মালদার আমের তালিকায় জুড়ছে 'অ্যাপেল ম্যাঙ্গো', পরীক্ষামূলক চাষে সফল সিআইএসএইচ
মালদায় এই আমের চাষ করা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিল লখনউয়ের সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট অফ সাবট্রপিক্যাল হর্টিকালচার ৷ অবশেষে সাফল্য মিলেছে ৷ পার্থ দাসের প্রতিবেদন ৷

Published : July 8, 2026 at 5:27 PM IST
মালদা, 8 জুলাই: আমের গড় মালদা ৷ একটা সময় এই জেলায় সাড়ে তিনশোরও বেশি প্রজাতির আম পাওয়া যেত ৷ অবশ্য সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্রজাতির আমের বিলুপ্তি ঘটেছে ৷ অনেক প্রজাতির আম বিলুপ্ত হওয়ার পথে পা বাড়িয়ে ৷ তবু এখনও এখানে শ’দেড়েক প্রজাতির আমের ফলন হয় ৷ এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হতে চলেছে 'অ্যাপেল ম্যাঙ্গো' ৷ দক্ষিণ ভারতে এই প্রজাতির আমের অল্পবিস্তর চাষ হয় ৷ সেখানে এই আম 'রুমানি' নামেও পরিচিত ৷ দাক্ষিণাত্যজুড়ে এই আমের ব্যাপক চাহিদা ৷ দামও পাওয়া যায় ভালো ৷ দেখতে একেবারে কাশ্মীরি আপেলের মতো ৷ এই আম পাকলে এর রংটাও আপেলের মতোই দেখায় ৷
মালদা জেলায় এই আমের চাষ করা যায় কি না, তা নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে গবেষণা চালাচ্ছিল লখনউয়ের সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট অফ সাবট্রপিক্যাল হর্টিকালচারের মালদা ইউনিট ৷ অবশেষে সাফল্য মিলেছে বলে দাবি তাদের ৷ মালদার মাটিতেও এই প্রজাতির আমের চাষ ভালো হচ্ছে বলে খবর ৷ চলতি বছর জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের ক্যাম্পাসে এই প্রজাতির আমের ভালো ফলন হয়েছে ৷ এই খবর ছড়িয়ে পড়তে জেলার আমচাষিদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা দিচ্ছে ৷ প্রবল উচ্ছ্বসিত মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনও ৷
সিআইএসএইচ-এর মালদা ইউনিটের প্রধান বিজ্ঞানী ডঃ দুষ্যন্তকুমার রাঘব বলছেন, “এই প্রজাতির আমের গড়ন একেবারে আপেলের মতো ৷ তাই আমরা একে অ্যাপেল ম্যাঙ্গো বা রুমানি নামে ডাকি ৷ এই প্রজাতির আম মূলত অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাডুতে পাওয়া যায় ৷ সেখানকার মাটি আর আবহাওয়া এই প্রজাতির আম উৎপাদনে সহায়ক ৷ ওই এলাকায় এই আম ভীষণ জনপ্রিয়৷ এই প্রজাতির একেকটি আমের ওজন 200 থেকে 300 গ্রাম হয়ে থাকে ৷ এই আমে প্রচুর রস থাকে, আমের মাংসল অংশও বেশ ভালো ৷ আঁশ অনেক কম ৷"
তিনি আরও বলেন, "এর স্বাদও অন্য আমের থেকে কিছুটা আলাদা ৷ খানিকটা আইসক্রিমের মতো ৷ তাই অনেকে একে আইসক্রিম ম্যাঙ্গোও বলে থাকেন ৷ সুগার কনটেন্ট ভালো থাকায় এর মিষ্টতাও বেশ ভালো ৷ এর গড়ন, রং ও স্বাদের কারণে বাজারে অ্যাপেল ম্যাঙ্গোর ভালো চাহিদা রয়েছে ৷ চাষিরা দামও ভালো পান ৷ আমরা এই জেলায় এই প্রজাতির আমের চাষ করার চেষ্টা চালাচ্ছিলাম ৷ অবশেষে সাফল্য এসেছে ৷ মালদা আমের জেলা৷ আমরা চাই, মালদার পুরোনো প্রজাতিগুলির পাশাপাশি নতুন কিছু প্রজাতির আম চাষ এখানে হোক ৷ এতে কৃষকরাও উপকৃত হবেন ৷"
ডঃ দুষ্যন্তকুমার রাঘব বলেন, "আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি, মালদার মাটি অ্যাপেল ম্যাঙ্গো চাষের পক্ষে উপযোগী ৷ এই জেলায় বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতাও 70 থেকে 80 শতাংশ থাকে ৷ এই আম চাষের জন্য এই আর্দ্রতারই প্রয়োজন ৷ সাধারণ পরিচর্যাতেই এই প্রজাতির আমের গাছ 15 থেকে 20 ফুট পর্যন্ত উঁচু হয় ৷ এই আম চাষের জন্য অতিরিক্ত পরিচর্যার প্রয়োজন নেই ৷ অন্যান্য প্রজাতির আমের সঙ্গে এই প্রজাতিতেও মুকুল আসে ৷ মে থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত অ্যাপেল ম্যাঙ্গো চাষের সেরা সময় ৷ যদি এই জেলার কোনও আমচাষি এই প্রজাতির আম গাছ লাগাতে উৎসাহী হন তবে তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন ৷”
মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সিআইএসএইচ-এর মালদা ইউনিট অ্যাপেল ম্যাঙ্গো বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছিল ৷ জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের ক্যাম্পাসে এই প্রজাতির আমের ফলন ভালো হয়েছে ৷ এই আম মূলত দক্ষিণ ভারতের ৷ এই আমের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে ৷ কিন্তু, মালদার মাটি আর আবহাওয়ায় এই আমের চাষ লাভজনক হবে কি না তা নিয়ে প্রথমে আমরা সবাই চিন্তায় ছিলাম ৷ শেষ পর্যন্ত সেই চিন্তা দূর হয়েছে ৷ আমটি দেখতে একেবারে গ্রিন অ্যাপেলের মতো ৷ স্বাদ খানিকটা হিমসাগরের মতো ৷ এর চাষ ব্যবসায়িক ভিত্তিতেও লাভজনক ৷ আশা করছি, ভবিষ্যতে মালদার প্রায় দেড়শো প্রজাতির আমের সঙ্গে এই রুমানিও যুক্ত হবে ৷ জেলার আমচাষিদের মধ্যেও এই আম চাষের উৎসাহ দেখা যাচ্ছে ৷”
রতুয়ার এক আমচাষি স্বামীনাথ কুমার বলেন, “শুনেছি জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের ক্যাম্পাসে পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাপেল ম্যাঙ্গো চাষ করা হয়েছে ৷ তাতে সাফল্যও এসেছে ৷ জানতে পেরেছি, এই আমের চাষ অত্যন্ত সুবিধেজনক ৷ আমের স্থায়িত্বও বেশ ভালো ৷ যদি বাজারে এর চাহিদা থাকে, তবে অবশ্যই এই প্রজাতির চাষ সফল হবে ৷ ইচ্ছে আছে, প্রথমে দু’চারটি চারা বসিয়ে প্রজাতিটির ভবিষ্যৎ দেখব ৷ যদি উৎপাদন, চাহিদা আর দাম সঠিক থাকে তবে অবশ্যই বাণিজ্যিকভাবে এই প্রজাতির চাষের কথা ভাবব ৷”

