ETV Bharat / state

টাকা-চাকরির অফার গিয়েছে, তাই পরিযায়ী শ্রমিকরা অভিষেকের পক্ষ নিল: সুকান্ত

মহারাষ্ট্রে বিজেপির শাসন, তবু সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বালুরঘাটের দুই পরিযায়ী শ্রমিককে জেল থেকে ছাড়ানোর বিষয়ে কিছুই করেননি ৷ এরপরই অভিষেককে আক্রমণ শানান সুকান্ত ৷

SUKANTA SLAMS ABHISHEK
বাঁ-দিক থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে অভিষেক, সুকান্ত মজুমদার (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 8, 2026 at 2:53 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

আসানসোল/বালুরঘাট, 8 জানুয়ারি: মহারাষ্ট্র ফেরত দুই পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে দেখা করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে গিয়ে অভিষেক তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন ৷ শুধু তাই নয়, তিনি বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। দুই পরিযায়ী শ্রমিক ও তার পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, সাংসদ হিসেবে সুকান্ত মজুমদার তাদের জন্য কিছুই করেনি। পাল্টা এই ইস্যুতে অভিষেকের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।

বুধবার রাতে সুকান্ত মজুমদার গিয়েছিলেন আসানসোলে ৷ সেখানে পাল্টা তোপ দেগে বিজেপি নেতা বলেন, "ওই দুই পরিযায়ী শ্রমিককে 2 লক্ষ টাকা আর চাকরি দিয়ে কার্যত নিজের পক্ষে কথা বলিয়েছেন অভিষেক।" সুকান্তের দাবি, তিনিই প্রথম ওই দুই পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারগুলির পাশে ছিলেন।

অভিষেককে আক্রমণ শানান সুকান্ত (ইটিভি ভারত)

রাজ্যে পরিযায়ী ইস্যু- দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের দুই পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকার ও গৌতম বর্মনকে মহারাষ্ট্র পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দাবি করেন, বাংলা ভাষা বলার জন্যই তাদেরকে বাংলাদেশি চিহ্নিত করে মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার করা হয়। অথচ বালুরঘাটের সাংসদ বিজেপি। মহারাষ্ট্রে বিজেপির শাসন। তা স্বত্ত্বেও ওই দু'জনকে জেল থেকে ছাড়ানোর বিষয়ে কিছুই করেননি সুকান্ত মজুমদার।

অভিষেকের বক্তব্যের পাল্টা সুকান্ত- অভিষেক যখন বালুরঘাটে তখন আসানসোলে বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তাঁকে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি কার্যত কোনও 'ডিল' হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যার ফলে ওই পরিযায়ী শ্রমিকরা এখন অভিষেকের সুরে কথা বলছেন। বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে বলেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাদের সঙ্গে দেখা করেছেন তাঁদের ভিডিয়ো তো আমি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছি। তাতে স্পষ্ট যে আমি তাঁদেরকে সাহায্য করেছিলাম। এরপর তাঁদের কাছে কিছু 'অফার' গিয়েছে।"

2 লক্ষ টাকা ও চাকরির 'অফার' গিয়েছে- এরপরই বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ বলেন, "চাকরি দেওয়ার 'অফার' গিয়েছে ৷ 2 লক্ষ টাকা দেওয়ার 'অফার' গিয়েছে। সেই জন্যই তাঁরা ওই পক্ষে (তৃণমূল) রয়েছে। আমার কাছে গরু পাচারের টাকা নেই, কয়লা পাচারের টাকা নেই। ভাইপো (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়)-র কাছে আছে। আমি যদি দিতে পারতাম। ওরা আমাদের পক্ষে (বিজেপি)-ই হয়ে কথা বলত।" তবে সুকান্ত মজুমদার এদিন দাবি করেন, বালুরঘাটের মানুষ তাঁর সঙ্গেই আছেন।

SUKANTA SLAMS ABHISHEK
পরিযায়ী শ্রমিকরা অভিষেকের সঙ্গে (ইটিভি ভারত)

অভিষেক 'চুনোপুটি'- তাঁর কথায়, "আমাকে হারাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় 2 বার গিয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছেন 4 বার। দেব গিয়েছেন 2 বার। বাবুল সুপ্রিয়, ব্রাত্য বসু-সহ তৃণমূলের বহু নেতা-মন্ত্রী বালুরঘাটে গিয়েছেন ৷ উদ্দেশ্য ছিল আমাকে হারানো। বালুরঘাটের জনগণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 2 গোলে 2টি থাপ্পড় দিয়ে 'নন্দলাল' বানিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।" অভিষেকের উদ্দেশে সুকান্ত মজুমদারের টিপ্পনী, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 4 বার সভা করে আমাকে হারাতে পারেনি। তুই কোন চুনোপুটি!"

SUKANTA SLAMS ABHISHEK
আসানসোলে সুকান্ত মজুমদার (ইটিভি ভারত)

অভিষেক ফ্যাশন শোয়ে হাঁটেন- বালুরঘাটে দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেন, "সুকান্ত মজুমদার মানুষের পাশে থাকেন না, উনি ফ্যাশন শো-য়ে হাঁটেন।" এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সুকান্ত মজুমদার বলেন, "আমার এলাকার মানুষ জানেন আমি কোথায় হাঁটি। ব়্যাম্পে তো উনি হাঁটেন। আমি আজকে চ্যালেঞ্জ করছি, উনি তো গরিবের বাড়িতে গিয়েছেন। ওনাকে বলতে বলুন, উনি কোন ব্র‍্যান্ডের জামা, প্যান্ট, জুতো পরে গিয়েছেন। আমি আমারটা বলতে পারব। তাহলেই বোঝা যাবে গরিবের পাশে কে থাকে।"

বালুরঘাটে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড- বুধবার বালুরঘাট সফরে আসেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে তপন বিধানসভার পতিরাম থানার লক্ষ্মীপুরে পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকারের বাড়িতে পৌঁছন। সেখানেই ছিলেন গঙ্গারামপুরের পুলিন্দার পরিযায়ী শ্রমিক গৌতম বর্মন। তাঁদের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দেন ৷

এদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারের দুর্দশার কথা শোনেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তাঁরা বলেন, "বাড়ির লোককেও ফোন করতে দেওয়া হয়নি তাঁদের। পরবর্তীতে খোঁজ খবর করে বাড়ির লোক মহারাষ্ট্র পুলিশের সঙ্গে কথা বললে অসিতের পরিবারকে টাকা নিয়ে যেতে বলেন।" সবশুনে এদিন অভিষেক অসিতদের আর মহারাষ্ট্র যাওয়ার দরকার নেই বলেই জানিয়েছেন। অসিতের দুই ছেলেকে কর্মক্ষেত্রে সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দেন। যে কোনও প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ ৷