পানিহাটির পর ইলামবাজার! SIR আতঙ্কে চরম পদক্ষেপ বৃদ্ধের, অভিযোগ পরিবারের
মৃতের নাম ক্ষিতীশচন্দ্র মজুমদার৷ বয়স 95 বছর৷ এই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে৷

Published : October 30, 2025 at 2:56 PM IST
ইলামবাজার (বীরভূম), 30 অক্টোবর: পানিহাটির পর কি এবার ইলামবাজার! বীরভূমের এই এলাকায় ক্ষিতীশচন্দ্র মজুমদার নামে 95 বছরের এক বৃদ্ধের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে৷ পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কে চরম পদক্ষেপ করেছেন ওই বৃদ্ধ৷
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই বৃদ্ধের বাড়িতে যায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল৷ পরে যান অনুব্রত মণ্ডলও৷ তারা এই ঘটনায় বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেছে৷ অন্যদিকে বিজেপিও পালটা এর জন্য তৃণমূলকেই কাঠগড়ায় তুলেছে৷ এদিকে এই ঘটনায় আতঙ্কিত ক্ষিতীশচন্দ্রের মেয়ে ও নাতনি৷ তাঁদের প্রশ্ন, তাঁদেরও কি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে? তাঁদেরও কি পাঠিয়ে দেওয়া হবে বাংলাদেশে?
ইলামবাজারে বৃদ্ধের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে বীরভূমের ইলামবাজারের স্কুলবাগান সুভাষপল্লীর একটি বাড়ি থেকে এক বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার হয়৷ মৃতের নাম ক্ষিতীশচন্দ্র মজুমদার (95)৷ যে বাড়ি থেকে দেহটি উদ্ধার হয়, সেটি মৃতের মেয়ের বাড়ি৷ সেখানে গত পাঁচমাস ধরে তিনি থাকছিলেন৷ মৃতের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত তোড়াপাড়া গ্রামে৷
এদিন, তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে ইলামবাজার থানার পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়৷ ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে৷ বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং বলেন, "ইলামবাজারে একটা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর থেকে পুলিশ সেখানে আছে। এখনও পর্যন্ত পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ হলে আপনাদের জানাব।"

অস্বাভাবিক মৃত্যুর নেপথ্যে SIR আতঙ্ক!
এই ঘটনার নেপথ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) দায়ী বলে পরিবারের অভিযোগ৷ তারা জানিয়েছে, 1971 সালে ওপার বাংলা থেকে সপরিবারে এপার বাংলায় চলে এসেছিলেন ক্ষিতীশচন্দ্র মজুমদার৷ তার পর তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা হন৷ পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন৷ কিছু কাল আগে তাঁর স্ত্রী প্রয়াত হয়েছেন। মেয়ে পুতুল বিশ্বাসের বিয়ে হয়েছে বীরভূমের ইলামবাজারের স্কুলবাগান সুভাষপল্লীতে। পাঁচ মাস আগে মেয়ের বাড়িতে এসেছিলেন ওই বৃদ্ধ৷
পরিবারের দাবি, 2002 সালে ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না৷ পরবর্তীতে যদিও ভোটার তালিকায় নাম ওঠে৷ বেশ কয়েকবার ভোটও দিয়েছেন৷ বেশ কয়েকবার ভোটও দিয়েছেন৷ এসআইআর আবহে 2002 সালে ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, এই গুঞ্জনে আতঙ্কগ্রস্ত ছিলেন ওই বৃদ্ধ৷

আর সেই আতঙ্কেই 29 অক্টোবর রাতে ফ্যানের সঙ্গে দড়ি ঝুলিয়ে নিজের জীবন শেষ করেন৷ তাঁর মেয়ে পুতুল বিশ্বাস বলেন, "কয়েকদিন ধরে সবাই বলাবলি করছে এনআরসি, এসআইআর, সেই থেকে একটা ভয় ঢুকে গিয়েছিল বাবার মনে৷ বলত না বাবা কিছু৷ তবে মনে মনে ভয় ছিল আবার যদি আমাদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়৷ সেই আতঙ্কেই গলায় দড়ি দিয়েছে।"
মৃতের নাতনি হীরুবালা মজুমদার বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে মোদি সরকার যে এসআইআর শুরু করেছে ওই নিয়েই দাদু আতঙ্কে ছিল। চিন্তা করছিল 2002 সালে ভোটার লিস্টে দাদুর নাম যদি না থাকে, আর যা নথি চেয়েছে, সেগুলো নেই দাদুর কাছে৷ অনেকটা বয়স হয়ে গিয়েছে, দাদুকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে, দাদু কোথায় যাবে, এই টেনশনেই দাদু নিজের জীবন শেষ করে দিলেন৷"

তিনি আরও বলেন, "দু’দিন আগেই দাদু ফোনে বলছিল সবাই যে বলাবলি করছে এসআইআর নিয়ে, এগুলো কি সত্যি? তাহলে আমার কি হবে? দাদু প্রথম থেকে ভোটের কার্ড করেনি, তাই আতঙ্কে ছিল।" এখন তাঁরাও আতঙ্কিত৷ তাঁদের আশঙ্কা, তাঁদেরও নাম বাদ পড়তে পারে৷ তাহলে কি তাঁদেরও বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, প্রশ্ন হীরুবালার৷
মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তৃণমূল ও বিজেপির
বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের 11টি রাজ্যে ভোটার তালিকায় এসআইআর-এর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন৷ তারপরেই উত্তর 24 পরগনার পানিহাটির বাসিন্দা প্রদীপ করের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়৷ অভিযোগ, এনআরসি আতঙ্কে তিনি নিজেই নিজের জীবন শেষ করেছেন৷ যা নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতের বাড়িতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পানিহাটির পর বীরভূমের ইলামবাজারের ঘটনাতেও এসআইআর-কেই দায়ী করা হচ্ছে৷ ফলে এই ঘটনাতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা৷ এই নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়৷ পাশাপাশি ঘটনাস্থলে যান তৃণমূলের বীরভূম জেলা কোর কমিটির সদস্য রবি মুর্মু, ইলামবাজার ব্লক সভাপতি ফজলুল রহমান ওরফে তরুর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল৷ কথা বলেন শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে৷

রবি মুর্মু বলেন, "এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে। বিজেপি সরকার যেভাবে এত তড়িঘড়ি পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর করছে তাতে মানুষজন আতঙ্কে আছে৷ আরও অনেকে নিজের জীবন শেষ করতে পারে এই ভয়ে৷ এর জন্য দায়ী কিন্তু বিজেপি সরকার। 2014 সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিজেপি সরকার মানুষকে আতঙ্কে রেখেছে, কখনও নোটবন্দি করছে, বাংলা কথা বললে মারছে, মেরে ফেলছে৷ এখন এসআইআর করে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।"
পরে সেখানে যান তৃণমূলের বীরভূম জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। কথা বলেন শোকার্ত পরিজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, "এলাম, কথা বললাম। যা বলার রাজ্য থেকে বলবে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, দেখছেন৷ যাঁদের বাড়িতে মৃত্যু হয়, তাঁদের কীভাবে আশ্বাস দেব৷ দল পাশে আছে, এটুকুই বলতে পারি।"
বিজেপির পালটা অভিযোগ, এর জন্য দায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, "এসআইআর শুধু পশ্চিমবঙ্গে হচ্ছে না, বাকি রাজ্যে তো কই লোক মারা যাচ্ছে না৷ এখন যেই মারা যাবে তৃণমূল বলবে এসআইআর-এ যাচ্ছে৷ ওরাই এই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে৷ ওরাই দায়ী৷ কেউ মারা গেলেই দেখবেন তৃণমূল নেতারা তাদের বাড়িতে চলে যাচ্ছে৷ পরিবারের লোককে টাকা দিয়ে বলাচ্ছে এসআইআর-এর জন্য মারা যাচ্ছে বলতে৷ এটা নতুন পন্থা।"
আরও পড়ুন - |
| আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয়: যদি আপনার মধ্যে কখনও আত্মহত্যার চিন্তা মাথাচাড়া দেয় বা আপনার কোনও বন্ধু বা পরিচিত এই সমস্যায় জর্জরিত হন, তাহলে ভেঙে পড়বেন না। জানবেন, এমন কেউ আছে যে আপনার যন্ত্রণা, আপনার হতাশা ভাগ করে নিতে সদা-প্রস্তুত। আপনার পাশে দাঁড়াতে তৎপর। সাহায্য পেতে দিনের যে কোনও সময়ে 044-24640050 এই নম্বরে কল করুন স্নেহা ফাউন্ডেশনে। টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশাল সায়েন্সের হেল্পলাইন নম্বরেও (9152987821) কল করতে পারেন। এখানে ফোন করতে হবে সোমবার থেকে শনিবার সকাল 8টা থেকে রাত 10টার মধ্যে। |

