ব্যারিয়ার সরাতেই 12 নম্বর জাতীয় সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা-মৃত্যু! প্রশ্নের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ
স্থানীয়দের দাবি, পুরাতন মালদার নারায়ণপুর এলাকায় গত 10 দিনে অন্তত 10টি দুর্ঘটনা ঘটেছে । তাতে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন 14 জন ।

Published : July 5, 2026 at 4:55 PM IST
মালদা, 5 জুলাই: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে সম্প্রতি 12 নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক পুলিশি ব্যারিয়ার তুলে দেওয়া হয়েছিল । উদ্দেশ্য ছিল, অপ্রয়োজনীয় ব্যারিয়ারের কারণে যান চলাচলে যাতে অযথা বিঘ্ন না-ঘটে । কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই মালদার একাংশে পথদুর্ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে । স্থানীয়দের দাবি, পুরাতন মালদার নারায়ণপুর এলাকায় গত 10 দিনে অন্তত 10টি দুর্ঘটনা ঘটেছে । তাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন 14 জন । এই পরিস্থিতিতে ফের জাতীয় সড়কে ব্যারিয়ার বসানোর দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা ।
কয়েক দিন আগে মালদায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন, 12 নম্বর জাতীয় সড়কে যত্রতত্র পুলিশি ব্যারিয়ার রাখা যাবে না । শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা প্রয়োজনীয় জায়গাতেই ব্যারিয়ার থাকবে । সেই নির্দেশের পর বৈষ্ণবনগর থেকে গাজোল পর্যন্ত জাতীয় সড়কের অধিকাংশ ব্যারিয়ার সরিয়ে নেয় জেলা পুলিশ ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যারিয়ার উঠে যাওয়ার পর থেকেই জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতি অনেক বেড়ে গিয়েছে । আর তার জেরেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে । গত কয়েক দিনের ঘটনাপঞ্জিও সেই আশঙ্কাকেই উস্কে দিচ্ছে বলে দাবি তাঁদের ।

9 জুন নারায়ণপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটে যায় আমবোঝাই একটি লরি । আহত হন চালক । 21 জুন দ্রুতগতির একটি চারচাকা গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় এক বৃদ্ধের । পরের দিনই বেপরোয়া লরির ধাক্কায় আহত হন এক সিভিক ভলান্টিয়ার, জখম হন আরও এক সিভিক কর্মী । 24 জুন টোটো ও মোটরবাইকের সংঘর্ষে আহত হন আট জন । 30 জুন মিশন রোডে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে একটি এসইউভি । ওই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় হরিশ্চন্দ্রপুরের কনুয়া ভবানীপুর হাইস্কুলের এক শিক্ষকের । আহত হন গাড়ির চালক । 2 জুলাই ঝাঁঝরা এলাকায় একটি লরির পিছনে ধাক্কা মারে পাথরবোঝাই ডাম্পার । গুরুতর জখম হন লরিচালক । সর্বশেষ শুক্রবার একটি ডাম্পারের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাঁচটি ছোট গাড়ি ।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, আগে ব্যারিয়ারের কারণে যানবাহনের গতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত থাকত । এখন সেই নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে ।
নারায়ণপুরের বাসিন্দা মোহব্বত শেখ বলেন, "আগে ব্যারিয়ার থাকায় গাড়ির গতি কম থাকত । এখন প্রায় সব গাড়িই বেপরোয়া গতিতে ছুটছে । প্রায় রোজই দুর্ঘটনা ঘটছে । মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, মানুষের প্রাণের কথা ভেবে অন্তত দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে আবার ব্যারিয়ার বসানোর অনুমতি দেওয়া হোক ।"
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক অবশ্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই ৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ আমাদের মানতেই হবে ৷ অনেকে বলতে পারেন, যেসব জায়গায় ব্যারিয়ার ছিল সেখানে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ করা হোক ৷ নিদেনপক্ষে সিভিক ভলান্টিয়ারদের সেখানে রাখা হোক ৷ কিন্তু এমনিতেই জেলায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় ৷ একই পরিস্থিতি সিভিক ভলান্টিয়ারের ক্ষেত্রেও ৷ তাই এই মুহূর্তে এত জায়গায় পুলিশকর্মী কিংবা সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা কিছুতেই সম্ভব নয় ৷ তবু আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছি ৷ বিকল্প ব্যবস্থার সন্ধান চলছে ৷"
ফলে প্রশ্ন উঠছে, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্যারিয়ার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কি উলটে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিল ? নাকি কড়া নজরদারি ও ট্রাফিক আইন কার্যকর করলেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব ? উত্তর খুঁজছে প্রশাসন, আর নিরাপদ জাতীয় সড়কের দাবিতে সরব হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ।

