'বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি', ইডি তল্লাশিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে মন্তব্য রাজ্যপালের
ইডি অভিযানে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ মোটেই পছন্দ করেননি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি৷ সমালোচনায় সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালও৷

Published : January 8, 2026 at 10:26 PM IST
মধ্যমগ্রাম (উত্তর 24 পরগনা): আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি ও সল্টলেকের দফতরে ইডি হানা নিয়ে দিনভর তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি৷ ইডির তল্লাশির কথা জানতে পেরেই দু'জায়গায় পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়৷ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, ইডির বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ এনে সরব হন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান৷ সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তীব্র সমালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধেও আক্রমণ শানাতে ভোলেননি তিনি৷
ইডি অভিযানের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে যাওয়া মোটেই পছন্দ করেননি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি৷ এ নিয়ে বিশেষত যখন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব গেরুয়া শিবির, তখনই এই ইস্যুতে মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস৷ বললেন, "আমাদের চারপাশে যা হচ্ছে তাতে আমি একটা কথায় বলতে পারি, তা হল 'বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি'! "রাজ্যপালের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ৷
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর 24 পরগনার মধ্যমগ্রামে বিবেক মেলায় যোগ দেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল৷ সেখানে পৌঁছে প্রথমেই তিনি বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে প্রণাম করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁর প্রতি৷ এরপর, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে বরণ করে নেন মেলার উদ্যোক্তারা৷ মঞ্চে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতেও অংশ নেন তিনি৷ বেশ কিছুক্ষণ সেখানে কাটান রাজ্যপাল৷ তার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কলকাতায় আইপ্যাকের দফতর ও কর্ণধারের বাড়িতে ইডি হানা, তারপর মুখ্যমন্ত্রীর তাতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, "বিষয়টি যেহেতু হাইকোর্টে বিচারাধীন৷ তাই, রাজ্যপাল হিসেবে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা এখনই উচিত হবে না৷ আমি হাইকোর্ট নয়৷ এ নিয়ে হাইকোর্টই যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা নেবে৷ "আইন আইনের পথে চলবে বলেও এদিন মন্তব্য করেছেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান৷

এর পরেই গোটা ঘটনা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস৷ তাঁর কথায়, "প্রতিনিয়ত আমাদের আশপাশে যে সমস্ত ঘটনা দেখতে পাচ্ছি৷ তাতে একটা ব্যাখায় দাঁড়ায়, 'বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি'! "তবে, এই বিষয়ে আর কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি রাজ্যপাল৷
প্রসঙ্গত, আইপ্যাক বর্তমানে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা৷ সেই আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশির খবর শুনেই সেখানে সকালে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাও৷ কয়েক মিনিট পরেই সেখান থেকে একটি সবুজ রঙের ফাইল হাতে নিয়ে বের হতে দেখা যায় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে৷ যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ইডি আমার আইটি সেক্টর অফিস এবং আইটি সেক্টর ইনচার্জের বাড়িতে হানা দিয়ে দলের সমস্ত হার্ড ডিস্ক নিয়ে যেতে চাইছে! প্রার্থী তালিকা, পার্টির স্ট্র্যাটেজি ও পার্টির প্ল্যান নিয়ে যেতে চাইছিল৷ এটাই কী ইডি, অমিত শাহের কাজ?"ফাইলের সঙ্গে তিনি হার্ড ডিস্কও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী৷
এরপর প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মমতা সোজা চলে যান সল্টলেকে আইপ্যাক-এর দফতরে৷ সেখানেও দফতর থেকে বেশ কিছু ফাইল এবং নথিপত্র তোলা হয় মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে৷ নিচে নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর আবার মমতা বন্দোপাধ্যায় আইপ্যাক-এর দফতরে উঠে যান৷ সল্টলেকের দফতরে সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈন পৌঁছনোর পর আইপ্যাক-এর দফতর ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী৷ ততক্ষণে ইডি ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আইনানুগ যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে!

