ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তেই উত্তাল হাসনাবাদ, রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলের
তৃণমূলের বিক্ষোভে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে থাকে বসিরহাট থেকে হাসনাবাদে যাওয়ার রাস্তা ৷ পরে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ ৷ শুরু হয় যান চলাচল ৷

Published : March 1, 2026 at 8:38 AM IST
বসিরহাট, 1 মার্চ: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তেই তৃণমূলের অবরোধ-বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল উত্তর 24 পরগনার হাসনাবাদ। শনিবার রাতে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান শাসক শিবিরের নেতা-কর্মীরা ৷ চলতে থাকে স্লোগানও।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কুশপুতুলও পোড়ালেন আন্দোলনকারীরা ৷ আন্দোলনের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে স্থানীয় লেবুখালি রোড। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচলও। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতির সামাল দেয়। ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বসিরহাট-হাসনাবাদের সংযোগস্থল লেবুখালি রোডে।
তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দাবি, বিজেপির চক্রান্তে পরিকল্পিতভাবে বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বেছে বেছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথগুলিকে টার্গেট করে নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সাহাপুর 111 নম্বর বুথে প্রায় 400 জন সংখ্যালঘু ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে চূড়ান্ত তালিকা থেকে। বিজেপি ও কমিশনের এই চক্রান্ত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে দাবি তৃণমূলের। এই দাবিকে সামনে রেখেই প্রতিবাদে সামিল হল বাংলার শাসক শিবির ৷

এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে শনিবার সকালে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। আর সেই তালিকা সামনে আসতেই ক্ষোভ-বিক্ষোভ ছড়িয়েছে রাজ্যের নানা প্রান্তে। সময় গড়াতে ক্ষোভের মাত্রা আরও বেড়েছে উত্তর 24 পরগনার বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি থাকা এলাকা-গুলিতে। এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা-গুলি থেকেই উঠেছিল একাধিক অভিযোগ। কখনও এপারে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে উঠেছিল এনুমারেশন ফর্মে কারচুপি করার মতো গুরুতর অভিযোগ। আবার কখনও প্রতিবেশীকে বাবা-মা সাজিয়ে এসআইআরের ফর্ম ফিলাপ করার অভিযোগও উঠেছিল অবৈধ ভোটারের বিরুদ্ধে। সীমান্তবর্তী বসিরহাট মহকুমা থেকেই এই ধরনের অভিযোগ সব থেকে বেশি সামনে এসেছিল এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিএলও'র কাছে। এমন 'সন্দেহজনক' ভোটারকে ডাকাও হয়েছিল শুনানিতে।
এদিকে, ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে দেখা যায়, শুধু বসিরহাট মহকুমা থেকেই বাদ গিয়েছে 16 হাজার 125 জন ভোটারের নাম। বসিরহাটের উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভা মিলিয়ে সংখ্যাটা সাড়ে চার হাজারের একটু বেশি। শনিবার রাতে হাসনাবাদের যে এলাকায় নাম বাদ যাওয়ার জেরে অবরোধ-বিক্ষোভ-আগুন জ্বলেছে সেই এলাকাটিও বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত সাহাপুর 111 নম্বর বুথের মোট 1 হাজার 65 জনের মধ্যে 400 জনকেই 'ডিলিটেড' হিসেবে দেখানো হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়। এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এই বুথের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। সাহাপুর মোড়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন তাঁরা। চলে বিক্ষোভও। ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার নেপথ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে দায়ী করে তাঁর কুশপুত্তলিকায় জুতোর মালা পড়িয়ে 'দাহ' করা হয় । খবর পেয়ে হাসনাবাদ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। শেষে তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা যায়।

সাহাপুর 111 নম্বর বুথের তৃণমূলের সভাপতি শাহজাহান মোড়ল বলেন, "নির্বাচন কমিশন যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে এই বুথের প্রায় 400 জন সংখ্যালঘুর নাম বাদ গিয়েছে। অথচ বুথের 120 জন হিন্দু ভোটারের নাম রয়েছে । সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথ হওয়ার কারণেই এটা করা হয়েছে। এটা বিজেপির পরিকল্পিত চক্রান্ত। এর প্রতিবাদেই আমরা পথে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছি।"
নাম বাদ যাওয়া মদিন বিশ্বাস নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "1 হাজার 69 জন ভোটারের মধ্যে 517 জনের নাম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে ছিল।তার মধ্যে 400 জন ভোটারের নাম হয় 'ডিলিটেড' নতুবা 'বিচারাধীন' হিসেবে লেখা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আমলে একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে না। আমরা সেটা মেনেও নেব না। নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদেই আমরা অবরোধ-বিক্ষোভে সামিল হয়েছি।"
পাল্টা তৃণমূলকে জবাব দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, "তৃণমূল যতই রাস্তায় নেমে আন্দোলন করুক কিংবা এসআইআরের বিরোধীতায় পথে নামুক স্পষ্ট বলে দিতে চাই অবৈধ ভোটারদের নাম কোনওভাবেই থাকবে না ভোটার তালিকায়। একমাত্র বৈধ ভোটারদের নামই থাকবে সেখানে। অবৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় তৃণমূলের খুব জ্বালা।কারণ এঁরাই শাসক দলের ভোট ব্যাঙ্ক। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। বাংলার মানুষ বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে প্রস্তুত।"

