ফের SIR আতঙ্কে মৃত্যু ! শুনানির ডাক পেয়ে হার্ট অ্যাটাক বৃদ্ধের
নতুন বছরের শুরুতেই ফের এসআইআর শুনানি আতঙ্কে মৃত্যু। স্বরূপনগরের পর এবার হিঙ্গলগঞ্জে অভিযোগ, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গেল 80 বছরের বৃদ্ধের।

Published : January 4, 2026 at 10:17 AM IST
হিঙ্গলগঞ্জ, 4 জানুয়ারি: স্বরূপনগরের পর হিঙ্গলগঞ্জ ৷ ফের SIR-শুনানিতে ডাক পাওয়ায় আতঙ্কে হৃদরোগে বৃদ্ধের মৃত্যু বলে অভিযোগ । মৃতের নাম অসিত কুণ্ডু (80)। ঘটনা ঘিরে শনিবার তীব্র শোরগোল উত্তর 24 পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআরের এনুমারেশন ফর্মে 2002 সালের সংশোধিত ভোটার তালিকার কোনও তথ্য দেওয়া ছিল না ওই বৃদ্ধের । যার জেরে সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে শুনানি-নোটিশ পৌঁছয় নির্বাচন কমিশনের তরফে । শনিবার নথি নিয়ে শুনানিতে হাজির হওয়ার কথা ছিল বৃদ্ধের । পুত্রবধূ তাঁকে সে কথা জানিয়েও ছিল । কিন্তু, SIR শুনানিতে যাওয়ার আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন বৃদ্ধ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাঁকে। চিকিৎসকরা ওই বৃদ্ধকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে এদিন বিকেলে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান তৃণমূল বিধায়ক দেবেশ মণ্ডল-সহ হিঙ্গলগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ সুরজিৎ বর্মন-সহ শাসকদলের স্থানীয় নেতারা । বৃদ্ধের মৃত্যুর জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব । সেই সঙ্গে বিজেপির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছে তারা । যদিও এসআইআর নিয়ে পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে 'আতঙ্ক' ছড়ানোর দাবি নিয়ে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির ।
জানা গিয়েছে, ভাণ্ডারখালি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন বৃদ্ধ অসিত কুণ্ডু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ওই গ্রামেরই 163 নম্বর বুথের ভোটার তিনি। এই বয়সেও ওই বৃদ্ধ প্রতিবার ভোট দিয়ে আসছেন। তারপরও তাঁর এনুমারেশন ফর্মে গলদ ধরা পড়ে বলে অভিযোগ। কমিশনের দাবি, 2002 সালের ভোটার তালিকার কোনও তথ্যই দেওয়া ছিল না । তথ্য না-থাকায় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, SIR-এর শুনানি নোটিশ যায় বৃদ্ধের কাছে । তাঁর পুত্রবধূর কাছেও আসে কমিশনের এসআইআরের নোটিশ । দু'জনেরই শনিবার দুপুরে এসআইআর শুনানিতে হাজির হওয়ার কথা ছিল হিঙ্গলগঞ্জ বিডিও অফিসে ।

সকালে সে কথা বৃদ্ধকে জানান তাঁর বউমা । তিনি তাঁর শ্বশুরকে বলেন, "বাবা আপনি জামা-কাপড় পরে তৈরি হয়ে নিন। আমাদের এসআইআরের শুনানিতে যেতে হবে।" বউমার কথা শুনে পাল্টা বৃদ্ধ বলেন, "আমার বয়স 80 বছর। আমার পূর্ব-পুরুষরা বছরের পর বছর ধরে এখানে বসবাস করে আসছে। তারপরও কেন আমাকে শুনানিতে যেতে হবে ?" এরপর হঠাৎই বুকে ব্যথা অনুভব করতে শুরু করেন ওই বৃদ্ধ। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তড়িঘড়ি তাঁকে ভাণ্ডারখালি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের লোকজনরা । কিন্তু, সেখানে নিয়ে যাওয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে আগেই ।
এদিকে, এই ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা কিছু না-বললেও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার এসসি-ওবিসি সেলের তৃণমূল চেয়ারম্যান সুরজিৎ বর্মন । তিনি বলেন, "ওই বৃদ্ধের 2002 সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায় কোনও সমস্যা ছিল। সেই কারণে নির্বাচন কমিশন তাঁকে শুনানির-নোটিশ পাঠিয়েছিল। সেই নোটিশের আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় বৃদ্ধের। দুর্ভাগ্যজনক এই মৃত্যুর জন্য দায়ী কেবলমাত্র নির্বাচন কমিশনই। বিজেপির ষড়যন্ত্রও রয়েছে এর নেপথ্যে ৷ আমরা মৃতের পরিবারের পাশে রয়েছি।"
প্রসঙ্গত, নতুন বছরের প্রথম দিনেই এসআইআর শুনানিতে পর্যাপ্ত নথি দেখাতে না-পেরে আতঙ্কে হৃদরোগে স্বরূপনগরে মৃত্যু হয়েছিল 60 বছরের এক বৃদ্ধের। অভিযোগ উঠেছল এমনটাই ৷ সেই ঘটনার রেশ কাটতে না-কাটতে এবার হিঙ্গলগঞ্জে একই অভিযোগ ৷ এসআইআরের শুনানি-আতঙ্কে আরও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। পরপর এই দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

