'ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দেব', মঙ্গলে বারুইপুর যাওয়ার আগে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
সোমবার মিত্র ইনস্টিটিউটে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বারুইপুর কাণ্ড নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ দেন।

Published : July 6, 2026 at 2:01 PM IST
কলকাতা, 6 জুলাই: বারুইপুরের মর্মান্তিক নাবালিকা খুনের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসন যে কড়া হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে, তা স্পষ্ট করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মিত্র ইনস্টিটিউটে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বারুইপুর কাণ্ড নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বারুইপুরের ঘটনায় তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা 'সিট' গঠন করা হয়েছে। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন আইজি পদমর্যাদার একজন আধিকারিক। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "পুরো আইজির নেতৃত্বে পুলিশ, এসটিএফ সবাই কাজ করছেন। ওনার পরিবার যা যা চেয়েছেন সরকারের কাছে, সেই কাজ সরকার করছে।"
তিনি আরও জানান যে, ইতিমধ্যেই দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এমনকি, পলাতক দুই অভিযুক্তের ফোনে কথোপকথনের রেকর্ডও পুলিশের হাতে এসেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "আমি কালকেই ওনার বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। ওনার বাবা বিচার চেয়েছেন।" পরিবারের প্রতি রাজ্য সরকারের পূর্ণ সমর্থনের কথা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "পরিবার যেভাবে জাস্টিস চেয়েছেন পরিবার, সরকার এবং পুলিশের কাছ থেকে যে যে সহযোগিতা চেয়েছেন, সেটা তারা পাবেন।" এই জঘন্য অপরাধের জন্য দোষীদের চরম শাস্তির পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "প্রথমটার তো বিচার দেব, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দেব।"
ইংরেজি ও হিন্দি সংবাদ মাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "যে ঘটনাটি ঘটেছে, তাতে জিরো টলারেন্স। আর অভিভাবকের সঙ্গে হয়তো কাল আমার দেখাও হয়ে যাবে। উনি যা যা বলবেন, আমি করব। ওখানকার যে রাজনৈতিক দল আছে, তাদেরও যদি কিছু পরামর্শ থাকে, তবে আমি কাল শুনে নেব। বড় অ্যাকশন হবে। আমি কাল নিজে যাচ্ছি বারুইপুর সুপারের অফিসে। মিসিং ডায়েরির ব্যাপারে পুলিশের, লোকাল পুলিশেরও কী ভূমিকা আছে, তারও অ্যাসেসমেন্ট হবে। পুলিশ অফিসারের যদি কোনও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা (ইরেসপন্সিবিলিটি) পাওয়া যায়, তবে তাকে দরজা দেখানোর কাজটিও পুলিশ মন্ত্রী করবেন। একদম নো কমপ্রোমাইজ।"
তবে শুধু নাবালিকা খুনের ঘটনাই নয়, রবিবার বারুইপুরে যে তাণ্ডব চলেছে, সে বিষয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নাবালিকা খুনের মামলা ছাড়াও আরও তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গণপিটুনি, রেললাইনে ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সিআরপিএফ জওয়ানদের আহত হওয়ার ঘটনা। গণপিটুনির পিছনে কোনও বিশেষ কারণ থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এই ঘটনায় যারা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে, তাদেরও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "বাকি তিনটে বিষয়ে যারা যুক্ত, যারা অতৃপ্ত আত্মা, ভোটে হেরে যারা ঘরে ঢুকে গিয়েছিলেন, এখনও ঢুকে আছেন, এই তিনজন মিলে এই যে তিনটে কাণ্ড করেছে না, এদেরকেও কিন্তু ভুগতে হবে। এমন ভোগাবো, বুঝতে পারবেন।"
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর, বারুইপুর কাণ্ডে রাজ্য প্রশাসন যে আর কাউকেই রেয়াত করবে না, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, পুলিশি তদন্তে আর কী কী তথ্য উঠে আসে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

