ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত বিরাটি স্টেশন লাগোয়া বাজারের 200 দোকান, পাশে থাকার আশ্বাস চন্দ্রিমার
সোমবার রাতে আগুনে পুড়ে যায় পুরো বাজার৷ মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য৷

Published : December 30, 2025 at 9:36 PM IST
বিরাটি (উত্তর 24 পরগনা), 30 ডিসেম্বর: গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ভস্মীভূত বিরাটি স্টেশন লাগোয়া যদুবাবুর বাজার। পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে প্রায় সমস্ত দোকানই। সূত্রের খবর, প্রায় 200-র কাছাকাছি দোকান পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় দমকল বাহিনীকে। শেষে বিরাটি ফ্লাইওভারের উপর দমকলের বড় গাড়ি দাঁড় করিয়ে ছোট গাড়িতে জল ভরে রিল সিস্টেম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে, মঙ্গলবার সকালেও কিছু কিছু জায়গা থেকে ধিকিধিকি ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
দমকল কর্তৃপক্ষ এই নিয়ে কোনও আশঙ্কা নেই বলে দাবি করেছে। তাদের আরও দাবি, পকেট ফায়ারের উৎস খুঁজে তা দ্রুতই আয়ত্তে আনা সম্ভব হবে। এদিকে, উৎসবের মরশুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রোজগারের সর্বস্ব হারিয়ে মাথায় হাত পড়েছে ব্যবসায়ীদের। কীভাবে আগুন লাগল, তারও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একাংশ। আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও, দমকল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা হবে।ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দমকল এবং পুলিশ।

উত্তর দমদম পুরসভার 13 নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এই বাজারটি বহু পুরনো। এর আগে 2001 সালেও এই বাজারে আগুন লেগেছিল। তখন ক্ষতিগ্রস্ত বাজারের দোকানগুলোকে নতুন করে আবার মেরামত করা হয়েছিল। স্থানীয় পুরসভার তত্ত্বাবধানেই চলত এই বাজারটি। সেখানে মুদির দোকান ছাড়াও একাধিক সবজি ও কামারের দোকান ছিল। সেই দোকানের উপরই নির্ভরশীল ছিলেন প্রায় দু'শো ছোটখাটো ব্যবসায়ী। সেই বাজারেই ফের আগুন লাগল সোমবার গভীর রাতে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, সোমবার রাত দেড়টা নাগাদ প্রথমে আগুন লাগে বাজারের একাংশে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। পরে, সেই আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বাজারের অন্যত্র। সবার প্রথমে আগুন ও কালো ধোঁয়া দেখতে পান এলাকার নিরাপত্তারক্ষীরা। তার পর খবর পেয়ে ছুটে আসেন স্থানীয়রাও। একত্রে তাঁরা বাজারের সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু, আগুনের বিভীষিকার কাছে হার মানতে হয় তাঁদের। আগুন নেভাতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষে খবর দেওয়া হয় দমকলে। খবর পেয়ে বিরাটি ও তার পাশ্ববর্তী কেন্দ্র থেকে দমকলের ছ'টি ইঞ্জিন পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। দীর্ঘ কয়েকঘণ্টার প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার ভোরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সমর্থ হয় দমকল বাহিনী।

এদিকে, ঘটনার কথা জানার পর থেকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অনেকেই। সবকিছু হারিয়ে অনেকের চোখে আবার জল। তাঁদেরই একজন নূপুর চক্রবর্তী। তিনি বলেন, "খবর পেয়ে যখন এখানে আসি, তখন সব কিছু শেষ হয়ে গিয়েছে। কিছু অবশিষ্ট নেই। আগুনের গ্রাসে আমার নিজের ইলেকট্রিকের দোকানও পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। কীভাবে এখন সংসার চলবে, সেটাই ভেবে পাচ্ছি না।"

অন্যদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস, স্থানীয় কাউন্সিলর প্রশান্ত দাস-সহ অন্যান্য পুরকর্মীরা। পুরসভার চেয়ারম্যান এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দ্রুত পুনর্বাসনেরও ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসেন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, "যেখানে আগুন লেগেছে, সেখানে সবমিলিয়ে 200টির মতো দোকান ছিল। অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি তো হয়েছেই। সেই সঙ্গে বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষেরও সমস্যার মুখে পড়তে হবে। এলাকার মধ্যেই দমকল কেন্দ্র থাকায় দ্রুত দমকল বাহিনী চলে আসায় বড় অঘটন থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। হতাহতের ঘটনা থেকেও রেহাই মিলেছে। না হলে বড় কোনও অঘটনও ঘটতে পারত। পুরসভা ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের পাশে রয়েছে।তাঁদের যাতে পুনর্বাসন দেওয়া যায়, তা নিয়ে পদক্ষেপ করা হবে।"

তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে উত্তর দমদম পুরসভা বামেদের দখলে ছিল। তার পরেও অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে যদুবাবুর বাজার। পরিকল্পিতভাবে যাতে পুনরায় বাজারটি গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে উদ্যোগ নেবে পুরসভা। এই নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়। স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে আমি নিজেও পাশে থাকব ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের, যাতে তাঁরা আবার সুষ্ঠুভাবে জীবন যাপন করতে পারেন।"

অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে এদিনই ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহের কথা রয়েছে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের।

