ETV Bharat / state

নেপালে বাংলা থেকে নিখোঁজ একজনের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত 21 অগস্ট ওই 32 জন পর্যটকের দলটি নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। বুধবারই ঘটে যায় চরম বিপর্যয়।

SUVENDU ADHIKARI CONCERN ON NEPAL
নেপালে নিখোঁজ বাংলার পর্যটকরা (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 27, 2026 at 4:13 PM IST

|

Updated : August 27, 2026 at 4:36 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 27 অগস্ট: প্রকৃতির রুদ্ররোষে বিধ্বস্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। ভয়াবহ হড়পা বানে কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে সে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। আর এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে প্রবল উৎকণ্ঠায় প্রহর গুনছে বাংলা। কারণ, বেড়াতে গিয়ে নেপালে আটকে পড়েছেন এই রাজ্যের বহু মানুষ । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নেপালে বাংলা থেকে নিখোঁজ 33 জন ৷ তাঁদের মধ্যে একজনের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে । বাকিদের খোঁজ পেতে কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছে রাজ্য ।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত সন্ধ্যায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার তাঁকে প্রথম এই বিপর্যয়ের খবরটি দেন । খবর পাওয়া মাত্রই মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন তিনি । মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "আমি নগরপালকে ধন্যবাদ জানাব, যিনি কালকে সন্ধ্যাবেলা প্রথম আমাকে এই সংবাদটি পাঠান । আমি সঙ্গে সঙ্গে চিফ সেক্রেটারি মহোদয়কে টেক আপ করতে বলি ।" এরপরই বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির তৎপরতায় নবান্ন এবং ভবানী ভবনে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের যৌথ উদ্যোগে কন্ট্রোল রুম চালু হয় । জানা গিয়েছে, রাত দশটা থেকেই এই কন্ট্রোল রুমগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে । চালু করা হয় হেল্পলাইন নম্বরও ।

suvendu adhikari
শুভেন্দু অধিকারী (ইটিভি ভারত)

প্রশাসন সূত্রে খবর, নিখোঁজদের যে তালিকা মিলেছে, তাঁদের মধ্যে পাঁচজন কলকাতা পুলিশ এলাকার এবং 27 জন রাজ্য পুলিশ এলাকার বাসিন্দা । মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাত জেগে আইপিএস পদমর্যাদার আধিকারিকরা নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন । স্থানীয় থানা এবং সিভিল প্রশাসনও প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে । রাত পৌনে একটায় মুখ্যমন্ত্রী নিজে নবান্ন ও ভবানী ভবনের কন্ট্রোল রুমের ভিডিয়ো ফুটেজ চেয়ে পাঠিয়ে পরিস্থিতির তদারকি করেছেন ।

উদ্ধারকাজে কেন্দ্রের ভূমিকার প্রশংসা শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর গলায় । তিনি জানান, দিল্লির প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে । নেপালে ভারতীয় দূতাবাসের চিফ সেক্রেটারির অফিস ও আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছে রাজ্য । মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "নেপাল আমাদের প্রতিবেশী এবং বন্ধু রাষ্ট্র । ভারত সরকার অত্যন্ত জোরকদমে তাদের সাহায্য করছে । মোদিজি ইতিমধ্যেই ভারত থেকে এনডিআরএফ বাহিনী সেখানে পাঠিয়েছেন । সেখানকার দূতাবাসও খুব সক্রিয় । তাই আলাদা করে আমাদের আর কিছু করার নেই । তবে আমরা নেপাল দূতাবাসের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রেখে সতর্ক রয়েছি ।"

যে একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁকে কি রাজ্যে ফেরানো হচ্ছে ? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর কাছে এখনও এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই । স্বরাষ্ট্রসচিব মেসেজ করে তাঁকে জানিয়েছেন যে, ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা গিয়েছে । গোটা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "রাত জেগে যেভাবে আমাদের আধিকারিক এবং পুলিশকর্মীরা সেবাদান করেছেন, আমরা আশা করব, ভগবানের কাছে প্রার্থনা করব যে, একজনকে যেমন সুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেছে, বাকি 32 জনকেও আমরা যাতে ফিরে পাই । এর বাইরে আমাদের এই মুহূর্তে করার কিছু নেই, তাই এটা নিয়ে আমরা খুব উদ্বেগের মধ্যে আছি ।"

জানা গিয়েছে, গত 21 অগস্ট বাংলা থেকে ওই পর্যটকের দলটি নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল । একটি বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে তাঁরা ওই সফরে গিয়েছিলেন। তাঁদের মূল গন্তব্য ছিল নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত এলাকা। বুধবারই তাঁদের ওই সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় চরম বিপর্যয়। মঙ্গলবার পর্যটকদের ওই দলটি যখন নেপাল সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছে, ঠিক তখনই পাহাড়ি নদী উপচে আচমকা আছড়ে পড়ে হড়পা বান। নিমেষে ভাসিয়ে নিয়ে যায় চারপাশ। ভ্রমণ সংস্থার আধিকারিক দিব্যজ্যোতি বসু জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত পর্যটকদের সঙ্গে তাঁদের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ছিল। কিন্তু হড়পা বান আসার পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে আর কোনওভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ায় উদ্বেগ কয়েক গুণ বেড়েছে।

নেপাল সরকার সূত্রে খবর, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে । জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বহু ঘরবাড়ি এবং পাহাড়ি রাস্তাঘাট। হড়পা বানের কারণে ধস নেমেছে একাধিক জায়গায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলিতে চরম ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে নেপাল প্রশাসন । আপাতত নিখোঁজ পর্যটকদের নিরাপদে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় বুক বেঁধে রয়েছে গোটা বাংলা।

চন্দননগর

নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে গিয়ে নিখোঁজ চন্দননগরের এক পর্যটক। নাম শিপ্রা রায় পাঠারী (61)। সিঙ্গুরে গোলাপ মোহিনী হাই স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।

উত্তরপাড়া

নেপালে গিয়ে নিখোঁজ উত্তরপাড়ার এক দম্পতি । নাম ক্ষিতিশ বিশ্বাস (61) ও মমতা বিশ্বাস (59)। টুরিস্ট সংস্থার কর্মী জয়ন্ত সান্যালেরও কোনও খোঁজ মিলছে না ৷

শিলিগুড়ি

শান্তিনগর বউবাজার এলাকার বাসিন্দা সমর মণ্ডলের। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর আর কোনও খোঁজ মিলছে না। মোবাইল ফোন সুইচড অফ, এজেন্সির সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ৷

ডায়মন্ডহারবার

সরিষার ভাণ্ডারী পাড়ার বাসিন্দা কেয়া প্রামাণিক। 21 অগস্ট সহকর্মীদের সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন 57 বছরের কেয়া।

দুর্গাপুর

21 অগস্ট একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে কৈলাস-মানসরোবরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (62) ও তাঁর স্ত্রী সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় (59)।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গাপুরের বামুনারার এক দম্পতি-সহ দুর্গাপুরের মোট ছয়জন পর্যটকের। বিপর্যয়ের পর থেকেই মৌসুমী গঙ্গোপাধ্যায় ও অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়দের সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে দাবি প্রতিবেশীদের।

বসিরহাট

বিপর্যয়ের পর থেকে নিখোঁজ উত্তর 24 পরগনার বসিরহাট পুরসভার 10 নম্বর ওয়ার্ডের প্রণবানন্দ সরণির (খান বাহাদুর রোড) বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডল।

তারকেশ্বর

মানসরোবরে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ তারকেশ্বরে বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্ত ৷ বুধবার সকাল সাড়ে আটটার পর থেকে তাঁকে আর ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। এমনটাই জানিয়েছেন পরিবার।

পুরুলিয়া

পুরুলিয়া শহরের কুকস কম্পাউন্ড এলাকার বাসিন্দা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও মৌসুমী গঙ্গোপাধ্যায় ৷ হড়পা বানের দুর্যোগের পর থেকে তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

Last Updated : August 27, 2026 at 4:36 PM IST