'অমানবিক মানসিক অত্যাচার, আর কাজ করব না !' জানাল বিএলও'রা
বিএলও অ্যাপ আপডেট ও নথি যাচাইয়ের কাজ না-করার দাবি ৷ সালানপুর বিডিও দফতরের বাইরে বিক্ষোভ একাংশ বিএলও’র ৷

Published : December 12, 2025 at 7:45 PM IST
আসানসোল, 12 ডিসেম্বর: এসআইআর-এর কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে ৷ কিন্তু, তার মধ্যেও বিএলও-দের প্রতিদিনই নতুন-নতুন কাজ দেওয়া হচ্ছে ৷ আর তার জেরে মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন বিএলও’রা ৷ অমানবিক মানসিক অত্যাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা ৷ তারই প্রতিবাদে এবং আর এসআইআর-এর কাজ না-করার দাবিতে বিডিও দফতরের বাইরে অবস্থান-বিক্ষোভ পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুর ব্লকের একাংশ বিএলও-র ৷
অবস্থান-বিক্ষোভ চালানো বিএলও-রা এ দিন বিডিও-কে জানিয়েছেন, তাঁরা আর নতুন করে কোনও দায়িত্ব নিতে পারবেন না ৷ গত 4 নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এসআইআর-এর কাজ ৷ এসআইআর-এর এন্যুমারেশন ফর্ম ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি পৌঁছে দেওয়া ও তা পুনরায় সংগ্রহ করতে বলা হয় বিএলও-দের ৷ প্রয়োজনে ফর্ম ফিল-আপে সাহায্য করতে বলা হয় বিএলও-দের ৷
পরবর্তী সময়ে বিএলও অ্যাপে সংগ্রহ করা ফর্মের তথ্য ডিজিটাইজড করতে বলা হয় ৷ যা নিয়ে প্রায় সর্বত্রই বিক্ষোভ দেখান একাংশ বিএলও ৷ তবে, বিক্ষোভ-আপত্তি সত্ত্বেও এন্যুমারেশন ফর্মের তথ্য ডিজিটাইজ করেন তাঁরা ৷ এবার বিএলও-দের অভিযোগ, বেশ কিছু ভোটারের ফর্ম আবার নতুন করে পরীক্ষা করা এবং তাঁদের নথি সংগ্রহ করতে বলা হচ্ছে ৷ এখানেই আপত্তি জানিয়েছেন আন্দোলনকারী বিএলও-রা ৷

এছাড়াও, বিএলও অ্যাপে প্রতিদিনই নতুন-নতুন আপডেট আসছে ৷ সেগুলিও আপডেট করার নির্দেশিকা আসছে ৷ যার ফলে বিএলও-রা প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে ৷ শুক্রবার সালানপুর ব্লকের কয়েকজন বিএলও, বিডিও দফতরের সামনে ধরনা, অবস্থান করেন ৷ তাঁদের দাবি, তাঁরা যতদূর কাজ করেছেন, তারপরে আর নতুন করে কোনও কাজ করতে পারবেন না ৷ এই মানসিক চাপ তাঁরা নিতে পারবেন না-বলে জানিয়েছেন ৷
বিএলও চন্দনা সাহা বলেন, "আমাদের প্রথমে ফর্ম দেওয়া এবং ফর্ম জমা নেওয়ার কথা ছিল ৷ সেই কাজ করার পরে ডিজিটাইজেশন করতে বলা হয়েছে ৷ এখন প্রতিদিনই অ্যাপে নতুন-নতুন আপডেট আসছে ৷ সেগুলোকে করতে বলা হচ্ছে ৷ আমরা এক মাস ধরে ভালো করে ঘুমোতে, খেতে পর্যন্ত পারিনি ৷ আর আমাদের নতুন করে কোনও দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয় ৷ আমরা ফর্ম জমা দিয়ে দিয়েছি ৷ এরপর যদি কিছু করতে হয়, সেটা ওনারা করে নিন ৷"
আরেক বিএলও পূর্ণচন্দ্র মাজি বলেন, "আমরা আর কাজ করতে পারব না ৷ আমরা ইতিমধ্যেই যা করার করে দিয়েছি ৷ কিন্তু, তারপরেও নতুন করে আবার ভোটারদের কাছে গিয়ে নথি সংগ্রহ কিংবা তালিকা মিলিয়ে দেখা, এমন নানান নির্দেশিকা আসছে ৷ সময় দেওয়া হচ্ছে খুব কম ৷ ফলে এই সময়ের মধ্যে আর চাপ নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় ৷
সালানপুরের বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস এ নিয়ে বলেন, "নির্বাচন কমিশন যে রকমভাবে নির্দেশিকা দিচ্ছে, আমরা সেটাই বিএলও-দের জানাচ্ছি ৷ এক্ষেত্রে বিডিও হিসেবে আমার খুব একটা বিশেষ কিছু করার নেই ৷ তবুও, বিএলও-দের সঙ্গে আলোচনা করব ৷ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সূত্র বের করে নিয়ে আসতে হবে ৷"

