দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নজির, প্রায় আট বছরের পুরনো লিডলেস পেসমেকারের সফল অপসারণ
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই প্রথম এত পুরনো লিডলেস পেসমেকার সফলভাবে বের করা হল । বিশ্বে এমন ঘটনা সম্ভবত দ্বিতীয়বার ঘটল বলেও দাবি ৷

Published : March 3, 2026 at 7:32 PM IST
সৌমিতা ভট্টাচার্য
কলকাতা, 3 মার্চ: আলিপুরের কাছে এক বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগ চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য মিলেছে । 79 বছর বয়সি এক রোগীর শরীর থেকে সাত বছর আট মাস আগে বসানো একটি লিডলেস পেসমেকার সফলভাবে অপসারণ করে, তার জায়গায় নতুন প্রজন্মের আভেইর ভিআর (Aveir VR) লিডলেস পেসমেকার বসানো হয়েছে । হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই প্রথম এত পুরনো লিডলেস পেসমেকার সফলভাবে বের করা হল । বিশ্বে এ ধরনের ঘটনা সম্ভবত দ্বিতীয়বার ঘটল বলেও দাবি করা হয়েছে ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, 2018 সালে ওই রোগীর শরীরে প্রথম লিডলেস পেসমেকার বসানো হয় । তার আগে তাঁর একাধিক হৃদরোগজনিত সমস্যা ছিল । বাইপাস সার্জারি ও অন্যান্য চিকিৎসার পর তাঁর হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে ধীর হয়ে যায়, যাকে ব্র্যাডিআরিথমিয়া বলে । সেই কারণেই পেসমেকার বসানোর প্রয়োজন হয় । এর আগে বসানো একটি সাধারণ ট্রান্সভেনাস পেসমেকার সংক্রমণের কারণে খুলে ফেলতে হয়েছিল । পরে ডান ভেন্ট্রিকলে লিডলেস পেসমেকার বসানো হয় এবং দীর্ঘদিন সেটি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল ।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেই পেসমেকারের ব্যাটারি শেষ হওয়ার সতর্কবার্তা পাওয়া যায় । সাধারণত লিডলেস পেসমেকার বসানোর কয়েক বছরের মধ্যে বদলানো তুলনামূলক সহজ । কিন্তু 7-8 বছর পর সেটি অপসারণ করা বেশ জটিল । কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিভাইসটির চারপাশে টিস্যু গঠন হয় এবং সেটি হৃদপেশির সঙ্গে শক্তভাবে জুড়ে যায় । ফলে অপসারণের সময় ছিদ্র হওয়া বা অন্য জটিলতার ঝুঁকি থাকে ।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অনিল মিশ্রর নেতৃত্বে চিকিৎসক দল সিদ্ধান্ত নেয়, পুরনো ডিভাইসটি শরীরে রেখে নতুনটি বসানো হবে না । বরং অস্থায়ী পেসিং সহায়তার ব্যবস্থা করে পুরনো ডিভাইসটি বের করে একই জায়গায় নতুনটি বসানো হবে । অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং একবারের চেষ্টাতেই পুরনো পেসমেকারটি সফলভাবে অপসারণ সম্ভব হয় । এরপর নতুন ডিভাইসটি সেখানে প্রতিস্থাপন করা হয় । অস্ত্রোপচারের পর পরীক্ষায় সবকিছু স্বাভাবিক পাওয়া গিয়েছে । বর্তমানে রোগী সুস্থ আছেন ।
চিকিৎসক অনিল মিশ্র জানান, জাপান ও মালেশিয়াতে এ ধরনের যে ক’টি ঘটনা ঘটেছে, সেগুলিতে ডিভাইসের বয়স ছিল মাত্র দুই থেকে চার বছর । তাই এত দীর্ঘ সময় পর সফল অপসারণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল । তাঁর মতে, এই সাফল্যের ফলে ভবিষ্যতে হৃদযন্ত্রের ভেতরে একাধিক ডিভাইস জমে থাকার ঝুঁকি কমবে । একাধিক ডিভাইস থাকলে পারস্পরিক হস্তক্ষেপ বা অন্যান্য জটিলতার আশঙ্কা থাকে । তাই এই অগ্রগতি লিডলেস পেসমেকার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা ।

