সুন্দরবনে ফের বিপর্যয় ! হিঙ্গলগঞ্জে কালিন্দীর বাঁধে 300 ফুটের ধস
স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ৷ বাঁধ মেরামত করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা ৷

Published : July 6, 2026 at 2:40 PM IST
হিঙ্গলগঞ্জ, 6 জুলাই: সুন্দরবনের মানুষের জীবন যেন প্রতিনিয়ত এক চরম অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘূর্ণায়মান । কথায় আছে, 'নদীর ধারে বাস, ভাবনা বারো মাস' - এই চিরাচরিত প্রবাদটিই আরও একবার নির্মমভাবে সত্যি হয়ে ধরা দিল উত্তর 24 পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের সুন্দরবন লাগোয়া সাহেবখালিতে । সেখানে কালিন্দী নদীর বাঁধে প্রায় 300 ফুটের এক বিশাল ধস নেমেছে । এই ঘটনার জেরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র এলাকায় ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিন্দী নদীর এই বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল ছিল । হঠাৎ করেই সেখানে 300 ফুট জুড়ে ধস নামায় সাহেবখালি এবং তার পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষজন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন । যেকোনও মুহূর্তে নদীর নোনা জল গ্রামে ঢুকে ঘরবাড়ি, চাষের জমি এবং পুকুর ভাসিয়ে দিতে পারে - এই আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়েছে গ্রামবাসীদের ।
এই চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকরা হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও দেবদাস গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, "আমরা খবরটা পেয়েছি । সেচ দফতরকে জানানো হয়েছে, তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে ।" তিনি আরও জানান যে, প্রশাসন পুরো বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে । এছাড়াও বিডিও বলেন, "এখনও পর্যন্ত আমি ঘটনাস্থলে যাইনি । সেচ দফতরের থেকে রিপোর্টটা নিই; যদি সেরকম প্রয়োজন হয়, তবে আমাদের যে টিম আছে-ডিজাস্টার টিম, তারা যাবে ।"

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও, এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্কের আবহ স্পষ্ট । স্থানীয় বাসিন্দা জগদীশ বৈরাগী তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, "এই আয়লা, আমফানের পর সেই আতঙ্ক এখনও কাটেনি । আমাদের সুন্দরবন এলাকায় কালিন্দী নদীর অনেক বাঁধ ফেটে গিয়েছে, বসে গিয়েছে ।" তিনি আরও বলেন, "মাটির বাঁধ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তাই বারবার এই দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, কংক্রিট বাঁধ যাতে হয় ।"

জগদীশের মতো সুন্দরবনের সমস্ত মানুষেরই এখন একটাই দাবি, নদীগর্ভে যাতে আর কারও মাথার গোঁজার ঠাঁই তলিয়ে না-যায়, তার জন্য অবিলম্বে এলাকায় একটি শক্তপোক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ করুক প্রশাসন । এখন দেখার প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয় ৷

