‘SIR-এর আসল মানে সাইলেন্ট ইনভিসিবলে রিগিং’, কেন্দ্র-কমিশনকে একযোগে তোপ অভিষেকের
বাংলাদেশ ও মায়ানমারের সীমান্ত ভাগ করে এমন 5 রাজ্য রয়েছে ৷ কিন্তু এই রাজ্যগুলিতে এই SIR হচ্ছে না, একমাত্র বাংলা ছাড়া। কেন? প্রশ্ন অভিষেকের ৷

Published : October 28, 2025 at 7:52 PM IST
কলকাতা, 28 অক্টোবর: ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (স্পেশাল আইডেন্টিফিকেশন রিভিশন বা SIR) চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর তার ঠিক পরদিনই এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কেন্দ্র ও কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও মায়ানমারের সীমান্ত ভাগ করে এমন পাঁচটি রাজ্য রয়েছে, কিন্তু এমন কোনও রাজ্যে এই ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ হচ্ছে না, একমাত্র বাংলা ছাড়া। কেন?”
অভিষেক অভিযোগ করেন, “এই প্রক্রিয়ার নামে আসলে এনআরসি চাপানোর বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। ভোটারদের তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে বৈধ নাগরিকদের বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সীমান্ত ভাগ করে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় রয়েছে। মায়ানমারের সীমান্ত লাগোয়া মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ। তাহলে যদি সত্যিই অনুপ্রবেশ রোধই লক্ষ্য হয়, তাহলে সেখানে এই নিবিড় সংশোধন হচ্ছে না কেন? শুধুই বাংলাকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে এই পদক্ষেপ। এর প্রকৃত উদ্দেশ্য বাঙালিকে 'বাংলাদেশি' বলে অপমান করা।”
কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “যে পাঁচটি রাজ্যে শীঘ্রই নির্বাচন আসছে, সেখান থেকে অসমকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ সেখানে বিজেপি ক্ষমতায়। তাহলে কি বিজেপি-শাসিত রাজ্যে এই সংশোধনের প্রয়োজন নেই?”
প্রক্রিয়ার সময়সীমা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আগে যখন এইধরনের সংশোধন হয়েছিল, সেখানে দুই বছর সময় লেগেছিল। এবার বলছে সব হবে দু’মাসের মধ্যে। এ কীভাবে সম্ভব? এত দ্রুত যে কাজ করা সম্ভব, তা আগে হয়নি।”
তিনি অর্থবহ কটাক্ষ করে বলেন, “ওদের কাছে এই ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ আদতে ভোটার তালিকায় চুপিচুপি কারচুপি করার একটি মাধ্যম। আমি বলি, SIR-এর আসল মানে ‘সাইলেন্ট ইনভিসিবলে রিগিং’।”
বর্তমান ভোটার তালিকাকে ভিত্তিহীন বলার যুক্তিকে খণ্ডন করে অভিষেক বলেন, “এই তালিকাতেই 2024 সালের লোকসভা ভোট হয়েছে। সন্ধানিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী সকলেই নির্বাচিত হয়েছেন এই ভোটার তালিকার ভিত্তিতে। তাহলে যদি এটা ভুল হয়, তবে তাদের আগে ইস্তফা দেওয়া উচিত, তারপর সংশোধনের কথা ভাবুক কমিশন।”
সবশেষে কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, “একজন বৈধ ভোটারের নামও যদি তালিকা থেকে বাদ যায়, তাহলে বাংলার এক লক্ষ মানুষ দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও করবে। দিল্লি পুলিশ এসে আটকাতে চাইলে আটকে দেখাক। বাংলা মাথা নত করবে না।”
তিনি বলেন, “আগে জনগণ ভোট দিত সরকার নির্বাচনের জন্য, এখন সরকার নিজের মতো করে ঠিক করছে কে ভোট দিতে পারবে। এটা গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির উপর আঘাত। বাংলার মানুষ এর জবাব দেবে। ভাষা, জাতি ও পরিচয় নিয়ে চক্রান্ত চললে, তৃণমূল চুপ করে বসে থাকবে না।”

