সদ্য প্রয়াত দাদুকে খেতাব উৎসর্গ নিহালের, নয়া প্রজন্মের দাবায় আরও খেলতে চান আনন্দ
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দোম্মারাজু গুকেশের বদলে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল সারিনকে ৷ গতকাল বিশ্বনাথন আনন্দের বিরুদ্ধে শান্ত ড্র করে শিরোপা জিতলেন কেরলের গ্র্যান্ডমাস্টার নিহাল সারিন ৷

Published : January 10, 2026 at 1:00 PM IST
কলকাতা, 10 জানুয়ারি: বিশ্বনাথন আনন্দ ড্র-এর প্রস্তাব দিতেই টাটা স্টিল চেস ইন্ডিয়া ব়্যাপিড টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ঠিক হয়ে যায়। শুক্রবার রাতে শিরোপা জিতলেন ভারতের নিহাল সারিন। কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে নবম ও শেষ রাউন্ডে বিশ্বনাথন আনন্দের বিরুদ্ধে শান্ত ড্র করে ওপেন বিভাগের শিরোপা নিশ্চিত করেন নিহাল। এই ফলের ফলে প্রথম স্থানেই শেষ করেন তিনি। অভিজ্ঞ আনন্দ দ্বিতীয় এবং অর্জুন এরিগাইসি তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।
টুর্নামেন্ট জয়ের পর আবেগপ্রবণ নিহাল। তাঁর এই খেতাব জয়ের পিছনে যে বিয়োগান্তক ঘটনা লুকিয়ে তা নিহাল সাংবাদিক সম্মেলনে এসে না-বললে প্রকাশ হত না। সাংবাদিক সম্মেলনের প্রথম প্রশ্নেই নিহাল জানান, তিনি এই সাফল্য উৎসর্গ করছেন তাঁর মাতামহ (মায়ের বাবা)-কে, যিনি তাঁকে দাবা শেখান। দুঃখজনকভাবে, তাঁর মাতামহের মৃত্যু হয়েছে বৃহস্পতিবার। টুর্নামেন্টের শেষ ধাপের লড়াইয়ের আগে দাদুর মৃত্যুর খবর পেয়ে ভেঙে পড়েছিলেন। পরক্ষণেই সামলে নিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মনে হয়েছিল দাদু বেঁচে থাকলে এই উপদেশই দিতেন। তাই এই জয়কে তিনি প্রয়াত দাদুকে উৎসর্গ করছেন।
টাটা স্টিল চেস টুর্নামেন্টে প্রথমে আমন্ত্রন পাননি। গুকেশ পারিবারিক কারণে সরে দাঁড়াতেই নিহালকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সুপার সাব হিসেবে খেলতে এসে চ্যাম্পিয়নের শিরোপা। আনন্দের মতো কিংবদন্তির সঙ্গে খেলার সময় বাড়তি চাপে ছিলেন না। যেহেতু আধা পয়েন্ট এগিয়েছিলেন তাই জয় পেতে তাড়াহুড়ো করেননি। কারণ জানতেন, ছোট ভুলে জয়ের কড়ি হাতছাড়া হতে পারে। তাই অন্য সব ম্যাচের মতোই স্বাভাবিক নিশ্চিন্ত মনে খেলতে নেমেছিলেন নিহাল। ফের কলকাতায় এসে জয়ী।

এখানকার দাবাপ্রেমীদের সমর্থন এবং সমাজদারীর প্রশংসা তাঁর মুখে। এবার ব্লিৎজে নামবেন। প্রত্যাশার চাপ নয়, স্বাভাবিক খেলা খেলে সফল হতে চান। 6 বছর পরে টাটা স্টিল চেস ইন্ডিয়া টুর্নামেন্টে খেলতে এসে দ্বিতীয়। একঝাঁক নতুন প্রজন্মের দাবাড়ুদের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছেন। 56 বছর বয়সেও তিনি যে পাল্লা দিতে পারেন তা বুঝিয়ে দিলেন। জেরুজালেম ওপেনের পরে কলকাতায় খেলতে এসেছেন। 2018-র পর 2025। মাঝের সময়ে টুর্নামেন্টের গ্লোবাল অ্যাম্বাসাডার।

গতবছর ঠিক করেছিলেন 2027 সালে অংশ নেবেন। আয়োজকদের প্রস্তাবে মন বদলান। তবে কলকাতায় খেলার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেননি। 56 বছর বয়সেও একই রকম পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা যে ধরেন তা প্রমাণ করলেন আনন্দ। শারীরিক ভাবে ফিট আনন্দ ঠিক করেছেন নতুন বছরে আরও ক'য়েকটি টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন। তবে সাবেক দাবার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের দাবার বদল হয়েছে। সাবেক দাবাড়ুদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে ৷
বিষয়টি আংশিক মেনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বলছেন, নতুন ধারার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মধ্যেই খেলাটির অগ্রগমন। তাই দাবাড়ুকেও নতুন ধারার সঙ্গে মানিয়ে এগোতে হচ্ছে। তিনি এবং তাঁর মতো অনেকেই নতুন ধারার দাবায় মানিয়ে নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে তৈরি হচ্ছেন।

