বাতি নিভলেই মুহূর্তে খবর যাবে কর্পোরেশনে, নয়ডা-চণ্ডীগড়ের পর স্মার্ট হচ্ছে কলকাতা
কলকাতায় চালু হচ্ছে স্মার্ট সিটি স্ট্রিট লাইট সিস্টেম৷ বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই কাজ হবে৷

Published : February 23, 2026 at 9:44 PM IST
কলকাতা, 23 ফেব্রুয়ারি: নয়ডা ও চণ্ডীগড়ের সঙ্গে এবার একসারিতে আসতে চলেছে শহর কলকাতা৷ ওই দুই শহরের মতো এবার মহানগরেও চালু হতে চলেছে স্মার্ট সিটি স্ট্রিট লাইট সিস্টেম৷ যে ব্যবস্থায় রাস্তার কোনও বাতিস্তম্ভে ত্রুটি হলেই সঙ্গে সঙ্গে খবর যাবে কন্ট্রোল রুমে৷ ফলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে কর্পোরেশনের আলোক দফতর।
স্মার্ট সিটি স্ট্রিট লাইট সিস্টেম চালুর জন্য বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছে কলকাতা পুরিগম৷ তারাই এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন কলকাতার মেয়র পারিষদ (আলোক বিভাগ) সন্দীপরঞ্জন বক্সি।

উল্লেখ্য, শহর কলকাতায় প্রায় সাড়ে তিন লাখের বেশি আলোকস্তম্ভ রয়েছে, যা রাতের রাস্তা থেকে অলিগলি আলোকিত করে রাখে। তবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় বাতিস্তম্ভ খারাপ হওয়ার ঘটনায় অন্ধকারে ঢাকে সংশ্লিষ্ট এলাকা বা রাস্তা। কর্পোরেশনের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা প্রায় একাধিক জায়গায় ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, প্রায় 10-12 হাজার ত্রুটি ঘটে মাঝেমধ্যেই। যার বড় অংশ চেষ্টা করা হয় ঘটনার পর পর দ্রুততর সঙ্গে সরিয়ে তোলার। কিন্তু সিংহভাগ খবর পৌঁছায় অনেক দেরিতে। বা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে কয়েকদিন পর। তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কয়েকদিন ধরে বাতিস্তম্ভে আলো খারাপ, এমন অভিযোগ নাগরিক বা পুর-প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রায়ই আসে৷ সঙ্গে থাকে সারিয়ে দেওয়ার আর্জি। এবার নয়া প্রযুক্তি ব্যবহারে সেই সমস্যা মিটবে। আলোকস্তম্ভে ত্রুটি হলে মুহূর্তে খবর যাবে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমে।
এই প্রযুক্তি তৈরি করতে বেসরকারি সংস্থাটি কলকাতার চারটি অংশে স্টেশন তৈরি করবে৷ যেখান থেকে এই প্রযুক্তি কন্ট্রোল করা হবে। সেখান থেকে স্ট্রিট লাইটের উপর নজরদারি রাখা হবে প্রযুক্তির মাধ্যমে। উত্তর-মধ্য, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম এই চারটি জোন করা হবে। আলোকস্তম্ভগুলোতে লাগানো হবে অত্যাধুনিক যন্ত্র।

ইতিমধ্যে যে সংস্থার সঙ্গে কর্পোরেশন হাত মিলিয়েছে, তারা দেশের আরও দুই জায়গায় এই প্রযুক্তির বাস্তবায়নে করেছে। নয়ডা ও চণ্ডীগড়ে। সফল ভাবেই এই প্রযুক্তির বাস্তবায়ন হয়েছে। এবার হবে কলকাতায়। জানা যাচ্ছে, কলকাতায় প্রথম কালীঘাট ও আলিপুর - দু’টি এলাকায় এই প্রযুক্তি ট্রায়াল রান করা হবে। সাফল্য এলেই পরবর্তী পদক্ষেপে কয়েক দফায় গোটা শহরে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে। সংস্থাটি তার ইন্টেলিজেন্ট আরবান এক্সচেঞ্জ মাধ্যমে এই কাজটি করবে। এটার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে 25 শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।
কর্পোরেশনের এক আধিকারিক এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘নয়ডা ও চণ্ডীগড় দু’টি শহরে সাফল্যের মুখ দেখেছে নয়া প্রযুক্তি। তারাই কলকাতায় কাজটি করবে। এখন পুর-প্রতিনিধি বা নাগরিকরা না-জানালে দীর্ঘদিন খোঁজ মেলে না। তাঁরা জানানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। সেই অপেক্ষা আর করতে হবে না। আমাদের কাছে তথ্য চলে আসবে সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্মীদের সতর্ক করে দেব।’’
কলকাতার মেয়র পারিষদ (আলো) সন্দীপরঞ্জন বক্সি বলেন, ‘‘পিকনিক গার্ডেন, কাশীপুর, বিবাদি বাগ, শিয়ালদার মতো বা বাইপাসের বেশ কিছু এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত আলোর অভাব। এই প্রযুক্তি ব্যবহারে সেটা চিহ্নিত করা যাবে। আমরা আগে ট্রায়াল রান করাচ্ছি দু’টি এলাকায়। সফল হলে শহরজুড়ে পরিকল্পনা নেওয়া হবে। আরও আলোকজ্জ্বল হবে রাতের কলকাতা।’’

