ETV Bharat / state

স্কুল ছাত্রীদের ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় যুবককে কুড়ুল দিয়ে কোপ ! পলাতক অভিযুক্ত

আহত প্রতিবাদী যুবক ও তাঁর কাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । অভিযুক্ত যুবক পলাতক ।

eve teasing
প্রতীকী চিত্র (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 4, 2026 at 3:05 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কালনা, 4 জানুয়ারি: স্কুল ছাত্রীদের ইভিটিজিং করার প্রতিবাদ করায় যুবককে কুড়ুল দিয়ে কোপ মারার অভিযোগ ৷ ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার মহিষমর্দিনী গার্লস ইন্সস্টিটিউশন স্কুলের সামনে । অভিযুক্ত যুবক বাপি রায়ের বিরুদ্ধে কালনা থানার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে । অভিযুক্ত যুবক পলাতক । এদিকে ঘটনায় আহত প্রতিবাদী যুবক সুরাজ সাহা ও তাঁর কাকা পিন্টু সাহা কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাপি রায় নামে ওই যুবক প্রায় দিন স্কুলের সামনে গিয়ে ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে আজেবাজে মন্তব্য করে পালিয়ে যান । স্কুলের শিক্ষিকারা তা নিয়ে স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ করেছেন । এদিন ওই যুবক ফের ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য করায় সুরাজ সাহা নামে স্থানীয় এক যুবক তার প্রতিবাদ করেন । তখন অভিযুক্ত যুবক বাপি রায় পালিয়ে যান ।

কিছুক্ষণ পরে বাপি একটা কুড়ুল নিয়ে এসে সুরাজকে পিছন দিক থেকে কুপিয়ে দেন বলে অভিযোগ । তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন সুরাজের কাকাও । দু'জনকেই ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়ে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । আর ঘটনার পরই সেখান থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত যুবক বাপি রায় ।

আহত যুবক সুরাজ সাহা বলেন, "বাপি রায় প্রতিদিন মেয়েদের স্কুলের সামনে বসে মেয়েদের উত্যক্ত করে । শনিবার সে ফের স্কুলের যাত্রীদের উদ্দেশ্যে খারাপ মন্তব্য করছিল । তখন আমি তাকে এই স্কুলের আশেপাশে আসতে বারণ করি । সেই সময় সে চলে যায় । আমরাও একটু দূরে বসেছিলাম । হঠাৎ সে বাড়ি থেকে একটা কুড়ুল নিয়ে এসে পিছন দিক থেকে আমাকে কোপাতে থাকে । আমার কাকা দেখতে পেয়ে বাঁচাতে এলে তাঁকেও কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে দেয় । এরপর সে পালিয়ে যায় ।"

তিনি আরও বলেন, "বাপি নামে ওই যুবক প্রায় সময় মেয়েদের উদ্দেশ্যে খারাপ মন্তব্য করে ৷ আমরা আশেপাশেই থাকি ৷ ফলে স্কুলের ম্যাডাম আমাদের কাছে অভিযোগ করে, আমাদের শুনতে খারাপ লাগে । সেই কারণে তাকে বারবার বারণ করি । তার উপরে এলাকার লোকজন তার উপরে রেগে আছে । সে আমাদের উপরে হামলা চালিয়েই পালিয়ে যায় । তাকে হাতের কাছে পেলে আজ এলাকার মানুষ মারধর করতো ।"

আহত আরেক ব্যক্তি পিন্টু সাহা বলেন, "হঠাৎ করে কুড়ুল দিয়ে ভাইপোকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে ওই যুবক । আমি বাঁচাতে গেলে আমাকেও কুড়ুলের কোপ মারে । আমরা দু'জনেই আহত হই ।"

স্থানীয় যুবক শ্রাবণ সাহার কথায়, "আমরা বসে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম । হঠাৎ এক যুবক পিছন দিক থেকে সুরাজের উপরে কুড়ুল দিয়ে আঘাত করে । তার কাকা বাঁচাতে গেলে তাকেও কুড়ুলের কোপ মারে । এরপর সে পালিয়ে যায় । সুরাজের মাথায় বেশ কয়েকটা সেলাই পড়েছে ।"