ধর্ষকরা ছাড় পায়, পথকুকুররা বন্দি হয় ! সুপ্রিম-নির্দেশে গর্জে উঠলেন পশুপ্রেমী শ্রীলেখা-তথাগত
শ্রীলেখার কথায়, কালভৈরবের পুজো করতে গেলে কুকুরকে পুজো করতে হয় । তথাগতর বক্তব্য, সংবিধানে প্রত্যেকটা প্রাণীকে সমান গুরুত্ব দিতে বলা রয়েছে ৷

Published : November 8, 2025 at 5:43 PM IST
কলকাতা, 8 নভেম্বর: দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-রেল স্টেশনের মতো স্থান থেকে সমস্ত পথকুকুর সরিয়ে ফেলার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে বঙ্গে ৷ গর্জে উঠলেন পশুপ্রেমী হিসাবে পরিচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র ও অভিনেতা তথাগত মুখোপাধ্যায় ৷ তাঁদের কথায়, ভোট দেওয়ার ক্ষমতা নেই বলে পথকুকুরদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে ৷ কোনও রাজনৈতিক দল প্রতিবাদ করছে না ৷
সমাজকর্মী তথা অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র তাঁর সমাজ মাধ্যমে একটি স্কুলের নির্দেশিকা পোস্ট করেছেন । কলকাতার সেই স্কুলটি সেখানে বলেছে, "আমাদের ক্যাম্পাসে থাকা কুকুরগুলির যত্ন নেন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং কর্মীরা ৷ যারা স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন । এই সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগটি মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে এক সুন্দর সহাবস্থান গড়ে তুলেছে, যা আমাদের প্রতিষ্ঠানের মূল মূল্যবোধের প্রতিফলন ।"
ওই নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, "এই কুকুরগুলিকে সরিয়ে দিলে ক্ষতি হবে প্রাণী ও মানুষ উভয়পক্ষের । যত্নশীলরা কুকুরগুলির প্রতি সময়, পরিশ্রম ও ভালোবাসা বিনিয়োগ করেছেন । উপরন্তু, কুকুর সরিয়ে দেওয়া সমস্যার সমাধান নয়, নতুন কুকুর আসবেই, কিন্তু তখন আর থাকবে না সেই যত্ন ও নজরদারির পরিকাঠামো, যা বর্তমানে আমাদের সম্প্রদায় গড়ে তুলেছে । আমরা আমাদের সম্প্রদায়ের এই সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল প্রচেষ্টার পাশে আছি ।" যদিও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের তরফে কোনও উত্তর মেলেনি ।

পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে শ্রীলেখা মিত্র ইটিভি ভারতকে বলেন, "একজন মানুষ ধর্ষক বলে সব মানুষ ধর্ষক নয় । সুতরাং কোনও একটি কুকুর যদি কোনও একটি কারণবশত কাউকে কামড়ে থাকে । এর মানে সকল রাস্তার কুকুরই কামড়াবে সেটা নয় । যারা ভগবানে বিশ্বাসী তারা হয়তো ভুলে গিয়েছেন কালভৈরবের পুজো করতে গেলে কুকুরকে পুজো করতে হয় । মহাভারতেও যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে কুকুর ছিলেন । এটা কুকুরকে মারার ষড়যন্ত্র চলছে আর কিছুই না । আমি এই আইন মানি না । খুনি, ঠকবাজ, ধর্ষণকারী সবাই ছাড় পেয়ে যায় । রাগ গিয়ে পড়ছে রাস্তার কুকুর গুলোর উপর, যাদের ভোট দেওয়ার ক্ষমতা নেই ।"

অন্যদিকে অভিনেতা তথা সমাজকর্মী তথাগত মুখোপাধ্যায়ের কথায়, "এখন চারপাশে হিংসার রাজনীতি । সব রাজনৈতিক দল এটা চারিদিকে ছড়াচ্ছে । সুপ্রিম কোর্টও সেই বার্তাই দেওয়ার চেষ্টা করছে । অন্য প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল না-হয়ে তাদের প্রতি হিংসাত্মক মনোভাব সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে । ভারতের সংবিধানে প্রত্যেকটা প্রাণীকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বলা আছে । তাহলে কি সুপ্রিম কোর্ট ভারতের সংবিধানের বিরুদ্ধে যাওয়ার কথা বলছে? আমাদের দেশের আইন ব্যবস্থা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, এই রায় তার প্রমাণ দেয় । যেহেতু ওদের ভোট দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তাই কোনও রাজনৈতিক দলও এর এখনও প্রতিবাদ করেনি । একটা খুব বড় প্রশ্ন রয়েছে, যেটা আজকে পথকুকুরদের সঙ্গে হচ্ছে ক’দিন বাদে সেটা পথশিশুদের সঙ্গে হবে না তো?"

শুক্রবার সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, পাবলিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন জাতীয় স্থান থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে শেল্টারে নিয়ে গিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট । বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আনজারিয়ার বেঞ্চ জানিয়েছে, এই সমস্ত প্রতিষ্ঠান এবং জায়গাগুলিকে পথকুকুরের প্রবেশ আটকাতে সঠিকভাবে বেড়া দিতে হবে । সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ আসার পরেই এই নিয়ে সরব হয়েছেন পশুপ্রেমীরা ।


