রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, SIR-এর সময় মৃত 56 জনের পরিবারকে চাকরি
বৃহস্পতিবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হয়েছে৷ সব মিলিয়ে মোট 61টি পরিবারকে সরকারি চাকরির এই সুবিধা প্রদান করা হবে।

Published : February 26, 2026 at 9:42 PM IST
কলকাতা, 26 ফেব্রুয়ারি: এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া চলাকালীন দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রাণ হারানো 56 জন ব্যক্তির শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে এসে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। মৃতদের পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। বৃহস্পতিবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
শুধুমাত্র এসআইআর-এর কাজে মৃতরাই নন, পাশাপাশি নাগরিক অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন এমন পাঁচজন ব্যক্তির পরিবারের একজন সদস্যকেও ক্ষতিপূরণ হিসাবে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সব মিলিয়ে মোট 61টি পরিবারকে সরকারি চাকরির এই সুবিধা প্রদান করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী বা এসআইআর-এর প্রবল কাজের চাপ এবং সেই সঙ্ক্রান্ত নানা জটিলতায় বেশ কয়েকজন কর্মীর মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর সামনে আসে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও এর আগে এই কাজের কারণে প্রাণহানির বিষয়টিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যকে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও তীব্র আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে পড়া পরিবারগুলির জন্য রাজ্য মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত এক বড় স্বস্তির খবর।
নবান্ন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য সরকারি নিয়মাবলী যাচাইয়ের পর এই 61 জন নিকট আত্মীয়কে রাজ্য পুলিশের হোম গার্ড পদে নিয়োগ করা হবে। স্বরাষ্ট্র দফতরের অধীনে এই পদগুলিতে যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার এবং দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যে 61টি পরিবারকে এই চাকরির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তারা রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সুবিধাভোগীদের তালিকায় রয়েছে পুরুলিয়া, উত্তর 24 পরগনা, দক্ষিণ 24 পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া এবং বীরভূম জেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি। এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদা এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সঙ্গে নদিয়া জেলার পরিবারগুলিকেও এই সরকারি নির্দেশিকার আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
এই গোটা প্রক্রিয়ায় যাতে কোনওরকম আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি না হয়, তার জন্য প্রতিটি জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। দ্রুত নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগের কাজ সম্পন্ন হবে।

