দেদার চলছে জাল পেট্রল তৈরি-বিক্রি, মারাত্মক অভিযোগ উঠলেও নীরব প্রশাসন !
এই ভেজাল পেট্রল তৈরিতে জড়িত কয়েকজনের নামও সামনে এসেছে ৷ তারা সবাই বিহার লাগোয়া ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খোপাকাঠি এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে ৷

Published : July 7, 2026 at 8:14 PM IST
মালদা, 7 জুলাই: এবার জাল পেট্রল কারবারের অভিযোগ উঠেছে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরে ৷ অভিযোগ, বিহার থেকে রাসায়নিক ও সাদা তেল এনে কেরোসিনের সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল পেট্রল ৷ এরপর আসল পেট্রলের সঙ্গে মিশিয়ে তা বিক্রি করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে ৷ আরও অভিযোগ, এলাকার কিছু পেট্রল পাম্পেও এই ভেজাল তেল বিক্রি চলছে ৷
এই মারাত্মক অভিযোগ সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর জুড়ে ৷ বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন সবাই ৷ পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এনিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি ৷ অভিযোগ দায়ের হলেই যথাযথ তদন্ত শুরু হবে ৷
এর আগে হরিশ্চন্দ্রপুরে জাল হলুদ তৈরির ঘটনা ধরা পড়েছে ৷ ধরা পড়েছে জাল চিকিৎসকের কার্যকলাপ ৷ সেসব ঘটনায় উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন ৷ এরই মধ্যে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে ৷ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার যে কোনও অনৈতিক কাজকর্মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে ৷ সেই আবহেই হরিশ্চন্দ্রপুরে এবার উঠে এসেছে জাল পেট্রল বিক্রির অভিযোগ ৷ এলাকাবাসীর প্রশ্ন, এই জাল পেট্রল ব্যবহার করে যানবাহনের ক্ষতি হচ্ছে ৷ প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ৷ কিন্তু প্রশাসনের কাছে কি এর কোনও খবর নেই? যদি না থাকে তবে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ কী করছে?

এলাকার বাসিন্দা তাজাবুল হক বলেন, "আমরা আগেই শুনেছি, এলাকায় জাল পেট্রল তৈরি হচ্ছে ৷ জাল পেট্রল ব্যবহার করলে গাড়ির সমস্যা হবে ৷ যে গাড়ি 10 বছর চলত, সেই গাড়ি দু'বছর চলবে ৷ ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাবে ৷ জাল পেট্রলে গাড়ি চালালে গতি ওঠানামা করে ৷ গাড়ি চলতে চলতে বারবার বন্ধ হয়ে যায় ৷ এই ভেজাল পেট্রল দেখতে একেবারে আসলের মতোই ৷ বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত ৷ আমরা চাই, প্রশাসন ভেজাল পেট্রল বিক্রি বন্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করুক ৷ কেরোসিনের সঙ্গে সাদা তেল আর রাসায়নিক মিশিয়ে এই ভেজাল পেট্রল তৈরি করা হচ্ছে ৷ তার পর 10 লিটার আসল পেট্রলের সঙ্গে পাঁচ লিটার ভেজাল তেল মেশানো হচ্ছে ৷ ভেজাল তেলের গন্ধ কেরোসিনের মতো ৷"
স্থানীয় বিজেপি নেতা ওমপ্রকাশ ঘোষও বিষয়টি নিয়ে নিজের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ৷ তিনি বলেন, "এর আগেও আমরা অভিযোগ পেয়েছি, এলাকায় নকল পেট্রল তৈরি হচ্ছে ৷ আজ নিজের চোখে ভেজাল পেট্রল দেখলাম ৷ কেরোসিনের মতো গন্ধ বেরোচ্ছে, অথচ দেখতে একেবারে পেট্রল ৷ কীভাবে এই পেট্রল তৈরি হচ্ছে তা পাম্প মালিক আর দোকানের মালিকরাই বলতে পারবে ৷ এখানে দোকানেও পেট্রল বিক্রি হয় ৷ যারা এই ভেজাল পেট্রল তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি ৷ আমাদের সরকার যে কোনও অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে ৷ এক্ষেত্রেও অভিযোগ পেলে প্রশাসন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে ৷"

এনিয়ে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের উপর ভরসা করছেন এলাকার তৃণমূল নেতা বুলবুল খানও ৷ তিনি বলছেন, "এর আগে বিষয়টি শুনেছিলাম ৷ আজ দেখলাম ঘটনাটি সত্যি ৷ বর্তমানে আমাদের সরকার যে কোনও বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে ৷ এই ঘটনাটিও নিশ্চিতভাবে প্রশাসন দেখবে৷ ভেজাল পেট্রল গাড়িতে ভরা হলে একদিকে যেমন দূষণ বাড়বে, তেমনই যানবাহন নষ্ট হবে ৷ তাই প্রশাসনের কাছে আমার আবেদন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হোক ৷"
এই বেআইনি কাজকর্মে জড়িত কয়েকজনের নামও সামনে এসেছে ৷ তারা সবাই হরিশ্চন্দ্রপুর 1 নম্বর ব্লকের বিহার লাগোয়া ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খোপাকাঠি এলাকার বাসিন্দা ৷ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "এনিয়ে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি ৷ অভিযোগ দায়ের হলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে ৷ তবু আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করছি ৷"

