লক্ষ্মী বা অন্নপূর্ণা নয়, বছরের পর বছর বিধবা ভাতার টাকা পুরুষের অ্যাকাউন্টে !
প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি দোষী সরকারি আধিকারিকদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে শাসকদল বিজেপি । যদিও তৃণমূল এই ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক যোগ দেখছে না ৷

Published : August 29, 2026 at 1:41 PM IST
দাসপুর, 29 অগস্ট: পুরুষের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢোকার কথা তো অনেকবার শোনা গিয়েছে ৷ এবার পুরুষ তথা বৃদ্ধর অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা ঢুকছে বছরের পর বছর ৷ তথ্য-সহ এমন অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছে শাসকদল বিজেপি ৷ ঘটনা জানতে পেরে প্রশাসনের দ্বারস্থ ওই বৃদ্ধের পরিবারও । ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার গোছাতি এলাকায় ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোছাতি গ্রামের 71 বছরের কেশব ঘোড়ই বার্ধক্য ভাতার জন্য স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে কাগজ জমা দিয়েছিলেন । তারপর 2021 সাল থেকে টাকা ঢুকছিল তাঁর অ্যাকাউন্টে ৷ অথচ সেটি বিধবা ভাতা । ঘটনা জানাজানি হতেই তড়িঘড়ি দাসপুর ব্লক প্রশাসনের কাছে ভাতা বন্ধের জন্য আবেদন জানায় বৃদ্ধর পরিবার ।
বিজেপি নেতা প্রশান্ত বেরা বলেন, "15 বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে মানুষকে ভুয়ো তথ্য দিয়ে বোকা বানিয়ে রেখেছে, এটা তার উদাহরণ । নতুন সরকারের জনকল্যাণ মঞ্চে যে আধিকারিকরা এখন তৃণমূল সরকারের কাজ করছে, তাদের এই ভুল কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে । না-হলে একজন পুরুষ কী করে বিধবা ভাতার টাকা পেয়ে যান এবং অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা একজন পুরুষের অ্যাকাউন্টে কীভাবে ঢুকে যায়? আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন করব, যেন প্রশাসনিক তদন্ত করা হয় ।"
অন্যদিকে, টাকা প্রাপক বৃদ্ধ কেশব ঘোড়ই বলেন, "বছর চারেক আগে বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদন করেছিলাম । আমার বয়স একাত্তর বছর । সেই হিসেবে এতদিন টাকা পেয়ে এসেছি ৷ কখনও দেখিনি যে বিধবা ভাতা না বার্ধক্য ভাতা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ।পড়াশোনাও জানি না ৷ পরবর্তীকালে আমার ছেলে বলেছে, বার্ধক্য নয় বরং বিধবা ভাতার টাকা ঢুকছে আমার অ্যাকাউন্টে । বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি, যাতে এটা ঠিক করে দেওযা হয় ৷"

তৃণমূল নেতা সৌমিত্র সিংহ রায়ের বক্তব্য, "বহু মানুষ বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন । কম্পিউটারের ভুলের জন্য হয়তো বার্ধক্যের জায়গায় বিধবা হয়ে গিয়েছে । আমার মনে হয় না এটা কোনও রাজনৈতিক ব্যাপার । বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বিভিন্ন পুরুষের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ৷ ফলে এটা ডাটা এন্ট্রির সমস্যা, রাজনৈতিক ব্যাপার নয় ।"

যদিও সিপিএম নেতা লক্ষ্মীকান্ত ভৌমিক বলেন, "আগের সরকারের আমলে আসল যাঁরা যোগ্য, বিধবা বা বার্ধক্য ভাতা পাননি ৷ বরং গোপনে এবং ভুলভাবে অযোগ্য ব্যক্তিরা এই বিধবা এবং বার্ধক্য ভাতার টাকা পেয়ে আসছে । কেউ অন্নপূর্ণার, আবার অনেকে বিধবা ভাতার নামে টাকা পেয়ে আসছেন । এরই প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা বিডিও অফিসে অভিযোগ জানিয়েছি ।"
দাসপুর বিডিও অফিসের এক আধিকারিক বলেন, "অভিযোগ পাওয়ার পরই জেলাস্তরে জানানো হয়েছে । খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।"

