ETV Bharat / state

রাজনৈতিক কারণে ছাত্রীকে মানসিক নির্যাতন শিক্ষিকার ! 'চরম পদক্ষেপে'র হুঁশিয়ারি আক্রান্তের

বিজেপি সমর্থক গৃহশিক্ষকের কাছে টিউশন পড়ায় হেনস্তার অভিযোগ ৷ ক্লাসরুমে পড়াশোনার বাইরে রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনার অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৷

MENTAL HARASSMENT TO STUDENT
প্রতীকী ছবি ৷ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 30, 2026 at 3:50 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

ঘাটাল (পশ্চিম মেদিনীপুর), 30 অগস্ট: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান বীরসিংহ গ্রামে তাঁরই নামাঙ্কিত স্কুলে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ৷ ঘটনায় অভিযুক্ত স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষিকা নবনীতা ঘোষ ৷ অভিযোগ, সক্রিয় বিজেপি কর্মী গৃহশিক্ষকের কাছে প্রাইভেট টিউশন নেওয়ায় স্কুলের একাধিক ছাত্রীকে হেনস্তা করছেন তিনি ৷ কারণ, তাঁর স্বামী সক্রিয় তৃণমূল নেতা ৷ এমনকি বীরসিংহ 154 নম্বর বুথের তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন ৷ তাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই ছাত্রীদের উপর ওই শিক্ষিকা মানসিক চাপ তৈরি করছেন বলে অভিযোগ ৷

এনিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগও করেছিলেন অভিভাবকরা ৷ তারপরেও পরিস্থিতি বদলায়নি ৷ এবার সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো বার্তা দিয়ে 'চরম পদক্ষেপ'-এর হুঁশিয়ারি দিল এক ছাত্রী ৷ আর তারপরেই সার্কেল ইন্সপেক্টরকে স্কুলে গিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন সহকারী জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক ৷

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল ব্লকের বীরসিংহ বিদ্যাসাগর বালিকা বিদ্যাপীঠ (মাধ্যমিক) ৷ স্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইতিহাসের শিক্ষিকা নবনীতা ঘোষের বিরুদ্ধে ৷ কিন্তু কেন ? জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রী এবং ক্লাসের আরও কয়েকজন পড়ুয়া ওই এলাকারই এক গৃহশিক্ষক জয়ন্ত সাঁতরার কাছে প্রাইভেট টিউশনে যায় ৷ তিনি আবার সক্রিয় বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত ৷

অভিযোগ, ক্লাস এবং স্কুলে যে-যে পড়ুয়া জয়ন্ত সাঁতরার কাছে টিউশন পড়ে, তাদের উপরেই নেমে এসেছে কোপ ৷ ইতিহাসের শিক্ষিকা ক্লাসে ঢুকেই সেই সকল ছাত্রীদের নানাভাবে হেনস্তা করেন ৷ এমনকি ক্লাস থেকে বের করে দেন ৷ অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রীদের জয়ন্ত সাঁতরার কাছে টিউশন পড়া ছেড়ে দিতে চাপ দেন নবনীতা ঘোষ ৷ আর তা না-করলে পরীক্ষায় নম্বর কেটে নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি ৷ অভিযোগ, ক্লাসে পড়াশোনা ছেড়ে রাজনৈতিক আলোচনা করেন তিনি ৷

গত 10 অগস্ট কয়েকজন অভিভাবক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ স্কুলের টিচার ইনচার্জের কাছে জমা দিয়েছিলেন ৷ কিন্তু, তারপরেও নবনীতা ঘোষ ছাত্রীদের উপর মানসিক চাপ তৈরি করা বন্ধ করেননি বলে অভিযোগ ৷ আর তারপরেই নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী সোশাল মিডিয়ায় 'চরম পদক্ষেপ'-এর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ৷

তার অভিযোগ, "দীর্ঘ আট মাস ধরে এই শিক্ষিকা আমাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করছেন ৷ আমি ভয়ে ও আতঙ্কে আছি ৷ ঠিক মতো পড়াশোনা করে উঠতে পারছি না ৷ এই পরিস্থিতিতে আমি অভিযোগ করেছিলাম টিআইসি ম্যাডামের কাছে ৷ তারপরেও উনি কথা শুনছেন না ৷ তাই এই পরিস্থিতির সুব্যবস্থা না-হলে, আমি চরম পদক্ষেপ নেব ৷"

ছাত্রীকে মানসিক নির্যাতন শিক্ষিকার (ইটিভি ভারত)

এই ভিডিয়ো সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে জেলা স্কুল শিক্ষা দফতর ৷ পশ্চিম মেদিনীপুরের সহকারী জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক ঘাটালের সার্কেল ইন্সপেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন, দ্রুত স্কুলে গিয়ে ঘটনার তদন্ত করতে এবং একটি রিপোর্ট দফতরে জমা করতে বলা হয়েছে ৷ জানা গিয়েছে, সোমবার স্কুলে গিয়ে ঘটনার তদন্ত করবেন সার্কেল ইন্সপেক্টর ৷ তারপর সেই রিপোর্ট যাবে জেলা স্কুল শিক্ষা দফতরে ৷

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা নবনীতা ঘোষ এবং প্রাইভেট টিউটর জয়ন্ত সাঁতরার বাড়ি পাশাপাশি দুই গ্রামে ৷ আর দু’জনের রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা ৷ আর সেই কারণেই জয়ন্ত সাঁতরার উপার্জন বন্ধ করতে অভিযুক্ত শিক্ষিকা স্কুলের ছাত্রীদের টিউশন বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ৷

জয়ন্ত সাঁতরা বলেন, "ওই ছাত্রী আমার কাছে পড়তে আসে দীর্ঘদিন ধরে ৷ ওর স্কুলের ম্যাডামের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিন ভালো সম্পর্ক ছিল ৷ কিন্তু, সম্প্রতি এক বছর আগে কোনও কারণ ছাড়াই ওই ছাত্রীকে ম্যাডাম নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন ৷ কখনও রাজনৈতিক ব্যাপার নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ওকে ধমক দেন, কখনও বা আমার কাছে পড়তে আসতে বারণ করেন ৷ ক্লাসের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা করার জন্য ওঁর বিরুদ্ধে অভিযোগও জমা পড়েছে স্কুলে ৷ কী কারণে উনি এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছেন, তা বলতে পারব না ৷ মনে হয় আমি একজন বিজেপি সাপোর্টার, তার জন্যই ওঁ রাজনৈতিক কারণে এই ঘটনা ঘটাচ্ছেন ৷"

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা নবনীতা ঘোষ ৷ তিনি পালটা ওই ছাত্রীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন ৷ তিনি বলেন, "ঘটনা শুনেছি ৷ আমি এলাকারই মেয়ে ৷ আমার একটা সম্মান রয়েছে দীর্ঘদিনের ৷ কিন্তু, ওই ছাত্রী কেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তা বলতে পারব না ৷ আমার মনে হয় ও কারও দ্বারা প্ররোচিত হয়েই এই ধরনের মন্তব্য করছে ৷ সেই সঙ্গে আমি যাতে বদনাম হই তার চেষ্টা করছে ৷ আমিও অনেক সময় ওকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি ৷ আমার মনে হয় পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ৷"