হাইড্রা মেশিন-লরি এনে জল প্রকল্পের পাইপ চুরি ! স্থানীয়দের তৎপরতায় পর্দাফাঁস
কুলটি জল প্রকল্পের লোহার পাইপ চুরির চেষ্টা ৷ কেন দীর্ঘদিন ধরে আটকে জল প্রকল্পের কাজ, উঠছে প্রশ্ন ৷

Published : December 29, 2025 at 8:51 PM IST
আসানসোল, 29 ডিসেম্বর: দেখে বোঝার উপায় ছিল না চুরি হচ্ছে ৷ দিনের আলোয় একেবারে 25 লাখি হাইড্রা মেশিন এবং 12 চাকার বড় লরি এনে সরকারি জল প্রকল্পের পাইপ তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ৷ তাও আবার আসানসোলের সদা ব্যস্ত ইস্কো বাইপাস রাস্তা থেকে ৷ কিন্তু, পাইপ তুলে নিয়ে যাওয়া লোকেদের গতিপ্রকৃতি দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয় ৷ তারাই কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দেয় ৷ পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ৷ দেখতে চায় পাইপ সরানোর নির্দিষ্ট কাগজপত্র ৷ আর তাতেই ভেস্তে হয়ে যায় পাইপ চুরির পরিকল্পনা ৷
জানা গিয়েছে, জল প্রকল্পের পাইপ সরানোর সরকারি নথি দেখাতে না-পারায় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিনজনকে আটক করে ৷ ফাঁড়িতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করে নেয় চুরির উদ্দেশ্যেই পাইপ সরানো হচ্ছিল ৷ এরপরেই পুলিশ ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে ৷ জানা গিয়েছে, কুলটি এলাকার জল প্রকল্পের জন্য ইস্কো বাইপাস রাস্তার পাশে স্তূপাকৃতি করে রাখা রয়েছে আসানসোল পুরনিগমের ওই পাইপগুলি ৷
রবিবার দিনের আলোয় স্থানীয় মানুষজন দেখেন জল প্রকল্পের জন্য রাখা লোহার ওই পাইপগুলি তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে লরিতে ৷ একেবারে হাইড্রা মেশিন নিয়ে এসে প্রকাশ্যেই পাইপ তুলে নিয়ে যাচ্ছে কয়েকজন ৷ প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হবে হয়তো পুরনিগমই পাইপ সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে ৷ কিন্তু, পাইপ তুলে নিয়ে যাওয়া লোকজনদের গতিপ্রকৃতি সন্দেহজনক হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দেয় ৷
পুলিশের টহলদারি ভ্যান তৎক্ষণাৎ সেখানে পৌঁছায় এবং ঘটনাস্থলে থাকা তিনজনের কাছে নির্দিষ্ট কাগজ দেখতে চায় ৷ তাঁরা কোনও কাগজ দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ ৷ এরপরই পুলিশ তাঁদের আটক করে নিয়ামতপুর ফাঁড়িতে নিয়ে যায় ৷ সেখানে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই তিনজন স্বীকার করেন, যে তাঁরা চুরির উদ্দেশ্যেই পাইপগুলি তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন ৷ এরপরেই কুলটি থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে ৷ আটক করা হয়েছে 12 চাকার লরি ও হাইড্রা মেশিন ৷
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম ইমরান আনসারি (হাইড্রা অপারেটর), ইনজামাম আনসারি (খালাসি) এবং প্রেম চন্দ্র প্রসাদ (লরি চালক) ৷ ধৃত ইমরান এবং ইনজামামের বাড়ি কুলটি থানার নিয়ামতপুর ও সাঁকতোরিয়া এলাকায় ৷ প্রেম চন্দ্র জামুরিয়া এলাকার বাসিন্দা ৷ এই ঘটনায় আর কারা জড়িত আছে এবং এই ঘটনার মূলচক্রী কে, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ ৷

আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (কুলটি) জাভেদ হোসেন বলেন, "ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনায় আর কারা জড়িত আছে, তা জানার চেষ্টা করা হবে ৷ এই পুরো চক্রের হদিশ পেতে চাইছে পুলিশ ৷"
আসানসোল পুরনিগমের মেয়র পারিষদ ইন্দ্রাণী মিশ্র বলেন, "জল প্রকল্পের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ইস্কো বাইপাস রাস্তার পাশে পাইপ রাখা আছে ৷ সেই পাইপ দিনের আলোয় চুরি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ৷ যদিও, পুলিশের তৎপরতায় তা রোখা গিয়েছে ৷ এই কাজ নিঃসন্দেহে পুলিশের একটি বড় সাফল্য ৷"

