ক্যামাক স্ট্রিট-কাণ্ডে অভিষেকের পর এবার ডেরেককে তলব লালবাজারের
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার । 9 নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ে থাকা একটি বিশালাকার বিলবোর্ড খুলতে যান কলকাতা পুরনিগমের বিজ্ঞাপন বিভাগের কর্মীরা ।

Published : August 30, 2026 at 1:58 PM IST
কলকাতা, 30 অগস্ট: ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ের বিশাল বিলবোর্ড খোলা ঘিরে বৃহস্পতিবারের ধুন্ধুমার কাণ্ডের আঁচ এ বার পৌঁছল রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের দরজায় । অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এ বার ডেরেককেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করল কলকাতা পুলিশ । রবিবার সকালে তাঁর প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের বাড়িতে গিয়ে নোটিশ দিয়ে আসে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ । সোমবার তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছে ।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সকাল 9টা নাগাদ ডেরেকের বাড়িতে পৌঁছন শেক্সপিয়র সরণি থানার আধিকারিকেরা । কয়েক বার ডাকাডাকির পরে সাংসদের এক প্রতিনিধি বাইরে আসেন । তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হয় পুলিশের আইনি নোটিশ । ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ডেরেক । পুলিশের সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদ এবং ধস্তাধস্তি হয়েছিল বলেও অভিযোগ । সেই বিষয়েই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ ।
এর আগে শনিবার রাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে সমনের নোটিশ দিয়ে এসেছিল পুলিশ । অর্থাৎ ক্যামাক স্ট্রিট-কাণ্ডে এ বার সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনল কলকাতা পুলিশ ।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার । 9 নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূলের কার্যালয়ে থাকা একটি বিশালাকার বিলবোর্ড খুলতে যায় কলকাতা পুরনিগমের বিজ্ঞাপন বিভাগের কর্মীরা । তাঁদের সঙ্গে ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী । পুরনিগমের দাবি, ওই বিলবোর্ডটি বেআইনি ভাবে লাগানো হয়েছিল । সেটি খুলতেই পুরকর্মীরা গ্যাস কাটার নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন । কিন্তু বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ ও পুরকর্মীদের তুমুল ধস্তাধস্তি শুরু হয় ।
পুলিশের অভিযোগ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয় । এমনকি এক পুলিশ আধিকারিকের সরকারি ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেওয়া এবং আধিকারিকদের মারধরের অভিযোগও ওঠে । পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আরও পুলিশ যায় । পরে পার্ক স্ট্রিট এবং শেক্সপিয়র সরণি থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের হয় । সেই মামলাগুলিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং হুমায়ুন কবীর-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার নাম রয়েছে ।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় 13 জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । এফআইআরে বেআইনি জমায়েত, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া এবং ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারাও যুক্ত করা হয়েছে ।
অন্যদিকে, তৃণমূলের পালটা অভিযোগ, কোনও বৈধ নির্দেশ ছাড়াই পুলিশ ও পুরকর্মীরা জোর করে দলীয় কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন । ঘটনার দিন ডেরেকও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন । তাঁর দাবি ছিল, পুরসভার তরফে যে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তাতে কোনও আধিকারিকের স্বাক্ষর ছিল না এবং নোটিশে ছবি সংযুক্ত থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা ছিল না । তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় আলোচনার পরেও পুলিশ জোর করে ভবনে ঢোকে এবং সিঁড়িতে ধাক্কাধাক্কি হয় । সেই সময় তিনি নিজেও পড়ে যান বলে জানিয়েছিলেন ।
ঘটনাটিকে নিছক প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসাবে দেখতেও রাজি নয় তৃণমূল । ডেরেকের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ওই দিন অভিযান চালানো হয়েছিল । তাঁর দাবি, তৃণমূলের ছাত্র-যুব সমাবেশের ঠিক আগের দিন এই পদক্ষেপের পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে ।
ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড-কাণ্ড ইতিমধ্যেই পুলিশ ও পুরনিগমের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছে তৃণমূল । অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ চাওয়া হলেও আপাতত সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বেঞ্চ । আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র আশঙ্কার ভিত্তিতে কোনও নির্দেশ দেওয়া যায় না । পরবর্তী শুনানিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে । ভবনটির মালিকানা সংক্রান্ত নথিও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত ।
ফলে এক দিকে আদালতে আইনি লড়াই, অন্য দিকে পুলিশের তদন্ত, দুই দিকেই চাপ বাড়ছে তৃণমূলের উপর । অভিষেকের পর ডেরেককে তলবের ঘটনায় সেই চাপ আরও দৃশ্যমান হল । সোমবার ডেরেক পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হলে ক্যামাক স্ট্রিটে ঠিক কী ঘটেছিল, তাঁর ভূমিকা কী ছিল এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের অভিযোগের ভিত্তি কতটা- তা নিয়েই মূলত প্রশ্ন উঠতে পারে । ফলে নজর এখন সোমবারের হাজিরার দিকে ।

