শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন ও তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়নের পর্ষদের দায়িত্বে অতিরিক্ত জেলাশাসকরা
কোনও জনপ্রতিনিধি উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি পদে থাকতে পারবেন না ৷ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর এই ঘোষণার পরেই বীরভূমের দুই উন্নয়ন পর্ষদ এবার প্রশাসনের দায়িত্ব।

Published : July 6, 2026 at 10:19 PM IST
শান্তিনিকেতন, 6 জুলাই: রাজনীতির বদলে আমলাতন্ত্র। শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদ ও তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি দু'জন অতিরিক্ত জেলাশাসককে দেওয়া হল। এতদিন দুই পর্ষদের নেতৃত্বে সাধারণত সাংসদ, বিধায়ক বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ছিলেন। এবার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে জোর দিতেই সেই ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি হচ্ছেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার, রাজস্ব) শুভম আগরওয়াল। অন্যদিকে, তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পাচ্ছেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) বুলবুল বাগচী। দুই পর্ষদের কার্যকরী বোর্ডে সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, পুলিশ সুপার, মহকুমা শাসক-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে কর্মী সঙ্কট, এক্সিকিউটিভ অফিসারের পদ শূন্য থাকা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বহু কাজ থমকে ছিল ৷ বিশেষত, ইউনেসকো দ্বারা 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' স্বীকৃতি প্রাপ্ত শান্তিনিকেতনের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন ও বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবার কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছিল। নতুন প্রশাসনিক নেতৃত্বে সেই অচলাবস্থা কাটবে ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলির গতি বাড়বে বলেই আশাবাদী বোলপুর-শান্তিনিকেতন ও তারাপীঠ-রামপুরহাটের বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, অতীতে বিশেষত তৃণমূল আমলে দুই পর্ষদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ছিলেন। সেই সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও স্বজনপোষণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ ছিল বিস্তর। এবার প্রশাসনিক আধিকারিকদের হাতে নেতৃত্ব অর্পণের মাধ্যমে দক্ষতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই দিয়েছে রাজ্য সরকার। শেষবার শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি ছিলেন রাজ্যের তৎকালীন কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ ও তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি ছিলেন তৎকালীন বিধানসভার উপাধ্যক্ষ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যে পালাবদলের পর দু'জনেই সেই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ৷ কিন্তু, বিজেপি সরকার আর এই পদে কোন বিধায়ক, সাংসদ বা কোন জনপ্রতিনিধিকে বসাল না ৷ বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, "রাজ্যের নির্দেশ মতোই শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি হচ্ছেন অতিরিক্ত জেলাশাসক শুভম আগরওয়াল ও তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি হচ্ছেন অতিরিক্ত জেলাশাসক বুলবুল বাগচী। সার্বিক উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য।"

