যৌনপল্লীতে আলাপ থেকে প্রেম, বাংলাদেশি তরুণীর জাল নথি বানিয়ে ধৃত আসানসোলের যুবক
এসআইআর-এর আবহে জাল নথি তৈরির অভিযোগে আসানসোলের যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ ৷ নিষিদ্ধপল্লীর বাংলাদেশি তরুণীর প্রেমে পড়ে নথি তৈরি করেন অভিযুক্ত ৷

Published : January 11, 2026 at 7:11 PM IST
আসানসোল, 11 জানুয়ারি: এসআইআর নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি ৷ এনুমারেশন ফর্ম জমা, বাছাই, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর এখন চলছে শুনানি পর্ব ৷ এই নিয়ে ভোটমুখী বাংলার রাজনীতিতে শাসক-বিরোধী তরজাও ঊর্ধ্বমুখী ৷ এরই মধ্যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তরুণীর জাল নথি তৈরির অভিযোগে গ্রেফতা করা হল এক যুবককে ৷ ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের সালানপুর থানার দেন্দুয়া এলাকায় ৷
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম ছোটন সেন ৷ তিনি দেন্দুয়া এলাকারই বাসিন্দা ৷ বাংলাদেশ থেকে আসা কুলটির লছিপুর যৌনপল্লীর এক কর্মীর জন্য জাল নথি তৈরির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে ৷ অভিযোগ, নিজের কাকু-কাকিমাকে তরুণীর বাবা মায়ের পরিচয় দিয়ে ভুয়ো নথি তৈরি করেন ছোটন । সম্প্রতি ওই মহিলা সেই নথির সাহায্যে ভারতীয় পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন । তাতেই পুরো ঘটনাটি সামনে আসে । জানা গিয়েছে, ধৃতকে রবিবার আসানসোল আদালতে তোলা হয় ।
আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি কুলটি জাভেদ হুসেইন বলেন, "বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর । অবৈধ অনুপ্রবেশ, জাল নথি তৈরি ও রাষ্ট্রীয় নথির অপব্যবহারের অভিযোগে ছোটনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে । এই চক্রে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷"
সালানপুর থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানান, ছোটন সেন স্বীকার করেছেন ময়না তাঁর আসল স্ত্রী নন ৷ 2019 সালে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় কোলি ওরফে ময়নার । তিনি বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে আসেন এবং যৌনকর্মী হিসাবে কাজ করতেন । ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্যই পরিকল্পিতভাবে ভুয়ো নথি তৈরি করেন ছোটন সেন । দালালের মাধ্যমে ভুয়ো জন্ম সার্টিফিকেট, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ও প্যান কার্ড তৈরি করে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হয় । এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রচুর টাকা পয়সার লেনদেনও হয়েছে ৷
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ছোটনের স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে । তাঁর বাড়ির পাশে কাকু ও কাকিমা থাকেন । বাড়িতে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কুলটির লছিপুর নিষিদ্ধপল্লীর কর্মী কোলি ওরফে ময়না সেনের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে লিপ্ত হন ছোটন । পুলিশ জানিয়েছে, কোলি বাংলাদেশের বাসিন্দা । চোরাপথে এই দেশে ঢুকেছিলেন । বিভিন্ন যৌনপল্লীতে তিনি কাজ করেছেন । সেভাবেই লছিপুরে ছোটনের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয় । পরে, অভিযুক্ত তাঁর কাকু কাকিমাকে কোলির বাবা মা সাজিয়ে ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড এবং আধার কার্ড বানিয়ে দেন ।
এসআইআর আবহে হট্টগোল শুরু হওয়ায় বহু বাংলাদেশি যৌনকর্মী পালিয়ে যান । পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন ময়নাও ৷ কিন্তু, সীমান্তে কড়াকড়ির জন্য তিনি পাসপোর্ট বানিয়ে বাংলাদেশ চলে যেতে চেয়েছিলেন । সেই কারণে জাল নথি দিয়েই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন তিনি । আর তাতেই সমস্যা তৈরি হয় ।
তথ্য যাচাইয়ের জন্য নথি অনুযায়ী ঠিকানায় সালানপুরের দেন্দুয়ায় ছোটনের কাকুর বাড়িতে পুলিশকর্মীরা যান । সেই সময় ছোটনের কাকা উৎপল সেন পরিষ্কার জানান, তাঁর কোনও কন্যা সন্তান নেই । এমনকী, ময়না নামে কোনও মেয়েকেও পাওয়া যায়নি । ময়নার তথাকথিত বাবা মা হিসাবে যাঁদের নাম নথিতে রয়েছে—উৎপল সেন ও শুভঙ্করী সেন, তাঁরা আদতে বাবা মা নন । জিজ্ঞাসাবাদে উৎপল সেন ও শুভঙ্করী সেন স্পষ্ট জানান, তাঁদের নাম ব্যবহার করে ভুয়োভাবে নথি তৈরি করা হয়েছে ৷ আর এই বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতেন না ৷
এরপর, তাঁর নথি চুরি করে ভাইপো কাজটি করতে পারে বলে পুলিশের কাছে সন্দেহ প্রকাশ করেন উৎপল । তদন্তের জন্য পুলিশ প্রথমে 'গুণধর' ভাইপোকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে । জিজ্ঞাসাবাদে ছোটন সব স্বীকার করে নেন বলে জানা গিয়েছে ৷ এরপর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ ৷ ঘটনাটি জানাজানি হতেই ময়না পলাতক । তার খোঁজেও তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ । ছোটনের কাকু উৎপল সেন বলেন, "আমার নথিপত্র জেরক্স করার জন্য ছোটনকে দিয়েছিলাম ৷ তখনই সেগুলি নকল করে ওই মহিলার জন্য জাল নথি বানান ৷ ওই মহিলাকে আমরা চিনি না ।"

