অপদার্থতম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে অমিত শাহের ব্যর্থতা নিয়ে সরব অভিষেক
‘দেশের ব্যর্থতম ও অপদার্থতম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে অমিত শাহকে তোপ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৷

Published : December 30, 2025 at 7:17 PM IST
কলকাতা, 30 ডিসেম্বর: মঙ্গলবার সকালে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে একহাত নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । এদিন সন্ধ্যায় কলকাতা বিমানবন্দরে তারই পাল্টা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অমিত শাহকে স্বাধীনতার পর ভারতের ‘সবচেয়ে ব্যর্থ ও অপদার্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ বলে তোপ দাগলেন অভিষেক । এদিন কলকাতা বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে অমিত শাহ ও বিজেপিকে কার্যত তুলোধনা করেন তিনি । অভিষেকের স্পষ্ট বক্তব্য, গত 11 বছর ধরে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে ৷ গত 6 বছর ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন অমিত শাহ । এরপরেও যদি দেশে অনুপ্রবেশ সমস্যা থাকে, তবে তার সম্পূর্ণ দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর । এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত বলে দাবি করেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা ৷
এদিন অমিত শাহের বাংলা সফর ও অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত মন্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়ে অভিষেক বিজেপির অন্দরের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশ নিয়ে আমাকে বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জ্ঞান দেওয়ার আগে অমিত শাহের উচিত তাঁর নিজের দলের সাংসদদের কথা শোনা। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ খোদ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী’ এবং ‘পাকিস্তানি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এটা আমার কথা নয়, বিজেপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কথা।”
পাশাপাশি তিনি রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। অভিষেক জানা, জগন্নাথ সরকার দাবি করেছিলেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে বর্ডার বা সীমান্তের কোনও ধারণা থাকবে না। এই ধরনের মন্তব্য করার পরেও কেন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বা শো-কজ করা হয়নি ৷ সেই প্রশ্ন তুলে অমিত শাহের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক । তিনি বলেন, “দিল্লিতে ইজরায়েল দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরণ হল, জম্মু ও কাশ্মীরে দিবালোকে 26 জনকে হত্যা করল জঙ্গিরা। এর দায় কার ? দিল্লি পুলিশ থেকে শুরু করে বিএসএফ—সবই তো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে ৷ সীমান্তে বিএসএফ-এর এক্তিয়ার 15 কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে 50 কিলোমিটার করা হয়েছে । তারপরও কেন অনুপ্রবেশ রোখা যাচ্ছে না ?” তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, "ভোটের আগে পরিযায়ী পাখির মতো নেতারা বাংলায় আসছেন, অথচ মণিপুর বা দেশের সুরক্ষা নিয়ে তাঁদের কোনও হেলদোল নেই।"
এদিন শুধুমাত্র রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, অমিত শাহের বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি অভিযোগ করেন, অমিত শাহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যাল’ বলেছেন যিনি বিশ্বকবির নাম জানেন না, জন্মস্থান জানেন না, তিনি নাকি ‘সোনার বাংলা’ গড়বেন !
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, "অসমে বলা হচ্ছে বাংলা বললে জেলে পোরা হবে । অথচ অমিত শাহ তাঁর পাশে বসেই রাজনীতি করছেন। ভিন রাজ্যে বাঙালিদের দুর্দশার কথা তুলে ধরতে গিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের দুই বিজেপি বুথ সভাপতি—অসিত সরকার ও গৌতম বর্মার উদাহরণ দেন তিনি। অভিষেক জানান, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার অপরাধে মহারাষ্ট্রে তাঁদের জেল খাটতে হয়েছে এবং সেই সময় বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার তাঁদের পাশে দাঁড়াননি।
ভোটার তালিকার নিবিড় বিশেষ সংশোধন অর্থাৎ এসআইআর (SIR)-এর নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করার অভিযোগও তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, মতুয়াদের নাগরিকত্বের মিথ্যে টোপ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনি চ্যালেঞ্জ জানান, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কমিশন তালিকা প্রকাশ করে প্রমাণ করুক যে তাঁরা বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা। সবশেষে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলার তুলনা টেনে অভিষেক বলেন, দিল্লির বাতাসের চেয়ে বাংলার বাতাস অনেক নির্মল। এখানে মানুষ প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারে। তাই বাংলার মানুষকে ভুল বুঝিয়ে কোনও লাভ হবে না।

