ETV Bharat / state

স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া, টানা-হ্যাঁচড়ায় প্রাণ গেল তিন মাসের শিশুর

বাবা, মায়ের অশান্তি ৷ মিটমাটের মাঝেই শুরু হয় টানা-হ্যাঁচড়া ৷ মায়ের কোল থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় তিন মাসের একরত্তির !

NEW BORN DIED IN DASPUR
প্রতীকী ছবি (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 30, 2025 at 1:56 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

দাসপুর, 30 নভেম্বর: স্বামী ও স্ত্রীর ঝামেলায় প্রাণ গেল তিন মাসের শিশুর ৷ শনিবার যার জেরে চাঞ্চল্য ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের অন্তর্গত গোপীগঞ্জ সুলতাননগর সড়কের সয়লা জোড়ামন্দির এলাকায়। স্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর স্বামী ঘটনার বেশ কয়েকদিন আগে তাঁকে ও একরত্তি পুত্র সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। শীতের মধ্যে বাইরেই রাত কাটছিল তাঁদের ৷ এরপর মীমাংসার জন্য দু'জনের দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা ৷

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই দম্পতির বাড়ি হাওড়া জেলার ভাটোরা এলাকায়। কর্মসূত্রে স্বামী রাজু দাস, স্ত্রী সালমা খাতুন ও তাঁদের শিশু সন্তানকে নিয়ে দাসপুরের জোড়ামন্দির এলাকায় ভাড়া বাড়িতে উঠেছিলেন ৷ গত কয়েকদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। গৃহবধূ সালমার অভিযোগ, রাজু তাঁকে দিন কয়েক আগে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর ঝামেলা মিটিয়ে নিতে শনিবার সন্ধ্যায় স্ত্রীকে সয়লা এলাকায় দেখা করতে ডাকেন রাজু। সালমা টোটো করে সেখানে পৌঁছলে রাস্তার মধ্যেই দু'জনের মধ্যে ফের ঝগড়া শুরু হয়।

স্বামী ও স্ত্রীর ঝামেলায় প্রাণ গেল তিন মাসের শিশুর (ইটিভি ভারত)

তর্কাতর্কির মাঝে টানা হ্যাঁচড়ার ফলে সালমার কোলে থাকা তিন মাসের শিশু সান্নি দাস মাটিতে পড়ে গিয়ে তার গায়ে আঘাত লাগে। এরপরই সান্নিকে দ্রুত সোনাখালি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু সন্তানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দাসপুর থানার পুলিশ ৷ রাজু দাসকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে শিশুর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় পুলিশের তরফে। স্বামী, স্ত্রীর বিবাদের জেরে নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হতবাক স্থানীয় মানুষজন। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ঘটনার তদন্ত শেষ না-হলে কিছুই বলা যাবে না।

এ বিষয়ে সালমা খাতুন বলেন, "গত কয়েকদিন ধরেই আমাদের মধ্যে অশান্তি চলছিল। আমাকে ও ছেলেকে স্বামী বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমি এই শীতের মধ্যে বাচ্চাটাকে নিয়ে দু-একদিন বাইরে রাত কাটিয়েছি ৷ এরপর এলাকার পরিচিত, সম্পর্কে বোন হয় ও আমাদের বাড়িতে গিয়ে রাখে। আমি রাজু দাসের নিজের বাড়ি অর্থাৎ শ্বশুরবাড়ি (হাওড়া)-তে থাকার আবেদন করেছিলাম ৷ কিন্তু, ও সেই কথা শোনেনি ৷ এরপর বোনের মারফত রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করি ৷ রাজুও ঝামেলা মিটিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ৷

সালমা আরও বলেন, "কিন্তু ও যে আমাকে বা বাচ্চাটাকে মারার প্ল্যান করেছে তা বুঝতে পারিনি। সয়লা এলাকায় টোটো পৌঁছতেই আমাদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। ও আমার কোলে থাকা সান্নিকে টান মেরে নীচে ফেলে দেয় ৷ একটু পরই দেখি বাচ্চাটার নাক দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে ৷ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ওকে মৃত বলে জানান ৷ স্বামীর জন্য আমি ছেলেটাকে হারালাম ৷ ওর শাস্তি হওয়া উচিত ৷"