কলকাতার 'মিনি বাংলাদেশে' বন্ধ অধিকাংশ হোটেল, ভাড়াও দ্বিগুণের বেশি; সমস্যায় সেদেশের পর্যটকরা
মূলত বাংলাদেশ বা ভিন রাজ্যের মানুষজন চিকিৎসা বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কলকাতায় এলে এখানকার হোটেলেই ওঠেন । সেগুলির অধিকাংশ বন্ধ থাকায় ফ্যাসাদে পড়েছেন আগত পর্যটকরা ।

Published : August 31, 2026 at 6:05 PM IST
কলকাতা, 31 অগস্ট: মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মর্মান্তিক পরিণতির পর শহর জুড়ে পরিদর্শন শুরু হয়েছে । পরিকাঠামো যাচাই করতে গিয়ে নিউ মার্কেট তল্লাটে প্রায় 99 শতাংশ হোটেলের ঝাঁপ বন্ধ করেছে প্রশাসন । দু-চারটি হোটেল যেগুলো খোলা রয়েছে তারাও সুযোগ বুঝে লাগাম ছাড়া ঘর ভাড়া বাড়িয়েছে । যদিও ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে না হোটেল মালিকদের সংগঠন । তারা এই বিষয় সহমত নয় বলে জানিয়েছ ।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডের জেরে আশপাশের সমস্ত এলাকায় হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলি পরিদর্শন করেছে কলকাতা কর্পোরেশনের যৌথ টিম ৷ যেখানেই ত্রুটি নজরে এসেছে সেই হোটেল, গেস্ট হাউস বা অ্যাসেম্বলি পয়েন্টে ক্লোজার নোটিশ ঝুলিয়েছে প্রশাসন । তার জেরে মিনি বাংলাদেশ নামে পরিচিত গোলতলা চত্বরের 99 শতাংশ হোটেল আর গেস্ট হাউস এখন বন্ধ ।
মূলত বাংলাদেশ বা ভিন রাজ্যের মানুষজন চিকিৎসা বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কলকাতায় এলে এখানকার হোটেলেই ওঠেন । সেগুলির অধিকাংশ বন্ধ থাকায় মহা ফ্যাসাদে পড়েছেন আগত পর্যটকরা । প্রথমত, হন্যে হয়ে হোটেলের খোঁজ করতে হচ্ছে । আর যে হোটেল খোলা পাওয়া যাচ্ছে তার ঘর ভাড়া আকাশছোঁয়া ।
বাংলাদেশ থেকে এসে হোটেল না পেয়ে ভোগান্তির শিকার মনির হোসেন । তিনি বলেন, "দু'ঘণ্টা ধরে খুঁজে যাচ্ছি হোটেল পাচ্ছি না । যদিও বা কোথাও পাচ্ছি তাও আবার পাঁচ ছয় তলার উপর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ । খুব কষ্ট হচ্ছে । ভালো ঘর পাচ্ছি না । বলছে হোটেল বন্ধ । যেগুলো খোলা আছে সেগুলো হয় বুকিং হয়ে গিয়েছে না-হলে তার ভাড়া অনেক বেশি । ঢাকা থেকে ঘুরতে এসেছি । এয়ারপোর্টে লোকজনের মুখে শুনলাম এখানে স্বাভাবিক হয়েছে পরিস্থিতি । এসে দেখি সবটাই প্রায় বন্ধ । দেড় মাস আগেই টিকিট কেটেছিলাম ।"
আরেক বাংলাদেশি পর্যটক শাখাওয়াত হোসাইনের কথায়, "এখন আমরা কোথাও হোটেল পাচ্ছি না । মুকুন্দপুরে খোঁজ করা হয়েছে । মাত্র দু-চারটে হোটেল খোলা আছে সেখানে । বাকি হোটেলগুলি সরকার বন্ধ করে দিয়েছে । আমরা এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই । কিন্তু আমরা যারা বাইরে থেকে আসছি তাদের আগাম জানালে ভালো হত । তাহলে সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আসতাম । হোটেল পাচ্ছি না এটা সব থেকে বড় সমস্যা এখন । শুধু অতিরিক্ত চাইছে এমন নয়, যে হোটেলে ঘর ভাড়া দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা সেই ঘরের জন্য এখন চাইছে 6 হাজার টাকা ভাড়া । 5 হাজার টাকার নিচে নামতেই চাইছে না । সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে ।"
কলকাতা কর্পোরেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই গোলতলা চত্বরে কলিং স্ট্রিট, কলিং লেন, মির্জা গালিব স্ট্রিট-সহ আশপাশের এলাকা জুড়ে প্রায় 350টি কমবেশি হোটেল, গেস্ট হাউস আছে । তার মধ্যে 4-5টি খোলা রয়েছে বর্তমানে । বাকি সব হোটেল-গেস্ট হাউসে ঝুলছে নোটিশ । পরিকাঠামো প্রস্তুত না করলে খুলতে পারবে না আপাতত ।

তবে লাগাম ছাড়া ঘর ভাড়া বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কলকাতা হোটেল ও গেস্ট হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সম্পাদক রাজীব শেট্টি বলেন, "আমরা হোটেল, গেস্ট হাউসগুলোকে বলেছি ব্যবসা করতে যে যে ধরনের পরিকাঠামো দরকার সেটা দ্রুত তৈরি করতে । প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলবে । তাই ক'দিন বন্ধ থাকছে হোটেল আর গেস্ট হাউসগুলো । তবে যে হোটেলগুলো খোলা আছে সেগুলো যদি অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে থাকে তবে সেটা অনুচিত কাজ । এই ঘটনাকে সমর্থন করি না ।"

