অর্থসচিব প্রভাত মিশ্রকে অতিরিক্ত দায়িত্ব নবান্নের, আরও রদবদলের জল্পনা তুঙ্গে
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের প্রশাসনিক রদবদল ৷ নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন ৷

Published : February 11, 2026 at 2:28 PM IST
কলকাতা, 11 ফেব্রুয়ারি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটাল নবান্ন । এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্রকে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার (P&AR) দফতরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । এতদিন এই দফতরের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা । বুধবার নবান্নের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে ।
প্রশাসনিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে স্বরাষ্ট্রসচিবের ওপর থেকে কাজের চাপ কমাতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জটিলতা সামাল দিতেই এই রদবদল করা হয়েছে । সাধারণত দেখা যায়, কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের জন্য আলাদা কোনও সচিব নিয়োগ করা না-হলে স্বরাষ্ট্রসচিবই সেই অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলান । কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নবান্ন সেই প্রথা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ অসম, কেরল ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলিতে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন । নিয়ম অনুযায়ী, যেসব রাজ্যে নির্বাচন থাকে, সেখানকার আইএএস (IAS) বা আইপিএস (IPS) আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয় না । তবে এবারের চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন । পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের 15 জন আইএএস এবং 10 জন আইপিএস আধিকারিককে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে স্বরাষ্ট্রসচিব জে পি মীনার নামও রয়েছে ।
নির্বাচন কমিশনের এই তালিকার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের তরফে ইতিপূর্বে কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল । নবান্ন অনুরোধ করেছিল যাতে অন্তত নয়জন আইএএস এবং আটজন আইপিএস আধিকারিককে এই তালিকা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় । কিন্তু কমিশন মাত্র কয়েকজনের ক্ষেত্রে সেই আবেদন মঞ্জুর করলেও বাকিদের নাম বহাল রেখেছে । এই পরিস্থিতিতে যদি স্বরাষ্ট্রসচিবকে অন্য কোনও রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে যেতে হয়, তবে নবান্নের প্রশাসনিক কাজের গতি সচল রাখতেই প্রভাতকুমার মিশ্রকে এই গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।
প্রশাসনিক অলিন্দে গুঞ্জন, এই পরিবর্তন কেবল শুরু মাত্র । স্বরাষ্ট্রসচিবকে যদি শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালনে ভিন রাজ্যে যেতে হয়, তবে নবান্নের অন্দরে আরও বড় ধরনের রদবদল ঘটতে পারে । বিশেষ করে নির্বাচনের মুখে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং জেলা স্তরের প্রশাসনেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে । নবান্নের এই পদক্ষেপকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সচিবালয়ের অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে । ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিচ্ছিদ্র এবং গতিশীল রাখতেই মুখ্যমন্ত্রী তথা নবান্নের এই আগাম সতর্কতা ।

