মহিলার পরিবর্তে স্বামীর অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা !
নিজেদের দাবির সমর্থনে তাঁরা ব্যাঙ্কের স্টেটমেন্ট দেখাতে প্রস্তুত । মহিলা আবেদনকারীর নামের পরিবর্তে কীভাবে তাঁর স্বামীর নাম সরকারি পোর্টালে উঠল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।

Published : September 1, 2026 at 10:29 AM IST
বর্ধমান, 31 অগস্ট: অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নিয়ে বর্ধমান শহরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক । এক মহিলা উপভোক্তার আবেদনে তাঁর নিজের নামের বদলে স্বামীর নাম ওঠার অভিযোগ সামনে এসেছে ।
অভিযোগ, তাঁর স্বামীর অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ক্রেডিট হয়েছে । শুধু তা-ই নয়, সরকারি পোর্টালে টাকা পাঠানোর তথ্য থাকলেও সংশ্লিষ্ট পরিবারের দাবি, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পৌঁছয়নি । একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে টাকা পাঠানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনও অর্থ পাওয়ার প্রমাণ মিলছে না বলে দাবি পরিবারের ।
বর্ধমান শহরের 32 নম্বর ওয়ার্ডের বিসি রোডের বাসিন্দা সীমা বিবি । তাঁর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করার পর প্রথম মাসের টাকা তাঁর নিজের অ্যাকাউন্টে এসেছিল । এরপর পরপর দু'মাস টাকা না আসায় বিষয়টি নিয়ে খোঁজ শুরু করেন তিনি । সোমবার বর্ধমান পুরসভায় গিয়ে নথি পরীক্ষা করতে গিয়ে জানতে পারেন, সরকারি পোর্টালে সুবিধাভোগীর জায়গায় তাঁর পরিবর্তে স্বামী শেখ রমজানের নাম রয়েছে ।
সীমা বিবির মতে, আবেদনটি তিনি নিজে করেননি । স্থানীয় একটি সাইবার ক্যাফের মাধ্যমে ফর্ম পূরণ করা হয়েছিল । পরে বিষয়টি নিয়ে সেখানে যোগাযোগ করলে সাইবার ক্যাফের কর্মী ভুলের কথা স্বীকার করেন বলেও দাবি তাঁর । ফলে সরকারি প্রকল্পের আবেদনে এই পরিবর্তন কীভাবে হল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে ।
সীমা বিবির কথায়, "আমার এখানে কোনও ভুল নেই । সাইবার ক্যাফে থেকেই ফর্ম পূরণ করা হয়েছিল । পরে জানতে পারি, সেখানে ভুল হয়েছে । আমরা গরিব মানুষ, স্বামী টোটো চালান । তাই সরকারি প্রকল্পের টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছি ।"
অন্যদিকে, টাকা আদৌ কোথায় গেল, তা নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন সীমার স্বামী শেখ রমজান । তাঁর দাবি, পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে তাঁর অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা জমা পড়েছে । কিন্তু তিনি নিজে ব্যাঙ্কে গিয়ে পাসবই এবং অ্যাকাউন্টের তথ্য পরীক্ষা করিয়েছেন । সেখানে ওই টাকা জমার কোনও চিহ্ন নেই বলে তাঁর দাবি ।
শেখ রমজান অবশ্য বলেন, "আমার নামে তিন হাজার টাকা ঢুকেছে বলে জানানো হচ্ছে । কিন্তু আমি নিজে ব্যাঙ্কে গিয়ে পাসবই দেখিয়েছি, অ্যাকাউন্ট চেক করেছি । কোনও টাকা ঢোকেনি । শুধু আমার নয়, আমার দুই ছেলের নামেও টাকা ঢুকেছে বলা হচ্ছে । অথচ তাঁদের অ্যাকাউন্টেও টাকা আসেনি ।"
এখানেই শেষ নয়, পরিবারের অভিযোগ, টাকা জমা পড়েছে বলে দাবি করার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কথা বলা হয়েছে । এমনকী সীমা বিবিকে থানায় ও পুলিশের কাছে অভিযোগ করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ শেখ রমজানের । তিনি জানিয়েছেন, নিজেদের দাবির সমর্থনে তাঁরা ব্যাঙ্কের স্টেটমেন্ট দেখাতে প্রস্তুত । একজন মহিলা আবেদনকারীর নাম পরিবর্তিত হয়ে কীভাবে তাঁর স্বামীর নাম সরকারি পোর্টালে উঠে গেল, সেই প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।
ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই পুরসভার তরফে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । জানা গিয়েছে, পুরসভার প্রতিনিধি তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের নেতৃত্বে 13 সদস্যের কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে । একই সঙ্গে ভুলভাবে কোনও টাকা পাঠানো হয়ে থাকলে সেটি ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে ।
তবে আবেদনপত্রে নাম পরিবর্তন হল কীভাবে, সেই পরিবর্তন কে করল, সরকারি পোর্টালে টাকা পাঠানোর তথ্য তৈরি হলেও ব্যাঙ্কে তা প্রতিফলিত হল না কেন এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে টাকা পাঠানোর তথ্য কীভাবে তৈরি হল সেই উত্তর মেলেনি ।

