ETV Bharat / state

পাচার রুখতে গিয়ে আক্রমণের মুখে বিএসএফের গুলি ! নিহত বাংলাদেশি চোরাকারবারি

সীমান্ত থেকে চারটি ধারালো অস্ত্র, 96 বোতল ফেনসিডিল কাশির সিরাপ ও দুই বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে । সমস্ত জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে বিএসএফ ।

Bangladeshi smuggler killed
বিএসএফের বাজেয়াপ্ত করা জিনিসপত্র (ছবি সূত্র-বিএসএফ)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 30, 2025 at 5:01 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 30 নভেম্বর: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের চোরাকারবারি ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সংঘর্ষ । মৃত্যু এক বাংলাদেশি চোরাকারবারির । সহযোগী দুষ্কৃতীরা বাংলাদেশের দিকে পালিয়েছে বলে বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে ।

নদিয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ থানা এলাকার মাটিয়ারী বিওপি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে রবিবার । পরে সেই স্থল তন্ন তন্ন করে খুঁজে একটি কাটার, চারটি ধারালো অস্ত্র, 96 বোতল ফেনসিডিল কাশির সিরাপ এবং দুই বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয় । সমস্ত জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে । একই সঙ্গে দেহ কৃষ্ণগঞ্জ পুলিশের কাছে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে । স্থানীয় থানায় একটি এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে ।

Bangladeshi smuggler killed
উদ্ধার ধারালো অস্ত্র (ছবি সূত্র-বিএসএফ)

বিএসএফ সূত্রে খবর, বিএসএফের 32 ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা সীমান্তে কাঁটাতারের কাছে 6-7 জন ভারতীয় চোরাকারবারিকে প্লাস্টিকের বান্ডিল হাতে যেতে দেখেন । পরে ওই বান্ডিলগুলো কাঁটাতারের ওপারে ছুঁড়ে দিচ্ছিল তারা ৷ উলটো দিকের বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা সেগুলো সংগ্রহ করছিল । এই ঘটনায় বিএসএফ জওয়ানরা উভয় পক্ষকে সতর্ক করে । শূন্যে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায় । কিন্তু, চোরাকারবারিরা নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে ।

বিএসএফের দাবি, চোরাচালান আটকানোর উদ্দেশে বিএসএফ জওয়ান তাদের দিকে এগিয়ে যায় । সেই সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে, বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা ধারালো অস্ত্র (দা) নিয়ে এগিয়ে আসছে । পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে জওয়ান ফের গুলি চালান । কিন্তু, পাচারকারীদের মধ্যে আক্রমণাত্মক এবং উস্কানিমূলক প্রতিক্রিয়া দেখা যায় । দুষ্কৃতীদের মধ্যে একজন জওয়ানকে দা দিয়ে আঘাত করে । ক্রমাগত বিশৃঙ্খলার মধ্যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে ট্রিগারটি চাপ দেওয়া হয় । পরে দেখা যায় সেই গুলিতে এক বাংলাদেশি চোরাকারবারি আঘাত পেয়েছেন ।

সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন । এসব দেখে অন্য চোরাকারবারিরা আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যেতে শুরু করে । তারা তাদের আহত সহযোগীকে প্রায় 50-60 মিটার টেনে নিয়ে যায় । কিন্তু, জলমগ্ন এলাকায় পৌঁছনোর পর তাকে এবং তার বান্ডিলগুলো ফেলে রেখে বাংলাদেশে পালিয়ে যায় । ঘটনার পর এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হয় । আহত বাংলাদেশি পাচারকারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কৃষ্ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন ।

বিএসএফ দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ আধিকারিক এনকে পাণ্ডে বলেন, "সীমান্তে মোতায়েন জওয়ানরা সতর্কতা এবং সাহসের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে চলেছে । বিএসএফ বারবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে বাংলাদেশি পাচারকারীদের অনুপ্রবেশ এবং আক্রমণের বিষয়টি উত্থাপন করেছে । দুর্ভাগ্যবশত, অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের কারণে এই অপরাধীদের মনোবল বেড়েছে । সীমান্ত রক্ষার জন্য জাতীয় স্বার্থে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ নিতে বিএসএফ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ।"