও একটি বহুতলের ছাদে ওঠার সন্দেহে ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দেবানন্দ এমনি এমনি অসুস্থ হতে পারে না। আমার ছেলে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। আমাদের বিশ্বাস ও'র মৃত্যুর নেপথ‍্যে পুলিশের কোনও না কোনও ভূমিকা রয়েছে। কারণ অসুস্থ হওয়ার পর ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশই। কীভাবে আমার ছেলের মৃত্যু হল তার তদন্ত চাই।" এদিকে, দেবানন্দর মৃত্যুর খবর পেয়ে গোয়া থেকে দেহ আনতে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। সেই মতো প্রশাসনের সহযোগিতায় মৃত্যুর সাত দিন পর মৃত দেবানন্দের কফিনবন্দি দেহ গোয়া থেকে ফেরে এ রাজ‍্যে। এরপর শুক্রবার বিকেলে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ।