ETV Bharat / state

বর্ধমানে আদিবাসী মহিলাকে গণধর্ষণ করে খুন, গ্রেফতার 2; ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিম

আদিবাসী মহিলার পরিবারের তরফে আগেই ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল ৷ ইতিমধ্যেই পুলিশ গণধর্ষণ, খুন এবং প্রমাণ লোপাট-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশকিছু ধারায় মামলা রুজু করেছে ৷

DEWANDIGHI GANG RAPE AND MURDER
প্রতীকী ছবি (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 9, 2026 at 11:11 AM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

দেওয়ানদিঘি (পূর্ব বর্ধমান), 9 জুলাই: আদিবাসী মহিলাকে গণধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘিতে। সোমবার বিকেলে তিনি স্বামীকে খোঁজ করতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন৷ অভিযোগ, তার পর আর ফেরেননি ওই মহিলা। গতকাল ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ৷ পুলিশ ইতিমধ্যেই গণধর্ষণ, খুন এবং প্রমাণ লোপাট-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশকিছু ধারায় মামলা রুজু করেছে ৷ পাশাপাশি, দু'জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে ৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হল আজিজুল শেখ এবং ভদাই শেখ। ইতিমধ্যেই একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে ৷ দেওয়ানদিঘি থানায় কেস নম্বর 142/2026-07.07.2026 তারিখে 103(1)/238/70(1) অর্থাৎ গণধর্ষণ, খুন এবং প্রমাণ লোপাট-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশকিছু ধারায় মামলা রুজু হয়েছে ৷ বুধবার তাঁদের বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হলে আদালত তদন্তের স্বার্থে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

DEWANDIGHI GANG RAPE AND MURDER
ধৃত আজিজুল শেখ এবং ভদাই শেখ (ইটিভি ভারত)

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেনসিক পরীক্ষার ফল এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই মৃত্যুর কারণ ও অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হবে। তদন্ত এখনও চলছে ৷ এদিকে, গতকাল সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন। উদ্ধার হওয়া আলামত পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেও নজর রয়েছে তদন্তকারীদের।

মৃতের পরিবার গত পরশু অর্থাৎ মঙ্গলবারই অভিযোগ করেছিল, তাঁকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, মৃতদেহের গলা-সহ শরীরের একাধিক অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মৃতের স্বামীর মতে, "ঘটনার আগের দিন বিকেলে আমি, আমার বউ এবং আজিজুল একসঙ্গে মদ্যপান করেছিলাম। পরে আমি কোনও একসময় বাড়ির বাইরে চলে যাই। ঘুম ভেঙে আমাকে দেখতে না-পেয়ে স্ত্রী খোঁজ করতে বেরিয়ে যান ৷ আর ফিরে আসেননি ৷ রাতভর খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি জমির ধারে ওর দেহ উদ্ধার হয়।"

অন্যদিকে, নির্যাতিতার ভাই আজিজুলের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হোক এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক ৷

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকালে জমি সংলগ্ন এলাকা থেকে ওই আদিবাসী মহিলার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।