ETV Bharat / state

বিশ্বমানের 430 স্কুল, খরচ 2500 কোটি ! আরও শিক্ষক নিয়োগের ইঙ্গিত ব্রাত্যর

এডিবি-র হাত ধরে স্কুল শিক্ষায় বিপ্লব! প্রতিটি ব্লকে একটি করে এবং অনগ্রসর 87টি ব্লকে দু’টি করে স্কুলে স্মার্ট ল্যাব থেকে ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা !

bratya basu
ব্রাত্য বসু (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 26, 2026 at 8:06 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 26 ফেব্রুয়ারি : রাজ্যের স্কুল শিক্ষায় আমূল বদলের ডাক। এক লাফে 430টি সরকারি স্কুলকে ‘মডেল স্কুল’-এ রূপান্তরের মেগা পরিকল্পনায় সিলমোহর দিল নবান্ন । বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নতুন প্রকল্পর ঘোষণা করে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, 'এনহ্যান্সিং স্কুল এডুকেশন ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল' নামে এই কর্মসূচিতে খরচ হবে প্রায় 2,500 কোটি টাকা । অর্থের 70 শতাংশ দেবে Asian Development Bank (এডিবি), বাকি 30 শতাংশ বহন করবে রাজ্য সরকার ।

নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র দীর্ঘদিনের ভাবনা থেকেই এই প্রকল্প । লক্ষ্য— শুধু পরিকাঠামো নয়, পাঠদানের ধরনেও যুগান্তকারী বদল নিয়ে আসা । রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে একটি করে এবং অনগ্রসর 87টি ব্লকে দু’টি করে স্কুল বেছে নেওয়া হয়েছে । এজন্য মোট 430টি স্কুলের খোলনলচে বদলে ফেলে সেগুলিকে বিশ্বমানের শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে ।

শুধু তাই নয়, ইঙ্গিত মিলেছে শিক্ষক নিয়োগেরও । নির্দিষ্ট সংখ্যা স্পষ্ট না করলেও এদিন ব্রাত্য বসুর ইঙ্গিত, বড় পরিসরে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে ।

কী কী সুবিধা থাকছে এই মডেল স্কুলে ?

স্মার্ট ক্লাসরুম, পরিবেশবান্ধব নতুন ভবন, অত্যাধুনিক বিজ্ঞান গবেষণাগার ও ডিজিটাল ল্যাব । লাইব্রেরি ও খেলাধুলার পরিকাঠামোতেও জোর দেওয়া হচ্ছে । বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের জন্য র‌্যাম্প ও আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে । শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, জাতীয় স্তরের নানা সমীক্ষায় বাংলার শিক্ষা পরিকাঠামো ইতিমধ্যেই প্রথম সারিতে । এবার লক্ষ্য, সেই মানকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়া ।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত, ভাষাগত বাধা ভাঙা । শিক্ষামন্ত্রী জানান, 430টি স্কুলেই বাংলা ও ইংরেজি— দুই মাধ্যমেই পাঠদান হবে ।

অভিভাবকদের একাংশের আশঙ্কা, ইংরেজি মাধ্যমে না পড়লে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়তে হয় । সেই উদ্বেগ কাটাতেই দ্বিভাষিক মডেল । পাশাপাশি একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা মেনে STEM শিক্ষায় জোর, মাধ্যমিক স্তর থেকেই ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের সুযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে । পড়াশোনার ঘাটতি পূরণে ‘লার্নিং এনহান্সমেন্ট প্রোগ্রাম’ (LEP) ও ব্রিজ কোর্স চালু হবে । এছা়ড়াও শিক্ষকদের জন্য থাকবে ‘টিচার প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট’ (TPD) মডিউল ।

মূলত যে স্কুলগুলোর অবস্থা তুলনামূলক দুর্বল, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী 5 বছরের মধ্যে এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে । এর মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার শুধু বহিরঙ্গ নয়, অভ্যন্তরীণ পঠনপাঠন পদ্ধতিতেও এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদী সরকার । এডিবি-র সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে কেন্দ্রের ছাড়পত্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এটি একটি টেকনিক্যাল বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সব নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে।

আরও পড়ুন:

বিশ্বকাপে ব্রাত্য গিল, অফ-ফর্ম না কম্বিনেশন; মতপার্থক্য আগরকর ও সূর্যকুমারের

শিক্ষক নিয়োগে অতিরিক্ত সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসএসসি, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী