মহকুমাশাসকের দফতরে BLO-কে চড় ! হুগলিতে হইচই
বিএলও-দের মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগ তো ছিলই ৷ এবার সবার সামনে BLO-কে চড় মারার অভিযোগ উঠল ৷ ঘটনাটি শ্রীরামপুর মহকুমাশাসক দফতরে ঘটেছে ৷

Published : December 12, 2025 at 7:44 AM IST
চাঁপদানি (হুগলি), 12 ডিসেম্বর: নির্বাচন কর্মীকে চড় মারার অভিযোগে সোচ্চার বিএলও অধিকার মঞ্চ । হুগলি চাঁপদানি বিধানসভার 111 নম্বর বুথের বিএলও লালু নিয়া । এই বুথেই প্রায় 25 জন ভোটার নিখোঁজ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, BLO নিখোঁজ ভোটারের তালিকা দেন । বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগানো হয় ।
বিএলও অধিকার মঞ্চের অভিযোগ, দিন দু'য়েক আগে শ্রীরামপুর মহকুমাশাসক দফতরে বিএলও-দের নিয়ে একটি বৈঠক হয় ৷ সেখানে চাঁপদানির বিএলওকে চড় মারেন এইআরও (AERO) অভিজিৎ দাস। তারপর থেকে ওই বুথ লেভেল অফিস আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ৷ এমনকী তিনি অভিযোগ করতেও ভয় পাচ্ছেন ওই এইআরও (Assistant Electoral Registration Officer)-র বিরুদ্ধে ৷ আরও যদি কোনও বিপদ ঘটে এমন আশঙ্কা করে করে কোনওভাবেই মুখই খুলছেন না লালু নিয়া।
শুধু এই ঘটনাই নয়, শ্রীরামপুরে আরও এক বিএলও-কে চুলের মুঠি ধরার অভিযোগ আরেক এইআরও-র বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শ্রীরামপুর মহকুমাশাসক শম্ভু দীপ সরকার বলেন, "এরকম একটি ঘটনার কথা শোনা গিয়েছে। আমাদের আধিকারিকরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন ।"
উল্লেখ্য, হুগলির চাঁপদানি বিধানসভার 111 নম্বর বুথের বিএলও লালু নিয়া। তিনি বৈদ্যবাটি কল্পনা বসু বয়েজ অ্যাকাডেমি স্কুলে চাকরি করেন। ওই বিএলও যে বুথে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজ করেছেন, সেখানে কয়েকজন ভোটারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, নিখোঁজ ভোটারদের নামের তালিকা সংশ্লিষ্ট বুথের বিভিন্ন জায়গায় পাবলিক নোটিশ আকারে ঝুলিয়ে দেন বিএলও। তাঁর নিজের মোবাইল নম্বরও সেখানে লিখে রাখেন। যাতে খুঁজে না-পাওয়া ভোটাররা যদি সেই পাবলিক নোটিশ দেখতে পান এবং যোগাযোগ করেন। সেই খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আর এতেই অসন্তুষ্ট হন কমিশনের আধিকারিক।

একজন বিএলও যিনি হাইস্কুলের শিক্ষক, তাঁকে চড় মারা হয়েছে জানতে পেরে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য তথা শিক্ষকরা। যাঁরা ইতিমধ্যে কমিশন অফিসের সামনে বিএলও-দের উপর অত্যাধিক মানসিক চাপের অভিযোগ তুলে আন্দোলন চালাচ্ছেন। শিক্ষক নেতা তথা বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য শুভেন্দু গড়াই বলেন, "কোনও একটা রিপোর্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ৷ সেই কারণে ওই বিএলও-কে সবার সামনে সপাটে চড় মারা হয়েছে । আমরা এটা শুনে বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে ওনার পাশে দাঁড়াতে এসেছি রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে ।"
তিনি আরও বলেন, "ওনাকে অফিসে ডেকে মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছে । ভয় দেখানো হচ্ছে ৷ বলা হচ্ছে, কাজ ঠিকমতো না-করতে পারলে ওনার বিরুদ্ধে ও এফআইআর করবে । শিক্ষক আতঙ্কে রয়েছেন । কিছু পদক্ষেপ করতে চাইছেন না । আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানাব । প্রয়োজনে ঘেরাও অবস্থান হবে ।"

