তৈরি হবে পাম্পিং স্টেশন, সুভাষ উদ্যানের 10টি গাছ স্থানান্তর করল কেএমসি
সুভাষ উদ্যান থেকে তুলে গাছগুলি আশেপাশের রাস্তায় বসানো হয়েছে উদ্ভিদ বিশারদদের তত্ত্বাবধানে ৷ পাম্পিং স্টেশনের জন্য বরাদ্দ 45 কোটি টাকা ৷

Published : December 7, 2025 at 3:10 PM IST
কলকাতা, 7 ডিসেম্বর: বাইপাসের ধারে পরিশ্রুত পানীয় জলের ওভারহেড ও ভূগর্ভস্থ জলাধার হবে বলে একাধিক গাছ কেটে সাফ করার অভিযোগ উঠেছিল ৷ কলকাতা পুরনিগমের সেই কাজে তুমুল হইচই বেঁধেছিল সেই বৃক্ষ নিধন নিয়ে ৷ তবে, ভবানীপুর এলাকার নিকাশি পাম্পিং স্টেশন তৈরির ক্ষেত্রে নজির গড়ল সেই পুরনিগম কর্তৃপক্ষ ৷ গাছ কেটে ফেলা নয়, বরং গাছ তুলে এনে অন্যত্র প্রতিস্থাপিত করা হল ৷
জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার 70 নম্বর ওয়ার্ডে নর্দার্ন পার্কের অন্তর্গত সুভাষ উদ্যান ৷ এটি শিশু ও মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৷ সেখানেই তৈরি হবে নিকাশি জল নিষ্কাশনের জন্য পাম্পিং স্টেশন ৷ বরাদ্দ হয়েছে প্রায় 45 কোটি টাকা ৷ এই পাম্পিং স্টেশনের কাজ শেষ হলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা এলাকায় বর্ষাকালে জমা জলের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে ৷
কিন্তু, এই কাজে অন্তরায় হয় 10টি ছোট-বড় গাছ ৷ কোনওটির বয়স 50-এর বেশি, তো কোনওটি 30 বছর বা তারও কম ৷ তবে, এবার আর গাছ কাটা নয় ৷ বরং উদ্ভিদপ্রেমী ও বিশারদদের তত্ত্বাবধানে কেএমসি-র খরচে মূল শিকড়-সহ 10টি গাছ সুভাষ উদ্যান থেকে সরিয়ে লাগানো হয়েছে আশপাশের বিভিন্ন রাস্তায় ৷ তবে, গাছগুলি এই মুহূর্তে স্থান পরিবর্তনের জেরে খানিক ঝিমিয়ে থাকলেও, প্রাণ সংশয় নেই বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা ৷ এগুলির মধ্যে আছে, কদম, জামরুল, আম, পেয়ারা, বাদাম-সহ অন্যান্য গাছ ৷ এই গাছগুলি প্রতিস্থাপন করেন গাছ প্রেমী ও প্রতিস্থাপন বিশারদ সঞ্জয় জয় সিং ৷
কলকাতা পুরনিগম সূত্রে খবর, আরও 20টিরও বেশি সুপারি গাছ ধাপে-ধাপে সরিয়ে ফেলা হবে ৷ সঞ্জয় জয় সিং বলেন, "নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন সময় শহরে ক্ষতিগ্রস্ত গাছের সেবা করা, উপড়ে যাওয়া গাছ প্রতিস্থাপনের কাজ করে থাকি আমরা ৷ তবে, এইবার বরাত মিলেছিল কলকাতা পুরনিগমের তরফে ৷ 10টি গাছ আমরা আশপাশে প্রতিস্থাপন করেছি সম্প্রতি ৷ গাছগুলি প্রথমে ট্রিম করতে হয় ৷ তারপর মাটি খুঁড়ে গোড়া আলগা করে সেগুলি ট্রেলারের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ লি রোড, এলগিন রোড, জাস্টিস চন্দ্র মাধব রোড, জাস্টিস দ্বারকানাথ রোড-সহ বেশ কিছু এলাকায় গাছগুলি পুনর্স্থাপন করেছি ৷"
গাছগুলির পরিচর্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, "পুনর্স্থাপনের পর কলকাতা পুরনিগমের তরফে নিয়মিত জল দেওয়া হচ্ছে ৷ আমরা সার, ওষুধ সব দিচ্ছি ৷ যেহেতু কিছুদিন আগেই হয়েছে, তাই এখন একটু ঝিমিয়ে আছে গাছগুলি ৷ তবে, ঋতু পরিবর্তন হলে ধীরে ধীরে পুরনো রূপ পাবে ৷ সামনে বর্ষা থাকলে সেই পরিবর্তন অপেক্ষাকৃত দ্রুত লক্ষ্য করা যেত ৷" উল্লেখ্য, গাছ না-কেটে এইভাবে অন্যত্র প্রতিস্থাপন করায় খুশি স্থানীয়রা এবং গাছ ও পরিবেশপ্রেমী মানুষজন ৷

