মাদকাসক্ত ভ্যানচালক পুলিশের বন্দুক কেড়ে গুলি চালাল? বারুইপুর-এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন অধীরের
পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তিনি পুলিশি এনকাউন্টারে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তোলেন ।

Published : July 8, 2026 at 3:51 PM IST
বারুইপুর, 8 জুলাই: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে বুধবার দেখা করলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী । পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তিনি পুলিশি এনকাউন্টারে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তোলেন । পুলিশের বয়ান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশ প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন ।
মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশের গুলিতে প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয় । পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল । সেই সময় এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেন এবং গুলি চালান । আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ । সেই গুলিতেই প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক ।
বুধবার দুপুরে বারুইপুরে পৌঁছে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন অধীররঞ্জন চৌধুরী । পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি । পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এনকাউন্টার প্রসঙ্গে পুলিশের দেওয়া ঘটনার বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা । অধীর চৌধুরী বলেন, পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী একজন অভিযুক্ত কীভাবে একজন পুলিশকর্মীর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাতে পারে, তা অত্যন্ত বিস্ময়কর । তিনি ব্যঙ্গের সুরে বলেন, যে ব্যক্তিকে নিয়ে পুলিশের দাবি, তিনি একজন সাধারণ ভ্যানচালক এবং মাদকাসক্ত ছিলেন, তিনি যদি সহজেই পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিতে পারেন, তাহলে রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে ।
তিনি আরও বলেন, যদি পুলিশের দাবি সত্যি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে পুলিশ কীভাবে তা মোকাবিলা করবে, সেই প্রশ্নও সামনে আসে । তাঁর বক্তব্য, "একজন অভিযুক্ত যদি পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হন, তবে দাগি অপরাধী বা জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পুলিশের প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক ।"
শুধু এনকাউন্টার নিয়েই নয়, রাজ্যের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও এদিন সরব হন অধীর চৌধুরী । তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । তাঁর মতে, সরকার বদলালেই সমস্যার সমাধান হয় না, প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভিত আরও শক্তিশালী করা জরুরি । তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, রাজ্য পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার দিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত ।
অধীরের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত শোনা এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রশাসনের দায়িত্ব । মানুষের মনে পুলিশের প্রতি যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে কার্যকরী পদক্ষেপ করা প্রয়োজন ৷

