আগামীতে ভারতীয় মহিলা দলের অধিনায়ক হবে, রিচার ক্রিকেট জার্নি তুলে ধরলেন ছোটবেলার কোচ
ছোটবেলার কোচ ফাঁস করলেন, ছেলেদের সঙ্গে খেলেই এতোটা পারদর্শী হয়েছেন রিচা ৷ আগে থেকে উইকেট কিপার ছিলেন না তিনি ৷

Published : November 3, 2025 at 6:26 PM IST
শিলিগুড়ি, 3 নভেম্বর: আগামিদিনে ভারতীয় মহিলা দলের অধিনায়ক হবেন রিচা ঘোষ ৷ ইটিভি ভারতের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই আশা প্রকাশ করলেন তাঁর ছোটবেলার কোচ তপন ভাওয়াল ৷
এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতীয় কন্যারা ৷ প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছেন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল ৷ রবিবার মুম্বইয়ে বাজিমাত করেছে হরমনপ্রীত কৌরের দল । আর সেই মহিলা ব্রিগেডের এক অনবদ্য খেলোয়াড় 22 বছরের রিচা ঘোষ । বঙ্গতনয়ার 24 বলে 34 রানের ইনিংস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ভারতের জয়ে ৷ প্রথমে ব্যাটে, পরে উইকেট কিপার হিসাবে গ্লাভসে দলকে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন শিলিগুড়ির এই মেয়ে ।
রিচার দূর্দান্ত পারফরম্যান্সে এখনও মুখর গোটা দেশ । দলের পাওয়ার হিটার হিসেবে পরিচিত রিচা ঘোষ । আর সেই রিচাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে শিলিগুড়ি কিংবা উত্তরবঙ্গ নয়, বরং গোটা রাজ্যের উঠতি খেলোয়াড়রা । তবে রিচার ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়ার যাত্রাটা মোটেও সহজ ছিল না ।

শহরে মেয়েদের নিয়ে আলাদা ক্রিকেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা ক্যাম্প না-থাকায় ছেলেদের সঙ্গে খেলেই বড় হয়েছেন রিচা । শুধু তাই নয়, প্রথম থেকে রিচা উইকেট কিপার ছিলেনই না । খেলার শুরুর প্রথম দিকে অর্থাৎ জেলা বা ডিস্ট্রিক্ট লেভেল পর্যন্ত ব্যাটের পাশাপাশি বল করতেন তিনি । উইকেট কিপার অনেক পরে হয়েছেন বলে জানালেন কোচ তপন ভাওয়াল ।

তিনি জানান, রিচা ঘোষ আট বছর বয়স থেকে বাবা মানবেন্দ্র ঘোষের হাত ধরে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন । বাবাও ভালো ক্রিকেট খেলোয়াড় ছিলেন । শিলিগুড়ি কলেজ মাঠে বাঘাযতীন ক্রিকেট অ্য়াকাডেমিতে ছেলেদের সঙ্গেই কোচিং নিতে শুরু করেন রিচা । তখনও সেভাবে উত্তরে মহিলা ক্রিকেটের প্রচলন শুরু হয়নি । তবে জেদ হারায়নি রিচা ও তাঁর পরিবার ।

মেয়ের মধ্যে ট্যালেন্ট রয়েছে, সেটা জানতে খুব দেরি হয়নি বাবা মানবেন্দ্রর । মেয়ের খেলার দিকে বিশেষ নজর দেন তিনি । ধীরে ধীরে জেলার দলে জায়গা করে নেন রিচা । ব্যাট হাতে মাঠে নামলেই রানের ঝড় তুলতেন তিনি । খুব তাড়াতাড়ি বাংলার সিলেক্টরদের চোখে পড়ে যান রিচা । তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে । বাংলা খেলতে খেলতেই অনূর্ধ্ব-16 ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল, তারপর অনূর্ধ্ব-19 দলেও জায়গা পাকা করেন রিচা । উইমেন প্রিমিয়ার লিগেও রিচার কদর বাড়ে । দেখতে দেখতে রিচা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের এক অনবদ্য খেলোয়াড় হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করে নেন ।

তাঁর কোচ তপন ভাওয়াল বলেন, "ছোটবেলা থেকেই ব্যাট হাতে অনবদ্য ছিল রিচা । প্রত্যেক খেলায় স্কোর করত । আমার মনে হয় ছেলেদের সঙ্গে খেলেই ও আরও বেশি পারদর্শী হয়েছে । রিচা খালি একটা কথাই বলত মাইনডসেট । সেটাই সব থেকে বেশি প্রয়োজন । আমাকে বলত স্যার জুনিয়রদের সুযোগ দিন ।"

তিনি আরও বলেন, "খুব শান্ত ধীর স্থির প্রকৃতির মেয়ে রিচা । ছেলেদের সঙ্গে সাবলীলভাবে খেলত । কিন্তু আগে ও উইকেট কিপার ছিল না । আমি নিজে ওকে দিয়ে জেলাস্তরের খেলায় বল করিয়েছি । ও পরে উইকেট কিপিং শুরু করে । কিন্তু ও এতোটাই পটু ছিল যে খুব দ্রুত সেটাকে রপ্ত করে ফেলে । এখন রিচাকে দেখে আরও অনেক বেশি মেয়েরা ক্রিকেট খেলায় উঠে আসবে । আমরা সত্যি ওকে নিয়ে খুব গর্বিত ।"

একসময় রিচাকে খুব সামনে থেকে দেখেছে শিলিগুড়ির ক্রিকেটার শিঞ্জিনি সরকার ৷ তিনি বলেন, "দিদি দারুণ খেলেছে । আমরা দিদিকে নিয়ে খুব গর্বিত । আমাদেরও আশা আমরা দিদির মতো দেশের হয়ে খেলব ।"

শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদের ক্রিকেট সচিব ভাস্কর দত্ত মজুমদার বলেন, "আমরা আমাদের খুশি ভাষায় বোঝাতে পারব না । রিচা শিলিগুড়ির নাম গোটা দেশে উজ্জ্বল করেছে । যেভাবে প্রতিটা ইনিংস খেলেছে তা অনবদ্য ।"

