বিজেপি-তৃণমূল আঁতাতে চিড় ধরেছে ! I-PAC নিয়ে কটাক্ষ অধীরের
হারানো জমি ফিরে পেতে নিজের জেলায় বিরাট মিছিল করে জনসভা করলেন অধীর ৷ তাঁর উপস্থিতিতে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন অনেকে ৷

Published : January 10, 2026 at 8:16 PM IST
সামশেরগঞ্জ, 10 জানুয়ারি: বিজেপি-তৃণমূল আঁতাতে কি তবে ফাটল ধরেছে ? আইপ্যাকের দফতরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হানা প্রসঙ্গে শনিবার এমন প্রশ্ন তুলে কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী ৷ সামশেরগঞ্জে জনসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধীর বলেন, "এতদিন ইডি আইপ্যাকে যায়নি ৷ আর পেন ড্রাইভও বের হয়নি ৷ আইপ্যাকে ইডি যেতেই পেন ড্রাইভ বের হয়েছে ।"
আইপ্যাক দফতরে ইডি-র হানার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে কয়লা কেলেঙ্কারির অভিযোগ সম্বলিত পেনিড্রাইভ তাঁর কাছে রয়েছে ৷ সামশেরগঞ্জে মমতাকে কটাক্ষ করে অধীর বলেন, "বাংলার মানুষ কি বিজেপির দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলতে নিষেধ করেছিল? নাকি বিজেপি তৃণমূল আঁতাতে চিড় ধরল ?"
বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে বঙ্গে ৷ এই আবহে নিজের গড় পুনর্দখলে ঝাঁপিয়েছেন অধীর ৷ বিকেলে সামশেরগঞ্জের ডাকবাংলো মোড় থেকে ধুলিয়ান পর্যন্ত বিশাল মিছিল করেন প্রাক্তন কংগ্রেস প্রদেশ সভাপতি ৷ মিছিলে মানুষের ঢল দেখে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে ৷ দলীয় পতাকার পাশাপাশি অধীরের সমর্থনে ব্যানার হাতে স্লোগান দিয়ে মিছিলে যোগ দেন প্রচুর মানুষ ৷
মিছিল শেষে কাঞ্চনতলা গঙ্গা ঘাটে অনুষ্ঠিত হয় কংগ্রেসের জনসভা । সভায় যোগ দেন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কংগ্রেস সমর্থকরা ৷ জনসভায় প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ ৷ তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী, মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতি আলফাজুদ্দিন বিশ্বাস, সামশেরগঞ্জ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি তাশিরুদ্দিন আহমেদ-সহ জেলা ও ব্লক স্তরের অন্যান্য নেতারা ৷ জনসভা শেষে কংগ্রেসে যোগদান করেন তৃণমূলের বহু কর্মী-সমর্থক । তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন অধীর ।
নিজের বক্তব্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা থেকে শুরু করে ওয়াকফ সংক্রান্ত বিষয়, এসআইআর-সহ একাধিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেন অধীর । কড়া ভাষায় একযোগে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, "একদিকে বিজেপির ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি, অন্যদিকে তৃণমূলের দুর্নীতি । এই দুইয়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ আজ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে । হারুক বা জিতুক, কংগ্রেস কখনও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে না ।"
বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্মম আক্রমণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেন অধীর চৌধুরী। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী 'কুমিরের কান্না' কাঁদছেন বলেও কটাক্ষ করেন বহরমপুর কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবার লোকসভায় নির্বাচিক হওয়া সাংসদ। সেই সঙ্গে, ধুলিয়ান পুরসভা এবং সামশেরগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির দুর্নীতি থেকে পঞ্চায়েতগুলিতে অরাজকতার চিত্র তুলে ধরে তৃণমূলের সমালোচন করেন অধীর ৷ পাশাপাশি উন্নয়নের নামে লুট, স্বচ্ছতার অভাব এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা উপেক্ষা করার অভিযোগে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি ৷

