সরতে রাজি ব্যবসায়ীরা, তবু 3 বছরেও তৈরি হয়নি পার্ক সার্কাসের অস্থায়ী পুর-বাজার
কলকাতা পুরনিগমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ব্যবসায়ীদের ৷ কবে হবে অস্থায়ী বাজারের পরিকাঠামো, আর কবেই বা হবে স্থানান্তর, প্রশ্ন বাজার সমিতির ৷

Published : January 11, 2026 at 6:06 PM IST
কলকাতা, 11 জানুয়ারি: বয়সের ভারে জীর্ণ অবস্থা পার্ক সার্কাস পুর-বাজার ভবনের ৷ 2022 সালে বাজারের একাংশের চাঙড় ভেঙে পড়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল ৷ তারপরেই কলকাতা পুরনিগমের তরফে 'বিপজ্জনক' বোর্ড ঝোলানো হয় বাজারের গেটে ৷ পাশাপাশি, বাজারটি ভেঙে নতুন করে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় কেএমসি-র বাজার বিভাগ ৷ পরিকল্পনা ছিল লেক মলের মতো আধুনিক হবে সেই বাজার ৷ আর কাজ চলাকালীন অস্থায়ী ভাবে ব্যবসায়ীদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে পার্ক সার্কাস ময়দানে ৷
সেই পরিকল্পনার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও অস্থায়ী কাঠামো এখনও তৈরি করে উঠতে পারেনি পুরনিগম ৷ এদিকে বাজার স্থানান্তর হচ্ছে, এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন যাবত ক্রেতার সংখ্যা অনেকটাই কমেছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের ৷ এ নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ ৷

তাঁদের কথায়, "আমাদের স্থানান্তর করতে বলা হলেও, যেখানে অস্থায়ী দোকান দেওয়ার কথা, সেখানে কাঠামোই তৈরি করেনি কলকাতা পুরনিগম কর্তৃপক্ষ ৷ এদিকে ক্রেতারা ভাবছেন এই বাজার থেকে দোকানদাররা চলে গেছে ৷ তাই ক্রেতাদের আনাগোনা অনেক কমে গেছে এই বাজারে ৷"
কলকাতা পুুরনিগম সূত্রে খবর, পার্ক সার্কাস পুর-বাজারে সব মিলিয়ে কমবেশি 500টি স্টল আছে ৷ বাজারের বাইরে বেশ কিছু স্টল আছে ৷ 2022 সালে পরিকল্পনা হয়েছিল বাজারটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হবে ৷ বদলে সেখানে আধুনিক মানের মল তৈরি হবে ৷ অনেকটা লেক মলের মতো ৷ শুধু বাজার নয়, সিনেমা-হল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর-সহ আর অনেক কিছু থাকবে এক ছাদের তলায় ৷ সঙ্গে পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল ৷
তবে, কলেজ স্ট্রিটের বর্ণ পরিচয়ের পরিণতি না-হয়, সেই ভেবেই প্রথমে দোকানদাররা বিমুখ ছিলেন এই প্রস্তাবে ৷ অতীতে বাম আমলে একবার একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে আধুনিকীকরণ করার চিন্তাভাবনা করা হলেও, তা বিফলে গেছিল ৷ তবে, দফায়-দফায় আলোচনায় শেষমেষ রাজি হন ব্যবসায়ীরা ৷
কেএমসি কর্তৃপক্ষ প্রস্তাব দিয়েছিল, কয়েক দফায় ব্যবসায়ীদের স্থানান্তর করা হবে ৷ সেই মতো ধাপে ধাপে দোকান দেওয়া হবে। তবে এই প্রস্তাবে রাজি হননি তাঁরা। ব্যবসায়ীরা জানিয়ে ছিলেন একসঙ্গেই সবাই উঠে যাবেন, আবার একসঙ্গেই ফিরবেন ৷ এক জনও আগে পরে করবেন না ৷ সেই প্রস্তাবে রাজি হয় কর্তৃপক্ষ ৷ তবে, ব্যবসায়ীদের সরিয়ে যেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা, সেই পার্ক সার্কাস ময়দানে এখনও তৈরি হয়নি অস্থায়ী বাজারের পরিকাঠামো ৷
এই নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যেই কর্তৃপক্ষের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ৷ এবিষয় পার্ক সার্কাস পুর-বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মহম্মদ ফরিদ বলেন, "আমরা তো প্রস্তুত যাওয়ার জন্য ৷ যেমন আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আমরা সহযোগিতা করেছি ৷ আমরাও চাই বাজারের সংস্কার হোক ৷ আমাদের জানানো হয়েছে, বেসমেন্ট পার্কিং হবে ৷ তারপর একতলা ও দোতলায় আমাদের দোকান দেওয়া হবে ৷ তারপর বাকি যা করার কর্পোরেশন তাদের মতো করবে ৷ কিন্তু প্রশ্ন হল, আমাদের যেখানে অস্থায়ীভাবে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে কোনও পরিকাঠামোই এখনও করেনি ৷"
এ প্রসঙ্গে কলকাতা পুরনিগমের এক আধিকারিক বলেন, "আমরা বিল্ডিং বিভাগের সঙ্গে কথা বলে নতুন নকশা তৈরি করতে বলেছি ৷ মূল ভবনের বেসমেন্ট পার্কিং ও বাকি দু’টি তলা ব্যবসায়ীদের স্টল দেওয়া হবে ৷ তারপর বাকি তলাগুলোর কাজ করানো হবে ৷ তবে, ব্যবসায়ীদের ওঠা ও অস্থায়ী কাঠামো তৈরি নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল ৷ তাই এই কাজ গতি পায়নি ৷ তবে, চেষ্টা করা হবে চলতি বছরেই এই কাজের গতি আনতে ৷ জটিলতা কাটিয়ে অস্থায়ী কাঠামো করে সিদ্ধান্ত মতো ব্যবসায়ীদের স্থানান্তর করে মূল জায়গায় কাজ শুরু করাই লক্ষ্য ৷"

