হেরিটেজ টয়ট্রেনের টানে গত 54 বছর ধরে শৈলরানিতে জাপানি পর্যটকের দল
জাপানি পর্যটক দলে রয়েছেন টোকিয়োর বাসিন্দা সিইয়া সুগাওয়ারা ৷ এ নিয়ে 36 বার টয়ট্রেন দেখতে শৈলরানিতে 84 বছরের এই বৃদ্ধ ।

Published : January 7, 2026 at 5:43 PM IST
দার্জিলিং, 7 জানুয়ারি: হেরিটেজ টয়ট্রেনের টানে দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা। শৈলরানির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে অন্তত একবার পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে টয়ট্রেনে চেপে সেই প্রকৃতির মাধুর্য উপভোগ হাতছাড়া করতে চান না কেউই ।
গত 54 বছর ধরে শুধু দার্জিলিংয়ের হেরিটেজ টয়ট্রেনের টানে সুদূর জাপান থেকে ছুটে আসে একদল পর্যটকরা। আর তাঁদের টয়ট্রেনের প্রতি এই ভালোবাসা একটা আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে ৷ ধোঁয়া ওঠা ইঞ্জিনের টানে বারবার জাপানের একদল মানুষ ফিরে আসেন পাহাড়ের কোলে। ভালোবাসা দেখে প্রতিবার এই জাপানি পর্যটকদের হৃদয় থেকে স্বাগত জানায় দার্জিলিং হিমালয়ান রেল কর্তৃপক্ষও ৷
1971 থেকে 2025 সাল ৷ গত 54 বছরে কখনও এক বছর অন্তর, কখনও দু’বছর পর দার্জিলিং ছুটে আসেন জাপানি পর্যটকরা ৷ তাঁদের কাছে শীতে পাহাড়ের রানি দার্জিলিংয়ের নৈসর্গিক দৃশ্যের আকর্ষণই আলাদা । কিন্তু তাঁদের আসল টান পাহাড়ের 'খেলনা গাড়ি'। প্রতিবারই জাপান থেকে বুকিং আসে ডিএইচআরের কাছে ৷ এই বছরের শুরুতেও জাপান থেকে বুকিং পায় দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) ৷

মোটা টাকা দিয়ে এনজেপি স্টেশন থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত চাটার্ড ট্রেন ভাড়া করেছিল জাপানের বিদেশি পর্যটকদের ওই দলটি । কিন্তু অদ্ভুতভাবে তাঁদের কেউ সেই ট্রেনে ওঠেননি। আবার যাত্রাপথ টয়ট্রেনে চেপেও গেলেন না ৷ ডিজেল ইঞ্জিন নয়, তাঁদের পছন্দ কয়লাচালিত স্টিম ইঞ্জিনই। তাঁদের দাবি মেনে নিয়ে স্টিম ইঞ্জিনের ওই ট্রেন দেওয়া হয়। হুইস্ল বাজতেই উৎসাহের অন্ত নেই বৃদ্ধ পর্যটকদের ৷
পাহাড়ি রেলপথে কীভাবে এঁকেবেঁকে টয়ট্রেন ছুটছে, সে দিকে তাকিয়ে সকলেই । যাত্রাপথে স্টিম ইঞ্জিনের নস্টালজিয়ার সঙ্গে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ক্যামেরাবন্দি করে গিয়েছেন জাপানি পর্যটকরা। জাপানের পর্যটকদের এই দলে প্রতি বছর কিছু নতুন মুখ যোগ দেন ৷ কিন্তু সকলেই বয়স্ক ৷ প্রত্যেকের গলায় থাকে ক্যামেরা। টয়ট্রেনের প্রতিটা মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন তাঁরা। প্রতিবারের মতো জাপানি পর্যটকদের জন্য এবারও বিশেষ ব্যবস্থা করেছিল ডিএইচআর। মঙ্গলবার দুপুরে কার্শিয়াংয়ে পর্যটক দলটিকে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ৷ তাঁদের স্বাগত জানান ডিরেক্টর রিশভ চৌধুরী। মেনুতে ছিল সুস্বাদু নেপালি খাবার। জাপানি পর্যটকদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা জানতেই এই আয়োজন করা হয়েছিল।
জাপানি পর্যটক দলে ছিলেন টোকিয়োর বাসিন্দা সিইয়া সুগাওয়ারা ৷ এ নিয়ে 36 বার টয়ট্রেন দেখতে ভারতে এসেছেন 84 বছরের এই বৃদ্ধ । এ বার 6 বন্ধুকেও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন তিনি । সিইয়ার সুগাওয়ারা বলেন, ‘‘আমার এখন অনেক বয়স হয়েছে । এবারই হয়তো আমার শেষ দার্জিলিং সফর। তবে বেঁচে থাকলে আবার পরের বছরের শুরুতে দার্জিলিং আসার চেষ্টা করব। যতবার এসেছি টয়ট্রেন আর দার্জিলিংকে নতুন করে দেখেছি । দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের আতিথেয়তায় আমরা মুগ্ধ।"
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর রিশভ চৌধুরী বলেন, "জাপান থেকে অনেকে নিয়মিত পাহাড় বেড়াতে আসেন। প্রতিবারই টয়ট্রেন ভাড়া করেন । দেশে ফিরে ডিএইচআর নিয়ে প্রচারও করেন। তাই রেল কর্তৃপক্ষও তাঁদের জন্য একটি বিশেষ আয়োজন করেছিল । এই দলটি টয়ট্রেন দেখতে খুবই ভালোবাসে ৷ কীভাবে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে ট্রেন ছুটে চলে, তা উপভোগ করেন ৷ প্রতিবার নতুন নতুন মুখ থাকে। সেই 1971 সাল থেকে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের সঙ্গে এই পর্যটকদের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ।"

দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত বর্তমানে আটটি জয় রাইড চলে । কিন্তু শীতের মরশুমে পাহাড়ে পর্যটকদের মধ্যে টয়ট্রেনে চড়ার চাহিদা বাড়ে । এক মাস আগে থেকেই টয়ট্রেনের সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে যায় । ফলে অনেক পর্যটকই টয়ট্রেনের সফর উপভোগ করতে না-পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যান । তাই এবার দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত চারটি অতিরিক্ত জয় রাইড পরিষেবা চালু করেছে ডিএইচআর।

