প্রাক্তনীর 10 কোটির অনুদান! আইআইটি খড়গপুরে অত্যাধুনিক 'AI ইনোভেশন ল্যাব'
কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগ শুধু গবেষণার পরিসর বাড়াবে না, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর সমাধানও সামনে আনবে ।

Published : March 2, 2026 at 8:00 PM IST
খড়গপুর, 2 মার্চ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় নতুন অধ্যায় শুরু করল আইআইটি খড়গপুর (Indian Institute of Technology Kharagpur) । প্রাক্তনীর উদ্যোগে এবং শিল্পক্ষেত্রের সক্রিয় সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে অত্যাধুনিক 'এআই ইনোভেশন ল্যাব' । এ জন্য 10 কোটি টাকার প্রাথমিক অনুদান দিয়েছেন আইআইটি খড়গপুরের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রাক্তনী আনন্দ দেশপান্ডে, যিনি বর্তমানে পারসিস্টেন্ট সিস্টেমসের (Persistent Systems) প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ৷
আইআইটি খড়গপুরের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে গড়ে ওঠা এই 'পারসিস্টেন্ট সিস্টেমস ইনোভেশন ল্যাব ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' উন্নত গবেষণা, আন্তঃবিভাগীয় উদ্ভাবন এবং বাস্তব প্রয়োগভিত্তিক প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ । প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গিয়েছে, গবেষণা থেকে শিল্পক্ষেত্রে প্রযুক্তি রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করাই এই ল্যাবের অন্যতম লক্ষ্য ।

1984 সালে আইআইটি খড়্গপুরের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রাক্তনী দেশপান্ডে বলেন, "বিশ্বমানের গবেষণার জন্য শুধু মেধা নয়, প্রয়োজন পরিকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি । এই ল্যাব সেই পরিকাঠামো গড়ে তুলবে ।" তাঁর মতে, ভারতীয় প্রেক্ষাপটে সমাজমুখী ও নৈতিক এআই ব্যবস্থা তৈরিতে উচ্চমানের গবেষণার বিকল্প নেই ।
মউ চুক্তির অনুষ্ঠানে প্রাক্তনী দেশপান্ডের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তন ডিরেক্টর পার্থপ্রতিম চক্রবর্তী, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রধান নিলয় গঙ্গোপাধ্যায়, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান চন্দন চক্রবর্তী-সহ একাধিক অধ্যাপক । তাঁরা জানান, এই ল্যাব আন্তঃবিভাগীয় গবেষণার ক্ষেত্র প্রসারিত করবে এবং ছাত্র–গবেষকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের কাজের সুযোগ তৈরি করবে ।
আইআইটি খড়্গপুরের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রাক্তনী আনন্দ দেশপান্ডে 'ভারতের প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ' শীর্ষক বক্তৃতা দেন । সেখানে তিনি জোর দেন মানসম্পন্ন তথ্য সংগ্রহ ও সঠিক ডেটা সংরক্ষণের উপর, বিশেষত স্বাস্থ্য ও জৈব-চিকিৎসা ক্ষেত্রে । তাঁর কথায়, "গুণগত মানসম্পন্ন ডেটাই শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার ভিত ।" একই সঙ্গে জটিল বাস্তব সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন শাখার বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি । দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে 'শেখার কৌশল শেখা', এই বার্তাও বিশেষ সাড়া ফেলে ছাত্রদের মধ্যে ।
কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগ শুধু গবেষণার পরিসর বাড়াবে না, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর সমাধানও সামনে আনবে । প্রাক্তনীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে যে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নতুন মাত্রা পেতে পারে, আইআইটি খড়গপুরের এই মউ চুক্তিতে সেই বার্তাই স্পষ্ট হল ৷
আরও পড়ুন:

