যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলায় গ্রেফতার বেড়ে 5, বিভিন্ন সংস্থার 6 জনকে তলব পুলিশের
আয়োজক শতদ্রু দত্তের পর যুবভারতীর ঘটনায় পুলিশি স্ক্যানারে আরও একাধিক নাম ৷ ছ'জনকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন বিধাননগর কমিশনারেটের তদন্তকারীরা ৷

Published : December 15, 2025 at 11:45 AM IST
কলকাতা, 15 ডিসেম্বর: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সোমবার আরও তিনজনকে গ্রেফতার করল বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ ৷ ধৃতরা হলেন বাসুদেব দাস, সঞ্জয় দাস ও অভিজিৎ দাস ৷ এর আগে রবিবার রাতে শুভ্রপ্রতিম দে ও গৌরভ বসু নামে দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল ৷ এর ফলে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে মোট পাঁচ ৷ ধৃত পাঁচজনকেই সোমবার বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করবে পুলিশ ৷
পাশাপাশি লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ছ'জনকে তলব করা হয়েছে ৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিধাননগর কমিশনারেটরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, "সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষার কাজ এখনও চলছে । আমাদের সন্দেহ হলে তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি এবং তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি ।"
13 ডিসেম্বর শনিবার ঘটনার দিন মাঠে ব্যাপক অব্যবস্থার অভিযোগে তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে বিধাননগর পুলিশ । অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত আগেই গ্রেফতার হয়েছে ৷ তার গ্রেফতারির পর তদন্তকারীদের নজরে এসেছেন আরও একাধিক ব্যক্তি । শুধু আয়োজক সংস্থার সদস্যরাই নন, তাতে রয়েছে গোটা আয়োজনের বিভিন্ন স্তরে যুক্ত থাকা একাধিক দফতর ও ব্যক্তি ৷ তদন্তে নেমে তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ।
তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ
বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে তা যাচাই করার জন্য স্বতন্ত্র দফতরের মোট ছ'জনকে সোমবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় তলব করা হয়েছে । পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেককে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং সেই জিজ্ঞাসাবাদের পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফি করা হবে । অনুষ্ঠানের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁদের দায়িত্ব কী ছিল, কে কোন সময় কী কাজ করেছেন, তা বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা ।
স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত দর্শক
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে । তা হল পুলিশ জানতে পেরেছে যে স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রয়োজনের চেয়েও বেশি টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল । এই অতিরিক্ত টিকিট বিক্রিই ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার অন্যতম কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে । পাশাপাশি টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত কারা নিয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ।
শতদ্রু দত্তের পুলিশি হেফাজত
এদিকে, যুবভারতীতে শনিবারের বিশৃঙ্খলার ঘটনায় মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে সেদিনই গ্রেফতার করা হয় ৷ পরের দিন রবিবারই তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হয় ৷ বিচারত তাঁকে 14 দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন । আর শতদ্রুকে পুলিশ হেফাজতে পেয়েই তদন্তকারীরা তাঁকে জেরা করে আরও কয়েকজনের নাম জানতে পেরেছেন বলে সূত্রের খবর । সেই সূত্র ধরেই তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত হচ্ছে ।
শতদ্রুর পর আর কেউ গ্রেফতার হতে পারেন কি না-এই প্রশ্নের উত্তরে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ কুমার রবিবার বলেছিলেন, "বেশ কয়েকজনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে । তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠানো হবে ।" কমিশনারের বক্তব্যেই স্পষ্ট, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না পুলিশ ।
সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা
অন্যদিকে, যুবভারতীতে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলায় সরাসরি কারা জড়িত ছিলেন, তা চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে । স্টেডিয়ামের ভিতর ও বাইরের ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে । পুলিশ সূত্রে খবর, ফুটেজের ভিত্তিতেই আগামিদিনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা গ্রেফতার হতে পারে ।
সব মিলিয়ে, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার দায় কার কতটা-সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তৎপর বিধাননগর পুলিশ । তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য, আর তাতেই বাড়ছে উদ্বেগ ও জল্পনা । ঘটনাকে ঘিরে চড়ছে রাজনৈতিক পারদও ৷

