ETV Bharat / state

যৌনকর্মীকে 20 হাজার অনুদান, 30 বছরের পুরনো মামলা শুনবে হাইকোর্ট

2000 সালের 25 অগস্ট, কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অশোক কুমার মাথুর ও বিচারপতি বারিন ঘোষ যৌনকর্মীকে আর্থিক অনুদান দিতে নির্দেশ দেন ৷

Calcutta High Court
হাইকোর্টে 30 বছর আগের মামলা (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 2, 2026 at 6:46 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 2 মার্চ: তিন দশক আগে কালীঘাট অঞ্চলের এক যৌনকর্মীকে 20 হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দিতে নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ সেই টাকা এখনও পাননি যৌনকর্মী । পুলিশ তাঁকে খুঁজেই পায়নি ! সেই টাকা গচ্ছিত রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে ৷ এবার এই সংক্রান্ত মামলা শুনবে কলকাতা হাইকোর্ট ৷ প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে আগামী সোমবার মামলাটির শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে ৷

বিভিন্ন মামলায় 'আদালত বান্ধব' হিসেবে দীর্ঘদিন কলকাতা হাইকোর্টে কর্মরত আইনজীবী তাপস কুমার ভঞ্জ ৷ বিষয়টি জানার পর কিছুদিন আগে তিনি চিঠি দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকে ৷ পাশাপাশি সোমবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি জানান, ওই মহিলা এখনও জীবিত । তারপরই মামলা আগামী সোমবার শুনানির আশ্বাস দেন প্রধান বিচারপতি ৷ 2000 সালের 25 অগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অশোক কুমার মাথুর ও বিচারপতি বারিন ঘোষ যৌনকর্মীকে আর্থিক অনুদান দিতে নির্দেশ দিলেও পুলিশ তাঁকে খুঁজে পায়নি ৷

সালটা ছিল 1995 । কালীঘাটের এই যৌনকর্মীর সঙ্গে স্থানীয় থানার এক পুলিশকর্মী যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চান ৷ পুলিশ কর্মীকে বাধা দেন যৌনকর্মীর দেহরক্ষী ৷ অভিযোগ, ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ আধিকারিক পরে ওই দেহরক্ষীকে থানায় নিয়ে এসে মারধর করেন ৷ পরে দেহরক্ষীর মৃত্যু হয় । সেই সময় এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ পরে 1996 সালে এই ঘটনায় হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় ৷

হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি এসবি সিনহা ঘটনার তদন্তভার দেন আলিপুর জেলা বিচারককে ৷ তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ে হাইকোর্টে ৷ 2000 সালের 25 অগস্ট, তৎকালীন বিচারপতি অশোক কুমার মাথুর ও বিচারপতি বারিন ঘোষ নির্দেশ দেন মৃত দেহরক্ষীর পরিবার ও যৌনকর্মীকে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের বেতনের অর্থ কেটে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে ৷ মৃতের পরিবারকে 40 হাজার আর যৌনকর্মীকে 20 হাজার টাকা দিতে নির্দেশ দেয় আদালত ৷ রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে বলা হয় সেই অর্থ । ওই অর্থই মৃত দেহরক্ষীর পরিবার ও যৌনকর্মীকে অনুদান হিসেবে দেওয়ার কথা ছিল ৷

পরবর্তীকালে পুলিশ তদন্ত করে ওই যৌনকর্মীর খোঁজ পায়নি । তাই ওই অনুদানের অর্থ কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা রয়েছে ৷ বর্তমানে জানা যায় ওই যৌনকর্মী মেদিনীপুরের কোনও একটি জায়গায় বসবাস করেন ৷ তাঁর নতুন সংসার হয়েছে ৷ তাঁকে অনুদানের বকেয়া অর্থ ফিরিয়ে দিতেই আইনজীবী তাপস কুমার ভঞ্জ কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ৷ এবার সেই মামলার শুনানি হবে ৷