ETV Bharat / state

প্রতিবেশীকে মা-বাবা সাজিয়ে ভোটার-আধার! কাঠগড়ায় রিফিউজি কলোনির বৃদ্ধ, শোরগোল কাকদ্বীপে

65 বছরের ওই বৃদ্ধ দালালের মাধ্যমে প্রতিবেশীকে নকল বাবা-মা সাজিয়ে তৈরি করেছেন পরিচয়পত্র ৷ প্রশাসনে এমনই অভিযোগ করেছে এলাকাবাসীরা ৷

Bangladeshi infiltrator
অভিযুক্ত নিত্যহরি দাস (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 3, 2025 at 4:28 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কাকদ্বীপ, 3 নভেম্বর: ভোটার ও আধার কার্ড অনুযায়ী বৃদ্ধর বয়স 65 ৷ কিন্তু বাবা হিসাবে দেওয়া লোকটির বয়স 71 ৷ আর মা হিসাবে দেওয়া মহিলার বয়স 62 ৷ অভিযোগ, ওই বৃদ্ধ দালালের মাধ্যমে প্রতিবেশীকে নকল বাবা-মা সাজিয়ে তৈরি করেছেন ভোটার ও আধার কার্ড ৷ বৃ্দ্ধ আদতে 'বাংলাদেশি' অনুপ্রবেশকারী বলে দাবি এলাকাবাসীর ৷ ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ 24 পরগনার কাকদ্বীপের অক্ষয়নগর রিফিউজি কলোনি এলাকায় ।

পশ্চিমবঙ্গে লাগু হয়ে গিয়েছে এসআইআর । আর এসআইআর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক ভুতুড়ে ভোটারের নাম সামনে আসছে । তেমনই এবার প্রতিবেশীকে নকল মা-বাবা সাজিয়ে বাংলাদেশ থেকে এসে পরিচয়পত্র তৈরি করার অভিযোগ উঠল কাকদ্বীপে । যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নিত্যহরি দাস ।

প্রতিবেশীকে মা-বাবা সাজিয়ে ভোটার-আধার! কাঠগড়ায় রিফিউজি কলোনির বৃদ্ধ, শোরগোল কাকদ্বীপে (ইটিভি ভারত)

তিনি বলেন, "আমরা ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় এসে রয়েছি । আমার বাবার এক আত্মীয় ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দা ছিল ৷ সেই দাদুই আমাদের এখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে । আমার প্রতিবেশী ব্যক্তি যে রয়েছে তার নাম কালাচাঁদ দাস ৷ আমার বাবার নামও কালাচাঁদ দাস । আর মায়ের নাম অনিতা দাস । কিন্তু আমার বাবা-মা বহু বছর আগে মারা গিয়েছে । আমরা অনলাইনে ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম । আবেদন করার সময় যাবতীয় যা নথি প্রয়োজন, সেই সব আমরা অনলাইনে দিয়েছিলাম এবং তারপরেই আমরা নাগরিকত্ব পাই ।"

অভিযোগ, দিনের পর দিন দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার কাকদ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে । নিত্যহরি দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বাংলাদেশ থেকে 2005 সালে এই কাকদ্বীপে এসে দালালের মাধ্যমে পাশের বাড়ির প্রতিবেশী কালাচাঁদ দাস ও অনিমা দাসকে নিজের বাবা-মা সাজিয়ে ভোটার ও আধার কার্ড থেকে প্যান, এমনকি ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্ট পর্যন্ত করে নিয়েছেন । আর এই অভিযোগ লিখিতভাবে মহকুমা শাসককে করেছে এলাকার মানুষ ।

স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত নিত্যহরি দাসের বাবা-মায়ের নাম 2002 সালের ভোটার তালিকাতেও নেই ৷ তাহলে তিনি কীভাবে ভোটার কার্ড করলেন? এর উত্তরে নিত্যহরি দাস বলেন, "অনেকে 2002 এর পরে এসেছে ৷ এমনকি তিন চার বছর আগেও এসেছে তাদের নাম উঠেছে ভোটার তালিকায় ৷ সেই অনুযায়ী আমার নামও উঠেছে ।"

Bangladeshi infiltrator
নিত্যহরি দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ (নিজস্ব ছবি)

নিত্যহরি দাসের স্ত্রী মমতা দাসের কথায়, "আমি বাংলাদেশের বরিশালের বাসিন্দা । আমি বাংলাদেশ থেকে বহু বছর আগে কাকদ্বীপে এসেছি । আমার শ্বশুর শাশুড়িও বাংলাদেশের বাসিন্দা । আমরা ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় এসে আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড করেছি । সমস্ত নথি দেখিয়ে আমরা এখন এ দেশের বাসিন্দা হয়েছি ।"

অন্যদিকে যাঁদেরকে বাবা-মা সাজিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুললেন, তাঁদের মধ্যে প্রতিবেশী কালাচাঁদ দাস বলেন, "আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না । আমি ওকে কোনোদিন আমাদের ভোটার কার্ড দিইনি ৷ নাম ভাঁড়িয়ে করেছে কি না বলতে পারব না ।"

রিফিউজি কলোনির বাসিন্দা পরিমল দাস বলেন, "এইভাবে বাবা-মা সাজিয়ে বহু মানুষ বাংলাদেশ থেকে এসে তারা নিজেরা ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছে ৷ এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি । কমিশনের লোক বলছে ভোটার কার্ড করা যত সহজ, নাম কাটা তার থেকে কঠিন ৷"

প্রশ্ন উঠছে, বাবা-মায়ের নাম ভোটার তালিকায় না থাকার পরেও কীভাবে বাংলাদেশের বাসিন্দাদের নাম অনায়াসে ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করা হচ্ছে । মনে করা হচ্ছে, এই অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য বড়সড় দালাল চক্র জড়িত রয়েছে । সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দালাল চক্রের পাশাপাশি এই অনুপ্রবেশকারীদের বৈধ ভোটার কার্ড দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক বেশ কিছু আধিকারিকরা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন ।

কাকদ্বীপের মহাকুমা শাসক মধুসূদন মণ্ডল বলেন, "ইতিমধ্যে এসআইআর চালু হয়ে গিয়েছে রাজ্যে । আমরা সম্পূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখছি । যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তির কাছে বৈধ কাগজপত্র কী রয়েছে সেটা আমরা দেখছি । যদি ওই ব্যক্তি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।"