SIR: বাংলার 60 লক্ষ নামের ভাগ্য এখন বিচারকদের টেবিলে ! শীর্ষে কোন জেলা
বিশেষ পোর্টালে সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্তও থাকছে কেবলমাত্র বিচারকদের হাতেই ৷

Published : February 24, 2026 at 2:28 PM IST
কলকাতা, 24 ফেব্রুয়ারি : দীর্ঘ জল্পনার অবসান । অবশেষে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে স্পষ্ট হল সংখ্যা, এসআইআর-এর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ ও ‘আনম্যাপড’ মিলিয়ে মোট 60 লক্ষ নামের যাচাই ও নিষ্পত্তি হবে আদালতের তত্ত্বাবধানে । রবিবার দুপুর ১২টার মধ্যে সংখ্যা জানানোর কথা থাকলেও তা প্রকাশে বিলম্ব হয় । শেষ পর্যন্ত কমিশন জানায়, মোট 1 কোটি 52 লক্ষ ( ‘আনম্যাপড’ 32 লক্ষ এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ 1 কোটি 20 লক্ষ) আপত্তিকৃত নামের মধ্যে 60 লক্ষের যাচাই করবেন বিচারকরা ।
সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট তালিকায় সবচেয়ে বেশি নাম রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায় । তার পরেই উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা । ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রায় 202 জন জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করেছেন এই প্রক্রিয়ার জন্য । কমিশন চেয়েছিল রাজ্যের 294 টি বিধানসভায় অন্তত একজন করে বিচারক । সেই দাবি পুরোপুরি না মিললেও আরও বিচারকের নাম পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে । মনে করা হচ্ছে, অন্তত প্রতি জেলায় একজন করে বিচারক পাওয়া যেতে পারে ।
এদিকে কমিশন-রাজ্য বৈঠকে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। সূত্রের খবর, শুনানি ও নিষ্পত্তির গতির উপর নির্ভর করছে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের সময় । ইতিমধ্যেই বিশেষ পোর্টালে কাজ শুরু করেছেন বিচারকরা । ওই পোর্টালে সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্তও থাকছে কেবলমাত্র বিচারকদের হাতেই ৷ কোনও নাম গ্রহণ বা বাতিল করা হলে পাশাপাশি ‘কমেন্ট’ অংশে কারণ-সহ পর্যবেক্ষণ লিখতে হবে, যার সীমা আপাতত 1000 অক্ষর । প্রয়োজনে সেটি বাড়ানো যেতে পারে ৷ পুরো প্রক্রিয়াটিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনের আধিকারিকদেরও সরাসরি সংশ্লিষ্ট পোর্টালে এন্ট্রির সুযোগ নেই ৷
এদিকে, সমগ্র প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সংশয় তৈরি হয়েছে । ওয়াকিবহাল মহলের মতে, 294টি বিধানসভায় যদি একজন করে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক প্রতিদিন 250টি করে নথি যাচাই করেন, তা হলেও পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগবে প্রায় 80 দিন । নির্ধারিত 28 ফেব্রুয়ারির সময়সীমা তাই বড় প্রশ্নের মুখে। এই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার জরুরি শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, পার্শ্ববর্তী রাজ্যের যে বিচারকেরা বাংলা ভাষা বোঝেন, তাঁদেরও নিয়োগ করতে পারেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। ফলে বাংলাভাষা বোঝেন, বাইরের রাজ্যের এমন কতজন বিচারককে এ কাজে নিযুক্ত করা হয়, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে৷
অন্যদিকে, ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়েও মঙ্গলবার বৈঠক হয়েছে । কোথায় কত বাহিনী থাকবে তা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনে সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গতিবিধির উপর নজর রাখবেন অবজার্ভাররা । এছাড়াও সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেমে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরে নজরদারি চালানো হবে। নজরদারি রাখবেন রাজ্য পুলিশের ডিজিও ৷

