ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় অভিষেকের পিএ-কে থানায় তলব, সুমিতের বাড়িতে পুলিশের নোটিশ
সুমিত রায়ের নিউ আলিপুরের বাড়িতে রবিবার রাতে পৌঁছয় শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ। এর আগে অভিষেক এবং ডেরেককেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে । মঙ্গলবার হাজিরা অভিষেকের।

Published : August 30, 2026 at 11:06 PM IST
কলকাতা, 30 অগস্ট: ক্যামাক স্ট্রিট-কাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের কাছে পৌঁছচ্ছে পুলিশের নোটিশ। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের পর এবার পুলিশের নজরে অভিষেকের আপ্তসহায়ক তথা PA সুমিত রায়।
রবিবার রাতে সুমিত রায়ের নিউ আলিপুরের বাড়িতে পৌঁছয় শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ। নোটিশ দেওয়ার জন্যই পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। তাঁকে বুধবার শেক্সপীয়ার সরণি থানায় তলব করা হয়েছে।
27 অগস্ট ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের ছাদে থাকা একটি হোর্ডিং সরানোকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কলকাতা পুরনিগমের কর্মীরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে হোর্ডিং সরাতে গেলে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশের অভিযোগ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয় । কয়েকজন পুলিশকর্মী আক্রান্তও হন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এই বিষয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, "সুমিত রায়কে এই ঘটনায় তদন্তকারী আধিকারিক জিজ্ঞাসাবাদ করবেন"।
এই মামলার তদন্তে প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। শনিবার রাতে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে পুলিশের তরফে নোটিশ পৌঁছে দেওয়া হয়। তাঁকে 1 সেপ্টেম্বর দুপুর 12টায় শেক্সপিয়ার সরণি থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এরপর তদন্তের পরিধি আরও বাড়ে। অভিষেকের পর ডেরেক ও’ব্রায়েনের কাছেও পৌঁছে যায় পুলিশের নোটিশ। শনিবার রাতে তাঁর বাড়িতে পুলিশ গেলেও নোটিশ গ্রহণ করা হয়নি বলে খবর। রবিবার সকালে ফের প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের বাড়িতে যায় শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ। পরে নিরাপত্তারক্ষীর হাতে নোটিশ তুলে দেওয়া হয়। ডেরেককে সোমবার থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে।
সুমিত রায় দীর্ঘদিন ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত। ফলে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরকে ঘিরে যে ঘটনার তদন্ত পুলিশ করছে, সেই ঘটনায় তাঁর কাছ থেকেও তথ্য জানতে চাওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে তাঁকে ডাকা হয়েছে এবং কোন কোন বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তা পুলিশের তরফে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা, পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি এবং মারধরের মতো বিষয়। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর।
ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, ক্যামাক স্ট্রিট-কাণ্ডের তদন্তে পুলিশ ধাপে ধাপে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনছে। প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারপর ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং এবার আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। ফলে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে অভিষেকের দফতরকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সুমিত রায়ের বাড়িতে পুলিশের পৌঁছে যাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে সুমিত রায়কে কি এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে ডাকা হয়েছে নাকি শুধুমাত্র তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে সাক্ষী বা তথ্যদাতা হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশের নোটিশে কী রয়েছে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে হোর্ডিং সরানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। তার মধ্যেই একের পর এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে পুলিশের যাতায়াত এবং হাজিরার নোটিশ দেওয়ায় তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আগামী কয়েক দিনে অভিষেক, ডেরেক এবং সুমিত রায়—এই তিনজনের কাছ থেকে পুলিশ কী তথ্য পায়, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।

