ETV Bharat / state

একই এপিকে নাম অন্যের, SIR আবহে ভোটাধিকার হারিয়ে আতঙ্কে পুলিশকর্মীর ছেলে

একই এপিক নম্বর কী করে হল, প্রশ্ন তুলছেন ওই যুবক । বিএলও বা প্রশাসনের কোনও সাহায্যে মেলেনি বলে অভিযোগ ৷

voter card controversy
অনিমেষ বিশ্বাস (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 30, 2025 at 4:53 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

কৃষ্ণগঞ্জ, 30 নভেম্বর: দু'জনের নাম একই ৷ বাবার নামও এক ৷ এমনকি একই এপিক নম্বর ৷ একজনের বদলে ভোটার তালিকায় আরেকজন নাম তুলেছেন বলে অভিযোগ ৷ ভোটাধিকার হারিয়ে এসআইআর-এর আবহের মাঝে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পুলিশকর্মীর ছেলে অনিমেষ বিশ্বাস ৷ তিনি নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের হালদারপাড়ার বাসিন্দা ৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অনিমেষ বিশ্বাসের দাদু অনিল বিশ্বাস দীর্ঘদিন শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের হালদারপাড়ার বাসিন্দা ৷ তিনি ছিলেন পুলিশ কর্মী ৷ আর ঠাকুমা কল্যাণী বিশ্বাস গৃহকর্ত্রী । তাঁদের একমাত্র সন্তান বিশ্বজিৎ বিশ্বাস । কর্মরত অবস্থায় বাবার মৃত্যুর পর তাঁর চাকরি পান ছেলে বিশ্বজিৎ । বিশ্বজিতের স্ত্রী রেখা বিশ্বাস ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান । পাঁচ বছর আগে বিশ্বজিৎ পুলিশে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় ।

ভোটাধিকার হারিয়ে SIR আবহে আতঙ্কে পুলিশকর্মীর ছেলে (নিজস্ব চিত্র)

এদিকে, বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে । সেই ছেলে হলেন অনিমেষ বিশ্বাস । অনিমেষ 2018 সালে ভোটের তালিকায় নাম তোলেন । 2019 সালে প্রথমবার ভোট দেন । তবে 2021 সালে কোনও এক অজানা কারণে ভোটার তালিকা থেকে অনিমেষের নাম বাদ চলে যায় । এরপর অনিমেষ পুনরায় ভোটে নাম তোলার জন্য আবেদনপত্র জমা দেন এবং পরবর্তীকালে তার হিয়ারিং হয় । তবে হিয়ারিং হওয়ার পরেও অনিমেষের নাম ভোটার তালিকায় না-ওঠায় তিনি তৎকালীন সময়ে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের দ্বারস্থ হন । কিন্তু তাঁদের কোনও সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ ৷

যদিও তাঁদের তরফে জানানো হয়, কোনও কারণবশত হয়তো অনিমেষের নামটা বাদ গিয়েছে ৷ তাঁকে আবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে বলা হয় । এরপরই রাজ্যে শুরু হয় এসআইআর ৷ আর এসআইআর শুরুর পরে অনিমেষ বিশ্বাস ফর্ম পাননি ৷ তাই তিনি বিএলও'র কাছে তাঁর ফর্ম না-পাওয়ার ব্যাপারে জানতে চান । তখন স্থানীয় বিএলও তাঁর এপিক নম্বর দেখে অনিমেষকে জানান, এই নম্বরের এসআইআর-এর ফর্ম রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভার মাঠপাড়ার বিএলও'র কাছে আছে ।

voter card controversy
অভিযোগকারী শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা (নিজস্ব ছবি)

স্থানীয় বিএলও'র কথা শুনে অনিমেষ সেখানে যান ৷ সেখানকার বিএলও'র সঙ্গে তাঁর এসআইআর ফর্ম নিয়ে কথা বলেন ৷ তখন ওখানকার বিএলও আবার তাঁকে জানান, তাঁর ফর্ম ইতিমধ্যে ফিল-আপ করে জমা পড়ে গিয়েছে । এটি জমা দিয়েছেন রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভার বস্তা প্রাইমারির মাঠপাড়ার বাসিন্দা অনিমেষ বিশ্বাস নামে আরেকজন ৷ যেহেতু তাঁদের দু'জনের নাম ও বাবার নাম এবং এপিক নম্বর এক, তাই বিএলও ফর্ম রানাঘাটের বাসিন্দা অনিমেষ বিশ্বাসকে দিয়ে দিয়েছেন । তিনি ফর্ম ফিল-আপ করে জমা দিয়ে দিয়েছেন ৷

এই শুনে তো আকাশ থেকে পড়েন শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের হালদারপাড়ার বাসিন্দা এই অনিমেষ বিশ্বাস ৷ তিনি বুঝে উঠতে পারেন না, কী করে এমনটা হল ৷ তাঁর নাম, বাবার নাম থেকে এপিক নম্বর একই কী করে হল দু'জনের ৷ ভারতের নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দা হয়েও তিনি নির্বাচনী বিষয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ ! নিজের নামে এসআইআর-এর ফর্ম না-পাওয়ায় আতঙ্কে তিনি এবং এই নিয়ে চিন্তায় তাঁর পরিবারও ।

পুলিশ পুত্র অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, "এপিক নম্বর কী করে এক হল আমি ভেবে উঠতে পারছি না । আমি ওখানকার বিএলও'কে বলেছিলাম যে, যার বাড়িতে আমার এপিক নম্বরের নাম উঠেছে সেই বাড়িটা একটু চিনিয়ে দিন । উত্তরে বিএলও আমাকে জানান, তিনি আমাকে বাড়িটা দেখালে অসুবিধা আছে ৷ সুতরাং তিনি আমাকে ওই অনিমেষ বিশ্বাসের বাড়ি দেখাতে পারবেন না । আমি সেই শুনে অসহায় হয়ে বাড়ি ফিরে আসি ৷ তবে এখন কী করব বুঝতে পারছি না ৷ আমি চাই অবিলম্বে আমার এপিক নম্বর-সহ এসআইএর ফর্ম আমাকে দেওয়া হোক । কারণ আমার এপিক নম্বর অন্য কেউ ব্যবহার করুক এটা আমি চাই না ।"

অনিমেষ বিশ্বাসের প্রতিবেশী তথা বাসিন্দা সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, "এদের পূর্বপুরুষরা সকলেই ভারতে বসবাস করতেন ৷ এখনও করছেন । ওর দাদু পুলিশে চাকরি করতেন । ওর বাবা বিশ্বজিৎ বিশ্বাস তিনিও পুলিশে চাকরি করতেন । তার ছেলে অনিমেষ বিশ্বাস ভোটে নাম তোলার পরেও সে ভোট দিয়েছে ৷ তার কাছে কার্ড রয়েছে ৷ অথচ তার কার্ড অন্যত্র গেল কী করে? কার গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটেছে সেটা প্রশাসনের দেখা উচিত । অনিমেষের সমস্ত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তার এসআইআর-এর ফর্ম অন্যত্র যায় কী করে ? এই ঘটনার পর থেকেই পরিবারটি আতঙ্কে রয়েছে । আমরা চাই, অন্যায়ভাবে যে ওর এপিক নম্বর ব্যবহার করে এসআইআর-এর ফর্ম ফিল-আপ করেছে তাকে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক ।"

শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান বিকাশ দাস বলেন, "ওর ঠাকুরদা-বাবা পুলিশের চাকরি করতেন ৷ সেই বাড়ির ছেলের ভোটে নাম ওঠার পরেও তার এপিক নম্বর ব্যবহার করে অন্যজন এসআইআর-এর ফর্ম ফিল-আপ করেছে, এটার তদন্ত হওয়া দরকার । আমরা চাই যাতে অনিমেষ বিশ্বাস তার নিজের এপিক নম্বর ব্যবহার করতে পারে ও ভোটার লিস্টে তার নাম উঠুক । যাতে ভারতীয় নাগরিক হয়ে সে যেন ভোট থেকে বঞ্চিত না হয় । এটা নির্বাচন কমিশনের উচিত গুরুত্ব দিয়ে দেখা ।"

বিজেপি নেতা চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, "এই কারণেই তো এসআইআর-এর প্রয়োজন ছিল । এসআইআর না-হলে এরকম হাজার হাজার ঘটনা সামনে উঠে আসত না । এগুলো মূলত তৃণমূল নেতা এবং দালালরা যুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বিভিন্ন মানুষের ভোটার তালিকায় নাম তুলে দিয়েছিল । আর সেই ভোটগুলো পড়ত সব তৃণমূলে । অপেক্ষা করুন আরও বড় বড় ঘটনা সামনে উঠে আসবে ।"